ইসলামে মাসিকের কতদিন পর সহবাস করা যায় বিস্তারিত জানুন

মেয়েদের প্রতি মাসে স্বাভাবিকভাবে একবার পিরিয়ড হয়ে থাকে। সেই সময় মেয়েদের কাছে কিছু প্রশ্ন থাকে  যেমন- মাসিকের কত দিন পর সহবাস করা যায়? আবার মেয়েটি যদি মুসলমান হয় তাহলে আরো প্রশ্ন থাকে যেমন- মাসিকের কত দিন পর নামাজ পড়া যায়? আবার মাসিকের কত দিন পর কোরআন পড়া যায়? ইত্যাদি নানান ধরনের প্রশ্ন?

ইসলামে মাসিকের কতদিন পর সহবাস করা যায়

আমার এই পোস্টটি শেষ পর্যন্ত পড়লে আরো জানতে পারবেন মেয়েদের মাসিক হলে কি রোজা করা যাবে এবং মাসিক হলে কি বাচ্চা হওয়ার সম্ভাবনা থাকে তা নিয়ে বিস্তারিত। তাই শেষ পর্যন্ত পড়ার জন্য অনুরোধ রইলো।

ইসলামে মাসিকের কতদিন পর সহবাস করা যায়

মেয়েদের স্বাভাবিক বয়স হওয়ার পর থেকে তাদের সু-স্বাস্থ্যর জন্য মাসিক অনেক গুরুত্বপূর্ণ। তবে বিবাহের পরে এই মাসিক হওয়ার কারণে স্বামী স্ত্রীর ভেতরে একটি বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়। তাই আমি আজকে আপনাদের জানাবো ইসলামে মাসিকের কতদিন পর সহবাস করা যায় এই নিয়ে বিস্তারিত। মহান আল্লাহ তায়ালা নির্দেশ দিয়েছেন মেয়েদের মাসিক শুরু হওয়া থেকে মাসিক শেষ না হওয়া পর্যন্ত সহবাস করা হারাম করেছেন।

স্ত্রীর মাসিক হওয়ার পর স্বামী তার স্ত্রীর নাভি থেকে হাটু পর্যন্ত স্পর্শ করে লজ্জাত হাসিল করতে পারবে না। মাসিক অবস্থায় স্বামী স্ত্রী তাদের শারিরীক চাহিদা মেটাতে পারবে না। তবে তারা চুম্বন করতে পারবে। মাসিক এর সময় স্ত্রীর সহবাসের জন্য অনুরোধ বা রাজি থাকলে সে সময় স্বামীকে তার স্ত্রীকে বোঝাইতে হবে। কেননা মাসিক এর সময় সহবাস করা আল্লাহ তায়ালা হারাম করেছেন এবং এই সময় সহবাস করলে শারিরীক ভাবে অনেকটা ক্ষতি হয়।

তাই মাসিক এর সময় স্ত্রীর চাহিদা মেটানোর জন্য যদি তারা সহবাস করে তাহলে তাদের দুজনেরই গুনাহ হবে। সাধারণ মেয়েদের মাসিক ৭ থেকে ১০ দিনের ভেতরে ঠিক হয়ে যায়। ত মাসিক ঠিক হওয়ার পরে স্ত্রী গোশল করার পর থেকে তারা সহবাস করতে পারবে। তার মানে মাসিক শেষ না হওয়া পর্যন্ত তারা কোনো সহবাস করতে পারবেনা। মাসিক ঠিক হওয়ার পর গোশল দিলে তিনি পবিত্র হবেন তখন থেকে আবার সহবাস করতে পারবেন। আশা করি বুঝতে পেরেছেন ইসলামে মাসিকের কতদিন পর সহবাস করা যায়.

