শিশুদের মোবাইল আসক্তি থেকে মুক্তির উপায়

প্রিয় পাঠক, আজকে আপনাদের জানাবো শিশুদের মোবাইল আসক্তি থেকে মুক্তির উপায় সম্পর্কে। এছাড়াও এই আর্টিকেলে ইন্টারনেট আসক্তি থেকে মুক্তির উপায় সম্পর্কেও জানতে পারবেন। আপনার শিশু যদি মোবাইলের প্রতি আসক্ত থাকে তাহলে আপনাকে অবশ্যই জানতে হবে শিশুদের মোবাইল আসক্তি থেকে মুক্তির উপায়। কেননা অতিরিক্ত মোবাইল আসক্তি শিশুদের জন্য ক্ষতিকর। চলুন তাহলে জেনে নেওয়া যাক শিশুদের মোবাইল আসক্তি থেকে মুক্তির উপায় সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য।
শিশুদের মোবাইল আসক্তি থেকে মুক্তির উপায়
আশা করছি আজকের আর্টিকেলটি সম্পূর্ণ পড়লে প্রয়োজনীয় তথ্য জানতে পারবেন এবং উপকৃত হবেন। আপনাদের সুবিধার্থে শিশুদের মোবাইল আসক্তি থেকে মুক্তির উপায় নিয়ে আজকের এই আর্টিকেল। তাই বিস্তারিত জানতে হলে দেরি না করে সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি মনোযোগ সহকারে পড়ে ফেলুন

মোবাইল আসক্তির কারণ

বর্তমান সময়ে শিশু ও কিশোরদের মধ্যে মোবাইল আসক্তির সমস্যা অনেকটা বৃদ্ধি পাচ্ছে। ইন্টারনেট সহজলভ্য হওয়ায় শিশু কিশোররা ব্যস্ত থাকে ইন্টারনেট ভিত্তিক গেমস অন্যান্য ধরনের ভিডিও দেখা নিয়ে। পরিবারের অসচেতনতা কারণে শিশুরা মোবাইল ফোনে প্রতি আসক্তি হচ্ছেন। মোবাইল ফোনে আসক্তি হওয়ার পেছনে অনেকগুলো কারণ রয়েছে কিন্তু তার মধ্যে একটি অন্যতম কারণ হলো অনেক পরিবারের বাবা-মা তাদের সন্তানকে খুব কম বয়সেই মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে দেয়। এর ফলে বিভিন্ন রকম অশ্লীল ও অনৈতিক ভিডিও খুব সহজে দেখে এবং খুব অল্প বয়সেই তারা বখাটে হয়ে যাচ্ছে।


আর এগুলো ফলে তারা মোবাইলে প্রতি আসক্ত হয়ে যায়। বর্তমান সময়ে বেশিরভাগ ছেলে মেয়ে খেলাধুলা বাদ রেখে মোবাইল নিয়ে থাকে সব সময়। মোবাইলে আসক্তি মূলত ১২ থেকে ২৫ বছরের মানুষেরাই বেশি মোবাইলের নেশায় আক্রান্ত হচ্ছে। দীর্ঘ সময় মোবাইলের দিকে তাকিয়ে থাকলে শরীরে নানা রকম সমস্যা দেখা দিতে পারে। বর্তমান সময় অনেক মায়েরা তাদের শিশুদের বিনোদন দেওয়ার জন্য মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে দেয় এতে করে তারা একসময় মোবাইলে প্রতি আসক্ত হয়ে যায়। আজকেরে আর্টিকেলে শিশুদের মোবাইল আসক্তি থেকে মুক্তির উপায় সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করবো।

মোবাইল আসক্তি পড়ালেখার ক্ষতি

মোবাইল আসক্তি মাদকাসক্তের মতোই বিপদজনক। বিশ্বজুড়ে করোনা মহামারীর কারণে অর্থনৈতিক ধ্বংসের পাশাপাশি শিক্ষা ব্যবস্থা ও পিছিয়ে পড়েছে। আর এই শিক্ষার পিছিয়ে পড়ার পাশাপাশি ছাত্র-ছাত্রীরাদের নতুন এক উপদ্রব মোবাইল ফোন আসক্তি। অনলাইন ভিত্তিক ক্লাস করার নামে তাদের পিতা-মাতা ছেলেমেয়েদের হাতে স্মার্টফোন তুলে দেয়। এর ফলে ছেলে মেয়েরা পড়ালেখার নামে মোবাইলে বিভিন্ন অ্যাপস ভিত্তিক গেমস, অশ্লীল ভিডিও, পাবজি, ফ্রী ফায়ার এর মত বিভিন্ন গেমস সহ ফেসবুক, ইউটিউব, টিকটক, টুইটার সহ সব ধরনের যোগাযোগ মাধ্যমে প্রতি আসক্ত হয়ে পড়ছে।


