একজিমা কোন ভিটামিনের অভাবে হয়

প্রিয় পাঠক আপনারা অনেকে রয়েছেন যারা জানেন না যে একজিমা কোন ভিটামিনের অভাবে হয়ে থাকে। আপনারা যারা জানেন না যে একজিমা কোন ভিটামিনের অভাবে হয়ে থাকে তাদের জন্য আজকের আর্টিকেলটি।

eczema
আজকের আর্টিকেলটিতে আলোচনা করা হবে কোন ভিটামিনের অভাবে হয়ে থাকে এ বিষয়ে। আপনারা যারা একজিমা রোগে ভুগছেন আজকের আর্টিকেলটি তাদের জন্য হতে পারে একটি সমাধানের উপায়।

পোস্ট সূচিপত্রঃএকজিমা কোন ভিটামিনের অভাবে হয় 

আজকের আর্টিকেলের মূল বিষয় একজিমা কোন ভিটামিনের অভাবে হয়ে থাকে আর পোস্ট সূচীপত্র তে উল্লেখ করা হয়েছে, একজিমা কি? একজিম কেন হয়? একজিমার লক্ষণ কি? কোন ভিটামিনের অভাবে চুলকানি হয়? একজিমা দেখতে কেমন হয়? একজিমা হলে কি খাওয়া যাবেনা? রোগের ঘরোয়া চিকিৎসা? একজিমা দূর করার ঘরোয়া উপায় কি? একজিমার ঔষুধেরর নাম কি? বিস্তারিত জানতে আজকের আর্টিকেলটি মনোযোগ সহকারে পড়ুন।

একজিমা কি

একজিমা ইংরেজি শব্দ। একজিমের প্রকার চর্মরোগ যা বাংলাদেশে বিভিন্ন নামে পরিচিত যেমন পামা, বিখাউজ, কাউর ঘা বিভিন্ন নামে পরিচিত। চিকিৎসা বিজ্ঞানে একে বলা হয় এটপিক ডার্মাটাইটিস। একজিমার অন্যতম উৎস হলো বংশগত বলে ধারণা করা হয়ে থাকে। একজিমা ত্বকের বিশেষ স্থানে প্রদাহ সৃষ্টি করে।

একজিমা আক্রান্ত স্থানে লাল ভাব দেখা দেয়, সেখান থেকে পুঁজ বের হয়, রস ক্ষরণ হয়, চুলকায়। তবে এ রোগ থেকে আরো মারাত্মক রোগের আকার ধারণ করতে পারে যেমন হাঁপানি এবং হে ফিভার হতে পারে। একজিমা শরীরের যেকোনো স্থানে হতে পারে তবে হাত,পা,বহু, ঘাড়, কব্জি, ঊর্ধ্ব বক্ষস্থাল হতে পারে।

একজিমা কেন হয়

আজকে আর্টিকেলের এই মুহূর্তে আলোচনা করা হবে একজিমা কেন হয় এ বিষয়ে। আপনারা অনেকেই রয়েছেন যারা জানেন না আসলে একজিমা কেন হয় এ বিষয়টা নিয়ে। একজিমা কেন হয় এ বিষয়টা নিয়ে আপনারা অনেকেই চিন্তায় থাকেন? আজকের আর্টিকেলটি যদি মনোযোগ সহকারে পড়েন তাহলে আপনার সেই চিন্তা দূর হয়ে যাবে। 

একজিমা কেন হয় এ বিষয়ে জানতে আজকের আর্টিকেলটি মনোযোগ সহকারে পড়ুন। একজিমা আসলে একটি বংশগত অবস্থায় এবং পরিবার থেকে চলে আসে। একজনের জন্য অনেক কারণ দায়ী হতে পারে যেমন ত্বকের বাধা ,একটি অত্যাধিক সক্রিয় প্রতিরোধ ব্যবস্থা এবং খুব কম লোকেরই অতিরিক্ত সংবেদনশীল ত্বক থাকে। যে সকল কারণে একজিমা হয় নিচে তা বর্ণনা করা হলোঃ
  • জেনেটিক্স সমস্যার কারণে
  • ইমিউনিটি সিস্টেমর অস্বাভাবিক কাজ 
  • জলবায়ুর কারণে হতে পারে
  • সংবেদনশীল ত্বকের জন্য
  • মানসিক চাপ
  • উচ্চ বায়ু দূষণকারী এক্সপোজার
  • ঘাম এবং তাপ
  • মোটা কাপড় পরিধান করা
  • শুষ্ক এবং আঁশযুক্ত ত্বক
  • সুগন্ধির ব্যবহার, মেকআপ ব্যাবহার, সাবানের ব্যবহার, ধুলোবালি এবং সিগারেটের ধোঁয়া থেকে।
ওপরে যে কারণ গুলোর কথা বলা হল এই কারণগুলোর জন্যই সাধারণত একজিমা হয়ে থাকে। এজিমা থেকে দূরে থাকার জন্য নিজেকে সবসময় পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে এবং ওপরে উল্লেখিত বিষয়গুলো থেকে নিজেকে মুক্ত রাখতে হবে।