সহবাসের পর মাসিক না হলে করণীয়

সাধারণ ত মেয়েদের নিদিষ্ট একটি তারিখে প্রতিমাসে মাসিক শুরু হয়। মাঝে মাঝে ২-৩ দিন আগে পরে হতে পারে। তবে যদি ৭ দিনের বেশি দেরি হয়ে যায় মাসিক না হওয়া। তাহলে তাদেরকে ডাক্তার এর পরামর্শ নিতে হবে। তবে সহবাসে পর আপনার পেটে সন্তান আসলে মাসিক বন্ধ হয়ে যাবে। এই জন্য আপনি যদি বিবাহিত হন তাহলে সহবাসের পর যে মাসে আপনার মাসিক বন্ধ হয়ে গেছে। সে মাসে মাসিকের তারিখ থেকে ১০ দিন পর আপনি প্রেগন্যান্টসি টেস্ট করে নিবেন।

আপনার মাসিক যদি অনিয়মিত ভাবে হয় তাহলে আপনি প্রেগন্যান্টসি টেস্ট করে নিতে পারেন। আশা করি বুঝতে পেরেছেন সহবাসের পর মাসিক না হলে করণীয় কি। মাসিক বন্ধ হলেই যে আপনি প্রেগন্যান্ট বিষয়টি এমন নয়। মাঝে মাঝে মাসিক এর তারিখ পরিবর্তন হতে পারে। তবে এমন টেনশন না করে আপনি বাড়িতে বসে প্রেগন্যান্টসি টেস্ট করে নিবেন।

মেয়েদের মাসিক হলে কি রোজা করা যাবে

মেয়েদের মাসিক একটি সাধারণ প্রক্রিয়া। মেয়েদের সাধারণ এটা তাদের বয়সন্ধিকাল থেকে শুরু হয় এই মাসিক এর চক্র। এটা একটি নিদিষ্ট তারিখে নিয়ে শুরু হয় প্রতি মাসে। সাধারণ মেয়েদের এই মাসিক এর বিষয়টি অনেক মেয়ে লজ্জিত থাকে। আবার অনেকে ভয় পায়। তবে এটা নিয়ে লজ্জা বা ভয় এর কোনো কারণ নেই। মাসিক শুরু হওয়ার সাধারণ ৭ থেকে ১০ দিনের ভেতরে ঠিক হয়ে যায়। তবে এই ১০ দিন মেয়েরা নাপাক অবস্থাতে থাকে।

সেজন্য আল্লাহ তায়ালা মাসিক এর সময় নামাজ পড়া বা রোজা রাখা থেকে বিরত থাকতে বলেছেন। অনেকের মনে প্রশ্ন থাকে মাসিক হলে কি রোজা করা যাবে কি না। উত্তর হলো মাসিক হলে রোজা করা যাবে না। তবে তাকে মনে রাখতে হবে এই সমস্যার জন্য কয়টি রোজা বাদ পড়লো পরে সেই রোজা গুলো তাকে কাজা করতে হবে। আশা করি বুঝতে পেরেছেন মেয়েদের মাসিক হলে কি রোজা করা যাবে সম্পর্কে বিস্তারিত।

মাসিকের সময় সহবাস করা যাই কি না

প্রিয় পাঠক আপনাদের যারা বিবাহিত তারা অনেকেই এমন সমস্যাতে ভোগেন যে মাসিকের সময় সহবাস করা যাই কি না কিংবা মাসিকের সময় সহবাস করলে শারিরীক ভাবে কোনো সমস্যা হয় কি না। তাই আমার আজকের এই আর্টিকেলে এখন আপনাদের মাঝে আলোচনা করবো মাসিকের সময় সহবাস করা যাই কি না এ সম্পর্কে বিস্তারিত। বিবাহের পরে স্বামী স্ত্রী তাদের শারিরীক চাহিদা মেটানোর জন্য সহবাস করে এটা আল্লাহর প্রাকৃতিক নিয়মে চলে আসছে।

তবে বিবাহের পর স্ত্রীর যদি মাসিক হয় তাহলে তখন থেকে মাসিক ভালো না হওয়া পর্যন্ত সহবাদ করতে নিষেধ করেছেন।মেয়েদের মাসিক এর সময় সহবাস করলে গুনাহ হয়। তবে স্বামীর সহবাসের চাহিদা বা স্ত্রীর সহবাসের চাহিদা হলে তা পূরণ করার জন্য যদি সহবাস করে তাহলে তাদের দুজনের গুনাহ হবে। তাই স্ত্রীর মাসিক হলে মাসিক ঠিক হওয়ার পর সে গোশল দিয়ে পবিত্র হয়ে তার পর স্বামী স্ত্রী এক সাথে সহবাস করতে পারবে। আশা করি বুঝতে পেরেছেন মাসিকের সময় সহবাস করা যাই কি না এই সম্পর্কে বিস্তারিত।