এ কারণে শিক্ষার্থীদের পড়ালেখার প্রতি মনোযোগ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে এবং পড়াশোনায় ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। এ ধরনের গেমস দীর্ঘ সময় খেলার কারণে শিক্ষার্থীদের যেমন মানসিকভাবে অসুস্থ হচ্ছে তেমনি পড়ালেখা ও ব্যাপক ক্ষতি করছেন। এছাড়াও এ সকল গেমস পড়াশোনায় মনোযোগ নষ্টের পাশাপাশি কিশোর কিশোরীরা বিভিন্ন ধরনের অনৈতিক কাজে জড়িয়ে পড়ছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের জনপ্রিয় হওয়ার জন্য অনেক শিক্ষার্থী সারাদিন ভিডিও তৈরিতে ব্যস্ত থাকে। তারা পড়াশোনার বদলে নতুন নতুন ভিডিও তৈরির জন্য ব্যস্ত থাকে ফেসবুকে। এর ফলে শিক্ষার্থীদের মোবাইল আসক্তি পড়ালেখার ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে।

মোবাইল আসক্তির কুফল

মোবাইল আসক্তির কুফল অনেক বেশি যা আমাদের শরীরের জন্য ক্ষতিকারক। তবে আমরা মোবাইল ব্যবহার করে থাকি কিন্তু অতিরিক্ত মোবাইল ব্যবহারের ফলে আমাদের স্বাস্থ্যের ওপর যে ক্ষতিকারক প্রভাব ফেলে এ সম্পর্কে হয়তো অনেকেই জানেনা। শুধু শারীরিক সমস্যায় না অতিরিক্ত মোবাইল ব্যবহারের ফলে হতে পারে তীব্র মানসিক সমস্যা। তাই অতিরিক্ত মোবাইল ব্যবহার করলে কি কি ক্ষতি হতে পারে সে সম্পর্কে আমাদের সচেতন হওয়া খুবই জরুরী। চলুন তাহলে জেনে নেওয়া যাক মোবাইল আসক্তির কুফল গুলো সম্পর্কে।

চোখের দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়া
অতিরিক্ত মোবাইল আসক্তির কুফল গুলোর অন্যতম হলো চোখের দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়া। দীর্ঘসময় মোবাইল ব্যবহারের ফলে মানুষের দৃষ্টি শক্তি ক্ষীণ হয়ে যাওয়া এক ধরনের জিনগত সমস্যা দেখা দেয়। চক্ষু বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী মোবাইল ফোনের অতিরিক্ত ব্যবহার চোখের দৃষ্টিশক্তি হীনতার কারণ হতে পারে। মোবাইল ফোন ব্যবহারের সময় মোবাইলের স্কিনের যে আলো চোখে রেটিনার উপরে পড়ে তা দীর্ঘস্থায়ী ক্ষতির মাধ্যমে অন্ধত্বের কারণ হয়ে যেতে পারে। তাই সবসময় মোবাইল স্ক্রিনে ব্রাইটনেস কমিয়ে রাখার চেষ্টা করবেন।

ঘুমের ব্যাঘাত
অতিরিক্ত মাত্রায় মোবাইল ব্যবহারের ফলে মানসিক চাপের সমস্যা অনেকটা বেড়ে যায়। গবেষণা জানা গেছে ঘুমের আগে মোবাইল ফোন ব্যবহারের ফলে মোবাইলের স্ক্রিনের আলো ঘুমের ব্যাঘাত ঘটায়। রাতে ঘুমানোর সময় মোবাইল ফোন বিছানায় রাখার ফলে মোবাইল থেকে এক ধরনের ক্ষতিকারক রেডিয়েশন বের হয় এতে ঘুমের সমস্যা সৃষ্টি হয়।

ঘাড় ব্যথা
অনেক সময় মাথা ঝুঁকিয়ে রেখে মোবাইল ব্যবহারের কারণে ঘাড়ের ব্যথার সমস্যা দেখা দিতে পারে। অতিরিক্ত পরিমাণে গেমস আসক্ত হলে, মোবাইলে স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে ভিডিও দেখা বা সোশ্যাল মিডিয়ায় মনোযোগ দিতে গিয়ে অনেক সময় মোবাইল ব্যবহারের সঠিক দূরত্ব এবং বডি পজেশন ঠিক রাখা সম্ভব হয় না। এর ফলে ধীরে ধীরে ঘাড় সহ শরীরের অন্যান্য অংশে ব্যথার সমস্যা সৃষ্টি হয়। তাই যে কোন ইলেকট্রনিক ডিভাইস থেকে সঠিক দূরত্ব এবং বডি পর্যন্ত ঠিক রেখে ব্যবহার করা জরুরী। সেজন্য মোবাইলে আসক্তি কমাতে হবে এবং হাঁটা চলার পাশাপাশি ব্যায়াম করতে হবে।