একজিমার লক্ষণ

আপনারা অনেকেই জানেন না যে একজিমার লক্ষণ কি? আপনারা যারা জানেন না যে একজিমার লক্ষণ কি আজকের আর্টিকেলটি তাদের জন্য। এখন আলোচনা করা হবে একজনের রোগের লক্ষণ কি সে বিষয়ে। বিস্তারিত জানতে আজকের আর্টিকেলটি মনোযোগ সহকারে পড়ুন। একজিমা হলে কি কি লক্ষণ দেখা দেয় সেগুলোর নিচে আলোচনা করা হলোঃ
  • ত্বকে ফুসকুড়ি দেখা দেওয়ার আগেও বেশিরভাগ স্থানে চুলকানি হয়। চুলকানির ফলে আপনার শরীরে ঘা গুলো সংক্রমিত হতে পারে।
  • চুলকানি হলে সেখানে লাল ভাব দেখা দেয় এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে এই চুলকানি হতে পারে
  • বিভিন্ন ধরনের একজিমার উপসর্গের কারণে এ রোগ হতে পারে
  • এক্সামের সময় ত্বকের ক্ষতি প্রায়ই ঘামাচির কারণে হয় এবং এটি তীব্র হতে পারে
  • কিছু কিছু সময় দেখা দেয় যে তাকে মারাত্মকভাবে ফাটল হয়ে থাকে যা অনেক বেদনাদায়ক, গভীর ফাটল দেখা দিতে পারে।
  • শরীরের বিভিন্ন স্থানে গোল গোল চাকার মতো দেখা দেয়।
উপরের লক্ষণ গুলো দেখা দিলে আপনি বুঝবেন যে আপনি একজিমা রোগে আক্রান্ত হয়েছেন। সেজন্য ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী সে সময় চিকিৎসা গ্রহণ করা আপনার জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ।

একজিমা কোন ভিটামিনের অভাবে হয়

সাধারণত একজিমা রোগ দেখা দেয় ভিটামিন এ এবং ডি উভয় ভিটামিনের যখন ঘাটতি দেখা দেয় তখন শরীরে একজিমা রোগের লক্ষণ দেখা দেয়। একজিমা সাধারণত চুলকানি এবং শুষ্ক ত্বকের বিকাশের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। আমাদের ত্বকে যখন ভিটামিন ডি এর অভাব হয় তখন আমাদের শরীরে একজিমা হতে পারে। ভিটামিন ডি আমাদের ত্বকে হাইড্রোজেন বজায় রাখতে সাহায্য করে। সাধারণত ভিটামিন এ, ভিটামিন ডি. ভিটামিন ই , এবং বি কমপ্লেক্সের অভাবে একজিমা রোগ হয় ।

একজিমা দেখতে কেমন

  • ত্বকে ফুসকুড়ি দেখা দেওয়ার আগেও বেশিরভাগ স্থানে চুলকানি হয়। চুলকানির ফলে আপনার শরীরে ঘা গুলো সংক্রমিত হতে পারে।
  • চুলকানি হলে সেখানে লাল ভাব দেখা দেয় এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে এই চুলকানি হতে পারে
  • বিভিন্ন ধরনের একজিমার উপসর্গের কারণে এ রোগ হতে পারে
  • এক্সামের সময় ত্বকের ক্ষতি প্রায়ই ঘামাচির কারণে হয় এবং এটি তীব্র হতে পারে
  • কিছু কিছু সময় দেখা দেয় যে তাকে মারাত্মকভাবে ফাটল হয়ে থাকে যা অনেক বেদনাদায়ক, গভীর ফাটল দেখা দিতে পারে।
  • শরীরের বিভিন্ন স্থানে গোল গোল চাকার মতো দেখা দেয়।