মাসিক হলে কি বাচ্চা হওয়ার সম্ভাবনা থাকে

মেয়েদের মাসিক যদি নিয়মিত ভাবে হয় তাহলে এটা নিয়ে তেমন চিন্তার কারণ নেই। তবে যদি মাসিক আগের মতো নিয়মিত ভাবে না হয় তাহলে এটা নিয়ে চিন্তার কারণ রয়েছে। মেয়েদের সাধারণত প্রতিমাসে একটি নিদিষ্ট সময়ে মাসিকের চক্র শুরু হয়। তবে মেয়েরা যদি প্রেগন্যান্ট হয় তাহলে তাদের মাসিক বন্ধ হয়ে যায়। মাসিকের সময় যদি আপনার আগের তুলনায় হালকা পরিমাণ রক্ত পাত হয়ে মাসিক বন্ধ হয়ে যায়।

তাহলে এটা নিয়ে আপনি অবহেলা করবেন না। এটা গর্ভধারণের লক্ষণ তাই আপনার যদি নিয়মিত ভাবে মাসিক না হয়। তাহলে আপনি বাড়িতে বসে প্রেগন্যান্টসি টেস্ট করে নিবেন। তবে আপনার যদি আগের মতো নিয়মিত ভাবে মাসিক হয় তারপর হঠাৎ একমাসে আপনার মাসিক এর সময় পরিবর্তন আসতে পারে। তবে যদি এক দিন দুই দিনের বেশি ৬ থেকে ৭ দিন এর মতো দেরি হয়ে যায় তাহলে আপনি এটাকে অবহেলা করবেন না।

তবে মাসিক বন্ধ হয়ে গেলে কিংবা মাসিক এর তারিখ পরিবর্তন হলেই যে আপনি প্রেগন্যান্ট বিষটা এমন নয়। মাঝে মাঝে মাসিক এর তারিখ পরিবর্তন হতে পারে। তাই আপনার এই বিষয় নিয়ে চিন্তা না করে আপনি বাড়িতে বসে প্রেগন্যান্টসি টেস্ট করে নিন। আশা করি বুঝতে পেরেছেন মাসিক হলে কি বাচ্চা হওয়ার সম্ভাবনা থাকে সম্পর্কে বিস্তারিত।

ইসলামের দৃষ্টিতে মাসিকের সময় যৌন মিলন

পবিত্র কুরআ’ন এ আল্লাহ তায়ালা বলেন- “আর আপনার কাছে জিজ্ঞেস করে হায়েয সম্পর্কে। বলে দেন, এটা অশুচি। কাজেই তোমরা হায়েয অবস্থায় স্ত্রীগণ থেকে বিরত থাকো এবং যতক্ষন না তারা পবিত্র হয়ে যায় ততক্ষণ তাদের নিকটবর্তী হবে না। যখন উত্তম রূপে পরিশুদ্ধ হয়ে যায়, তখন গমন কর তাদের কাছে, যে ভাবে আল্লাহ হুকুম দিয়েছেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ তওবাকারী এবং যারা অপবিত্রতা হতে বেঁচে থাকে তাদেরকে পছন্দ করেন।” (বাকারা/আয়াত-২২২)

সুতরাং স্বামীর জন্য জায়েয হবে না স্ত্রী সহবাস করা যতক্ষন না স্ত্রী হায়েয থেকে মুক্ত হয়ে গোসল করে পবিত্র হয়।হায়েয অবস্থায় স্ত্রী সহবাস যে একটি গর্হিত ও হারাম কাজ রাসূলে কারীম (সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়াসাল্লাম) এর হাদিস থেকেও তার প্রমান পাওয়া যায়। আমাদের প্রানপ্রিয় নবী হযরত মুহাম্মাদ (সা) বলেছেন- “যে ব্যাক্তি হায়েয অবস্থায় সহবাস করে বা পিছনের রাস্তা দিয়ে স্ত্রীর সাথে মিলন করে কিংবা কোন গণকের কাছে গমন করে, তবে সে আমার নিকট যা অবতীর্ণ হয়েছে তা অস্বীকার করল।” [তিরমিযী]বর্তমান চিকিতসা বিজ্ঞান বলছে যে, মাসিক অবস্থায় মেয়েদের জরায়ু থেকে যে স্রাব আসে, তাতে রয়েছে বিষাক্ত কিছু যৌগ।