শ্রবণশক্তি কমে যায়
মোবাইল ফোনে আসক্তির কুফল এর মধ্যে আরও একটি কুফল হলো শ্রবণশক্তি কমে যায়। মোবাইলে দীর্ঘ সময় কথা বলা, উচ্চ আওয়াজে গান শোনা, কানে হেডফোন ব্যবহারের দেখা যেতে পারে শ্রবণ শক্তি কমে যাওয়ার মতো মারাত্মক সমস্যা। বর্তমানে ১২ থেকে ২৫ বছর বয়সীদের শ্রবন শক্তি কমে যাওয়ার হার সবচেয়ে বেশি। তাই আপনি যত মোবাইলের প্রতি আসক্ত হবেন তত আপনার শ্রবণ শক্তি কমে যাবে। এছাড়াও কানে হেডফোন ব্যবহার করে চলাফেরার প্রতিনিয়ত অনেক দুর্ঘটনা ঘটছে। তাই দীর্ঘ সময় মোবাইলে কথা বলা, উচ্চ শব্দের গান শোনা এবং সব সময় হেডফোন ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন।

শুক্রাণু কমে যাওয়া
মোবাইল ফোন থেকে নির্গত হওয়া হাই ফ্রিকুয়েন্সির ইলেক্ট্রো-ম্যাগনেটিক রেডিয়েশন শরীরে বিভিন্ন কোষ এবং পুরুষের প্রজননতন্ত্রের ওপর বিরপ প্রভাব ফেলে। মোবাইল থেকে নির্গত হওয়া ক্ষতিকর তরঙ্গ শুক্রাণুর ওপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে এবং শুক্রাণু ঘনত্ব কমে যায়। মোবাইল ফোন প্যান্টের পকেটে দীর্ঘ সময় রাখলে মোবাইল ফোনে থাকা উত্তপ্ত তাপ পুরুষের অন্ডকোষের চারপাশের তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ার কারণ হয়। এতে পুরুষের শুক্রাণুর ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং আপনি হারাতে পারেন সন্তান জন্মদানের ক্ষমতা।

ডিপ্রেশন
মোবাইল ফোন ব্যবহারে ডিপ্রেশনে পড়ার অনেক ধরনের কারণ রয়েছে। অতিরিক্ত পরিমাণে মোবাইল ব্যবহারে ঘুমের ব্যাঘাত, মেজাজ খিটখিটে হয়ে যাওয়া, মানসিক স্বাস্থ্যের প্রভাব ইত্যাদি ধীরে ধীরে ডিপ্রেশনে দিকে ধাবিত করে। এছাড়াও সোশ্যাল মিডিয়ার বিভিন্ন ধরনের ভিডিও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলে এবং একপর্যায়ে ডিপ্রেশনের রূপ নিতে পারে।



মেজাজ খিটখিটে হয়ে যাওয়া
অতিরিক্ত মোবাইল আসক্ত হলে মেজাজ অনেক খিটখিটে হয়ে যায়। এছাড়া একই সাথে অস্থিরতা ও অমনোযোগী বৃদ্ধি পায়। এর ফলে পরিবারের বা বন্ধুদের সঙ্গে নিজের অজান্তেই অসভন আচরণ করে ফেলেন। তাই এ ধরনের সমস্যা থেকে বেরিয়ে আসতে অতিরিক্ত মোবাইল আসক্তি কমিয়ে আনতে হবে।

পর্নোগ্রাফি আসক্তি
মোবাইল আসক্তি কুফল এর মধ্যে সবচেয়ে ভয়ংকর একটি কুফল হল পর্নোগ্রাফিতে আসক্ত হয়ে যাওয়া। বর্তমান সময়ে মোবাইল ফোন সুলভ হওয়ায় সব বয়সী মানুষের কাছে এটি সহজলভ্য হয়ে পড়েছে। এর ফলে ইন্টারনেটের মাধ্যমে তরুণরা পর্নোগ্রাফিতে আসক্ত হয়ে পড়ছে। পর্নোগ্রাফিতে আসক্ত হওয়ার কারণে সমাজে বিভিন্ন ধরনের অনৈতিক কর্মকান্ড এবং ধর্ষণ ও খুনের ঘটনা অস্বাভাবিক হারে বেড়ে যাচ্ছে। তাই শিশু ও তরুণদের পর্যাপ্ত পরিমাণে মনিটারিংয়ে রাখতে হবে এবং মোবাইলে আসক্তি কমিয়ে ফেলুন।