একজিমা হলে কি খাওয়া যাবে না

আজকে আর্টিকেলে আমরা আলোচনা করব একজিমা হলে কি খাওয়া যাবে না  এ বিষয় নিয়ে। আপনারা যারা একজিমা রোগে ভুগছেন তারা যদি না জেনে থাকেন যে উজ্জ্বল হলে কি খাওয়া যাবে না আজকের আর্টিকেলটি তাদের জন্য। বিস্তারিত জানতে আজকের আর্টিকেলটি মনোযোগ সহকারে পড়ুন। একজিমা রোগ দেখা দিলে আপনি দুগ্ধজাত পণ্য খাওয়া বা গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকুন।

কারণ এই পণ্যগুলিতে কেসিন এবং হুই প্রোটিন থাকে যা ব্যক্তির এলার্জি বা একজিমা কে বাড়িয়ে দিতে পারে। তাছাড়া যাদের এলার্জি বা একজিমা রয়েছে তারা গম, বার্লি , রাই , এই সকল খাদ্য গ্রহণ থেকে বিরত থাকুন। ডিম এবং প্রক্রিয়াজাত  খাদ্য থেকে বিরত থাকুন তাছাড়াও বিভিন্ন রকমের ফল যেমন লেবু, কমলালেবু, আঙ্গুর, এ সকল ফলে সাইট্রাস এসিড রয়েছে জন্য এ সকল খাদ্য পরিহার করতে হবে।
 
তাছাড়াও রয়েছে বিভিন্ন রকমের সবজি যেমন বেগুন, টমেটো , আলু , এবং মরিচের মধ্যে অ্যালক্লাইড রয়েছে যা ব্যক্তির মধ্যে একজিমার লক্ষণ গুলো প্রকাশ করে । তাছাড়াও রয়েছে বিভিন্ন রকমের বাদাম যেমন, চিনা বাদাম, কাঠবাদাম , কাজুবাদাম , এ সকল বাদাম খাওয়ার ফলে আপনার শরীরে এক জীবন লক্ষণ দেখা দিতে পারে সেজন্য এ সকল খাবার খাওয়া থেকে নিজেকে বিরত রাখতে হবে।

তাছাড়াও অতিরিক্ত মসলা জাতীয় খাবার এবং অ্যালকোহল খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। এ সকল খবরগুলো থেকে বিরত থাকলেই আপনি একজিমা রোগ থেকে মুক্তি পেতে পারেন।