তাই পুরুষদের সিফিলিস, গোনোরিয়া, লিংগ ছোট হয়ে যাওয়া, লিংগ বিকৃতিসহ নানা রোগের কারন মাসিক অবস্থায় সহবাস করা। ডিম্বানু ভেঙ্গে তা মাসিকের স্রাবের সাথে বেরিয়ে যায়। মাসিকের সময় কোন ডিম্বানু থাকে না। যারা মনে করে মাসিকের সময় সহবাস না করলে সন্তান হয় না, এটা তাদের চরম মুর্খতা। তবে কখনো কখনো মাসিকের সময় ডিম্বানু গঠিত হয়, যদিও এটা বিরল। মাসিকের সময় একটি মেয়ে খুবই অসুস্থ থাকে, এর সাথে থাকে অসহ্যকর ব্যাথা-বেদনা, বমি বমি ভাব, মাথা ব্যাথা। এই অবস্থায় তার সাথে সহবাস করা, তার উপর অমানবিক জুলুম ছাড়া আর কিছুই নয়।

মাসিক অবস্থায়ঃ

১) মাসিক অবস্থায় স্ত্রী সহবাস করা হারাম।

২) মাসিক অবস্থায় স্ত্রীর নাভী থেকে হাঁটু পর্যন্ত দেখা বা স্পর্শ করা হারাম।

৩) মাসিক অবস্থায় নামায পড়া যাবে না এবং তার কাযা মাফ।

৪) মাসিক অবস্থায় রোযা রাখা যাবে না, কিন্তু তার কাযা আদায় করতে হবে।

৫) মাসিক অবস্থায় কুরআ’ন শরীফ স্পর্শ করা বা মুখে উচ্চারণ করা হারাম।

৬) মাসিক অবস্থায় স্ত্রীর সাথে শোয়া, তাকে চুম্বন কিংবা আলিঙ্গন করা জায়েয।

৭) মাসিক শেষ, কিন্তু গোসল করে নাই, এমতাবস্থায় সহবাস করা যাবে না।

৮) মাসিক তিন দিনের কম বা ১০ দিনের বেশি হলে ইস্তিহাযা। ইস্তিহাযা অবস্থায় নামায পড়তে হবে।

৯) মাসিক অবস্থায় কাবা ঘর তাওয়াফ করা ছাড়া হজ্বের অন্যান্য কাজ করা যায়।

এখানে খুবই সহজ কিছু মাসয়ালা দেয়া হলো। মাসিকের মাসয়ালার পরিসর অনেক বড়। মাসিকের মাসয়ালা সমূহ মনে রাখা অনেক কঠিন কাজ। শতকরা ৫ ভাগ মেয়েও সঠিক মাসয়ালা মানা দূরে থাক, জানেও না। তবে কেউ যদি ভুলে, অনিচ্ছাকৃত এবং না জেনে তাহলে তার কোন গুনাহ হবে না। আর যদি ইচ্ছাকৃতভাবে করে থাকে তাহলে কাফফারা দিতে হবে।

কাফফারার পরিমাণ একদিনার বা অর্ধ দিনার। কোনো কনো ফিকাহ বিদের মতে স্বামী দুটির যে কোন একটি দিতে পারবে। আবার কেউ কেউ বলেন মাসিকের প্রথম দিকে করলে ১ দিনার, শেষের দিকে বা মাসিক শেষ কিন্তু গোসল করে নি এমতাবস্থায় করলে অর্ধ দিনার। [কিতাবুল কাবার/ পৃষ্ঠা-৫৫]

রক্তস্রাব চলাকালীন স্ত্রী সহবাস করা স্বামীর জন্য যেমন হারাম ঠিক তেমনি ঐ অবস্থায় স্বামীকে মিলনের সুযোগ দেয়াও স্ত্রীর জন্য হারাম। এ হুকুমটি সরাসরি পবিত্র কুরআনের আয়াত দ্বারা প্রমাণিত। মহান আল্লাহ বলেন:

ﻭَﻳَﺴْﺄَﻟُﻮﻧَﻚَ ﻋَﻦِ ﺍﻟْﻤَﺤِﻴﺾِ ﻗُﻞْ ﻫُﻮَ ﺃَﺫًﻯ ﻓَﺎﻋْﺘَﺰِﻟُﻮﺍْ ﺍﻟﻨِّﺴَﺎﺀ ﻓِﻲ ﺍﻟْﻤَﺤِﻴﺾِ ﻭَﻻَ ﺗَﻘْﺮَﺑُﻮﻫُﻦَّ ﺣَﺘَّﻰَ ﻳَﻄْﻬُﺮْﻥَ ২২২) ﺳﻮﺭﺓ ﺍﻟﺒﻘﺮﺓ "তারা তোমাকে হায়েয সম্পর্কে প্রশ্ন করে, তুমি বলে দাও যে, এটা কষ্টদায়ক বস্তু, কাজেই তোমরা হায়েয অবস্থায় স্ত্রী সহবাস থেকে বিরত থাক এবং ততক্ষণ পর্যন্ত তাদের নিকট যাবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত তারা পবিত্র না হয়।" [সূরা আল-বাকারাহ: ২২২] উক্ত আয়াতে মাহীয) শব্দ দ্বারা হায়েযের সময় এবং লজ্জাস্থানকে বুঝানো হয়েছে। এভাবে হাদীস দ্বারাও বিষয়টি প্রমাণিত।

প্রিয় নবী সা. বলেছেন: স্ত্রী সহবাস ছাড়া বাকী সব কিছু করতে পার। [মুসলিম] সম্মানিত পাঠক-পাঠিকা! আমাদেরকে স্মরণ রাখতে হবে যে, রক্তস্রাব অবস্থায় স্ত্রী সহবাস হারাম হওয়ার ব্যাপারে সমস্ত মুসলমান একমত। এখানে কারো কোন রকম দ্বিমত নেই। সুতরাং যে ব্যক্তি আল্লাহ তা'আলা এবং পরকালের প্রতি ঈমান রাখে তার জন্য এমন একটি অসৎ কাজে লিপ্ত হওয়া কোনভাবেই বৈধ হবে না, যার উপর কুরআন, সুন্নাহ এবং মুসলমানদের সর্ব সম্মত সিদ্ধান্ত কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।

এর পরও যারা এ অবৈধ কাজে লিপ্ত হবে তারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের বিরুদ্ধাচরণ কারীদের অন্তর্ভুক্ত এবং মু'মিনদের মতাদর্শের পরিপন্থী পথের অনুসারী হিসেবে সাব্যস্ত হবে। আল-মাজমূ' শারহুল মুহায্যাব ২য় খন্ডের ৩৭ নং পৃষ্ঠায় ইমাম শাফেয়ী রাহিমাহুল্লাহর উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়েছে যে, ঋতুস্রাব চলাকালে যে ব্যক্তি স্ত্রী সঙ্গমে লিপ্ত হবে তার কবীরা গুনাহ হবে। আমাদের ওলামায়ে কেরাম যেমন ইমাম নববী রাহিমাহুল্লাহ বলেছেন: যে ব্যক্তি হায়েয অবস্থায় স্ত্রী মিলনকে হালাল মনে করবে সে কাফের হয়ে যাবে।

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহ তা'আলার যিনি পুরুষের জন্য ঋতুস্রাব চলাকালীন সঙ্গম ব্যতীত স্ত্রীর সাথে এমন সব কাজ করাকে জায়েয করে দিয়েছেন যার মাধ্যমে স্বামী আপন কামোত্তেজনা নির্বাপিত করতে পারে। যেমন চুমু দেয়া, আলিঙ্গন করা এবং লজ্জাস্থান ছাড়া অন্যান্য অঙ্গের মাধ্যমে যৈবিক চাহিদা পূর্ণ করা। তবে নাভি থেকে হাঁটু পর্যন্ত অংশ ব্যবহার না করাই উত্তম। কাপড় বা পর্দা জড়িয়ে আড়াল করে নিলে অসুবিধা নেই। কেননা আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেন: নবী করীম সা. ঋতুস্রাব চলাকালীন আমাকে আদেশ করলে আমি ইযার পরতাম।