একজিমা রোগের ঘরোয়া উপায় ও  চিকিৎসা

আজকের আর্টিকেলের এই মুহূর্তে আমরা আলোচনা করব একজিমা রোগের ঘরোয়া প্রতিকার কি বা চিকিৎসা কি। আপনারা যারা একজিমা রোগে ভুগছেন তারা জানেন যে একজিমা রোগ কতটা বিরক্তিকর আজকের আর্টিকেলটি তাদের জন্য। আপনি ঘরে বসে এগ্রো রোগের প্রতিরোধ করার জন্য যে কাজগুলো করবেন সেগুলো হলঃ
  • চুলকানি বিরোধী ক্রিমের প্রয়োগঃ আপনার শরীরে একজিমার কারণে সৃষ্টি হয় চুলকানি জ্বালা যন্ত্রণা পোশমিত করার জন্য বিভিন্ন ধরনের নন প্রেসক্রিপশন, এন টি ইনফ্লামিটার ক্রিম ব্যবহার করে দেখতে পারেন।
  • স্ক্র্যাচ করা থেকে বিরত থাকুন ঃ একজিমার কারণে ফুসকুড়ি হয় আর সেখান থেকে চুলকানি হয়। সেজন্য আমাদের হাতের নখ ছোট করে কাটতে হবে। প্রয়োজন হলে গ্লাভস ব্যবহার করতে হবে।
  • ময়শ্চারাইজেশনঃ নিয়মিত ভালো মানের ক্রিম লোন স্প্রে বা বেদনাশকয়েল দিয়ে আপনার ত্বকের ময়শ্চারাইজ করা একটি চমৎকার অভ্যাস।
  • আক্রান্ত স্থান ঢেকে রাখাঃ আক্রান্ত স্থানটিকে জীবাণুমুক্ত করে ব্যান্ডেজ দিয়ে আক্রান্ত স্থানটিকে ঢেকে দিন। আক্রান্ত স্থানটি ঢেকে দেওয়ার ফলে আপনি স্ক্র্যাচ করা থেকে বিরত থাকতে পারবেন।
  • আরামদায়ক পোশাক পরিধান করুনঃ আপনার শরীরে একজিমা রোগের লক্ষন দেখা দিলে আপনি মোটা বা শক্ত পোশাক পরিহার করুন আরামদায়ক ও নরম পোশাক পরিধান করুন।
  • সাবান ব্যবহার করুনঃ আপনি যদি একজিমা রোগে ভুগে তবে আপনার ত্বকে শুধুমাত্র হালকা সাবান ব্যবহার করুন। সুগন্ধযুক্ত সাবান বা কৃত্রিম রঙযুক্ত সাবান ব্যবহার করবেন না, কারণ তারা আপনার ত্বকের আরও জ্বালাতন করতে পারে। সাবান ব্যবহারের পর আপনার শরীর ভালো করে ধুয়ে ফেলুন।
আপনি যদি উপরে উল্লেখিত বিষয়গুলো অনুসরণ করেন তাহলে আপনি একজিমা রোগের জ্বালাতন থেকে মুক্তি পেতে পারেন। আর আপনি যদি এই সকল পরামর্শগুলো মানার পরেও আপনি আপনার সমস্যা থেকে মুক্তি পাচ্ছেন না সেজন্য আপনি ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে পারেন। ডাক্তারের চিকিৎসা গ্রহণ করে ঔষধ গ্রহণ করলে আপনি সুস্থ হয়ে উঠবেন ইনশাল্লাহ।

একজিমার ঔষধের নাম

একজিমার সাথে ব্যাকটেরিয়া এবং ফাঙ্গাল ইনফেকশনাল জড়িত থাকলে দেখা দেয়। সেজন্য যাদের প্রাথমিক অবস্থায় একজিমা হয়ে থাকে সেজন্য তাদের কিছু ম্যাক্রোলাইড গ্রুপের ঔষধ দেয়া হয় এবং একরা সাইটিং গ্রুপের ঔষধ দেয়া হয়। রক্সিড ইন ১৫০ ট্যাবলেট দিনে দুইবার পাঁচ দিনের জন্য দেওয়া হয়। এজ্যিস্ট্যমাইথিন যদি ২৫০ মিলি দেয়া হয় তাহলে দুইটা করে ট্যাবলেট পাঁচদিন এবং যদি ৫০০ মিনিট ট্যাবলেট দেয়া হয় তাহলে একটি করে পাঁচ দিন দেওয়া হয়।

এই ওষুধগুলো গ্রহণ করা ছাড়াও আপনি ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে ওষুধ গ্রহণ করতে পারেন। আর ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে ওষুধ গ্রহণ করায় সবচেয়ে ভালো কারণ তিনি পরীক্ষা করে দেখে বুঝে শুনে ওষুধ দিবেন যেগুলো আপনার জন্য প্রয়োজন। কখনো ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া বা নিজের ইচ্ছাতে ফার্মেসি থেকে ওষুধ এনে গ্রহণ করা উচিত নয়।

লেখকের শেষ কথাঃএকজিমা কোন ভিটামিনের অভাবে হয়

আজকের আর্টিকেলটিতে আমরা আলোচনা করেছি একজিমা কোন ভিটামিনের অভাবে হয় এ সম্পর্কে আজকের আর্টিকেলটি পরে যদি আপনাদের ভালো লেগে থাকে তাহলে অবশ্যই আমাদের কমেন্ট করে জানাবেন। আর আপনারা যারা ভুগছেন তারা অবশ্যই আমার দেওয়া মতো তথ্যগুলো অনুসরণ করবেন এবং নিজেকে সবসময় পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখবেন । ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে চিকিৎসা গ্রহণ ।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url