তখন তিনি আমাকে আলিঙ্গন করতেন। যে মানুষ যেন তার স্ত্রীর মাসিক স্রাব চলাকালে যৌন সংগম না করে”, সুতরাং কোণ মহিলার সঙ্গে তার ঋতুস্রাব করা হলে সয়তান তার আগে থাকে এবং সেই শয়তান দারা অই মহিলা গর্ববতী হয় ও হিজড়া সন্তান প্রসব করে। (মানুষ ও জীন এর যৌথ মিলনজাত সন্তানকে ইসলাম এ বলা হয় “খুন্নাস”)। প্রমানসুত্রঃ সূরা বানী ইস্রাইল-আর রাহমান -৫৪, ইবনে আবি হাতিম,হাকিম তিরমিজি।

পিরিয়ড চলাকালীন সময়ে নরমাল ডিফেন্স মেকানিজম নষ্ট হয়ে যায়। মহিলাদের প্রজনন অঙ্গের স্বাভাবিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়। একই ঘটনা ঘটে সন্তান জন্মদানের পরবর্তী ৪০-৪৫ দিন। আর এসময়ের সেক্সুয়াল ইন্টারকোর্স প্রজনন অঙ্গ গুলোতে ভয়াবহ ইনফেকশন ঘটায় লোকাল অর্গানিজম। স্ত্রীর হায়ে্য ( পিরিয়ড ) চলাকালীন তার সাথে সহবাস করা স্বামীর জন্য হারাম। ( ফথুল কাদীর , ১/২০০ )আল্লাহ তায়ালা বলেন , “আর তারা তোমার নিকট হায়ে্য প্রসঙ্গে জিজ্ঞেস করে।

তাহলে বলে দাও এটা অশুচি বা কষ্ট। কাজেই তোমরা হায়েয চলাকালীন সময় সহবাস থেকে বিরত থাক। তখন পর্যন্ত তাদের সাথে সহবাস করবেনা, যতক্ষণ না তারা পবিত্র হয়ে যায়। যখন তারা ভালোভাবে পবিত্র হয়ে যাবে, তখন তাদের নিকটে যাও যেভাবে আল্লাহ নির্দেশ দিয়েছেন। নিশ্চয় আল্লাহ তওবা কবুলকারী এবং অপবিত্রতা থেকে যারা বেঁচে থাকে তাদের ভালবাসেন।”( সুরা আল বাকারাহ ২২২ ) 

এ প্রসঙ্গে রাসুল (সাঃ ) বলেন, “যদি কোন ব্যক্তি হায়েযাহ নারীর সাথে বা তার নিতম্বে সহবাস (এনাল সেক্স) করে, জ্যোতিষীর নিকট যায় আর জ্যোতিষীর কথা বিশ্বাস করে তাহলে সে মুহাম্মদ (সাঃ ) এর প্রতি যা নাযিল হয়েছে তার প্রতি কুফরি করল।”

লেখকের শেষকথাঃইসলামে মাসিকের কতদিন পর সহবাস করা যায়

প্রিয় পাঠক আপনারা এতক্ষণ পড়ছিলেন ইসলামে মাসিকের কতদিন পর সহবাস করা যায় এই সম্পর্কে বিস্তারিত। আশা করি আমার আজকের এই আর্টিকেলটি পড়ে আপনি খুব ভালো মতো বুঝতে পেরেছেন ইসলামে মাসিকের কতদিন পর সহবাস করা যায়। এই পোস্টটি আপনার কাছে ভালো লাগলে বন্ধুদের কাছে শেয়ার করতে পারেন।

আর নতুন কোনো বিষয়ে তথ্য জানতে চাইলে আমাদের কমেন্ট করে জানাতে পারেন। প্রতিদিন এমন তথ্য পেতে চোখ রাখুন আমার এই বায়জিত আইটির ওয়েবসাইটে। এতক্ষণ আমার এই আর্টিকেলটি পড়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url