ইন্টারনেট আসক্তি থেকে মুক্তির উপায়

বর্তমান সময়ে তরুন তরুণেরা বেশিরভাগই ইন্টারনেটের প্রতি আসক্ত হয়ে গেছে। প্রয়োজন ছাড়া কোন কিছু করা ভালো নয় ঠিক তেমনি অপ্রয়োজনে ইন্টারনেটের সময় কাটানোর মোবাইলে স্ক্রিনের তাকিয়ে থাকা হলো ইন্টারনেটের আসক্তি। অর্থাৎ অপ্রয়োজনে ইন্টারনেটে সময় করানো হলো ইন্টারনেটের আসক্তি। ইন্টারনেটের কল্যাণে মানুষের জীবন অনেক সহজ ও গতিশীল হচ্ছে তবে প্রতিটি বিষয়ের ভালো ও খারাপ দুটি দিক রয়েছে। তেমনি ইন্টারনেটের খারাপ দিক হলো এর অপব্যবহার করা। আপনি যখন প্রয়োজন ছাড়া অপ্রয়োজনে ইন্টারনেট ব্রাউজ করছেন তার মানে আপনি ইন্টারনেটের প্রতি আসক্ত।

ইন্টারনেটে প্রতি আসক্ত হওয়ার কারণে তরুণ সমাজের মধ্যে ক্ষতিকর প্রভাব ফেলছে। ইন্টারনেট আসক্তি থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য অপ্রয়োজনে ইন্টারনেট ব্যবহার থেকে বিরত থাকতে হবে এবং এর পাশাপাশি ফুলের বাগান করা, কোন গৃহপালিত পশুপাখিকে সময় দেওয়া, বই পড়ার প্রতি অভ্যস্ত হওয়া ইত্যাদি কাজগুলো করে সময় কাটাতে পারেন। আপনাদের সুবিধার্থে ইন্টারনেট আসক্তি থেকে মুক্তির উপায় সম্পর্কে কিছু তথ্য নিচে দেওয়া হলোঃ

প্রকৃতির সাথে সংযুক্ত থাকা
সবসময় মোবাইল কিংবা কম্পিউটার নিয়ে পড়ে না থেকে কিছুটা সময় প্রকৃতির সাথে কাটানোর চেষ্টা করুন। যেমন কিছু সময় সবুজ ঘাস কিংবা নদীর পাড়ে, খোলামেলা পরিবেশে, আকাশের তারা কিংবা চাঁদ দেখে সময় কাটাতে পারেন। এছাড়াও কোন বিনোদন কেন্দ্র বা পার্কে ঘুরে আসতে পারেন প্রিয়জনদের সাথে।

বাগান করা
ইন্টারনেট আসক্তি থেকে মুক্তির উপায় এর মধ্যে বাগান করা অন্যতম। যদি আপনার পর্যাপ্ত সময় ও জায়গা থাকে তবে বাগান করা একটি দুর্দান্ত উপায়। এর ফলে কাজের প্রতি মনোযোগ হবে এবং ইন্টারনেট আসতি থেকে মুক্তি পাবেন। বাগানে কাজ করে আপনি সময় কাটাতে পারবেন এবং আনন্দ পারবেন।

বই পড়া প্রতি অভ্যস্ত হওয়া
নিজের একাকীত্ব বোরিং লাইফ থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য বই পড়া বিকল্প অন্য কিছু নেই। এটি আপনার জ্ঞান বৃদ্ধির পাশাপাশি ইন্টারনেটর আসক্তি থেকে মুক্তির উপায় হিসেবে দারুণ উপকারী। আপনি আপনার পছন্দ অনুযায়ী বই পড়তে পারেন এছাড়াও ম্যাগাজিন পড়ে সময় কাটাতে পারবেন। বই পড়ার প্রতি আসক্ত হলে আপনি সকল আসক্তি থেকে মুক্তি পাবেন।

পছন্দের কোন কাজ করা
ইন্টারনেটে প্রতি আসক্তি কমাতে আপনার পছন্দের যেকোনো কাজ করুন। যেমন বাগান করা, হ্যান্ড পেইন্ট করা, সেলাই করা, ছবি আঁকা ইত্যাদি ।

পশু পাখি পালন
বিভিন্ন ধরনের পশুপাখি বাসায় পালন করতে পারেন। এর ফলে আপনার সময় কাটানোর পাশাপাশি ইন্টারনেট আসক্তি থেকে মুক্তির উপায় হিসেবে দারুণ কাজ করবে।

মোবাইল ফোনের সঠিক ব্যবহার

বর্তমান সময়ে ছোট-বড় সকলেই মোবাইল ফোন ব্যবহার করে থাকি কিন্তু মোবাইল ফোনের সঠিক ব্যবহার সম্পর্কে আমরা অবগত নয়। আর মোবাইল ফোন ব্যবহারের সঠিক নিয়ম না জানার কারণে নিজের অজান্তেই অনেক ক্ষতি করে ফেলেন। মোবাইল ফোন ব্যবহারের কারণে চোখের ক্ষতি হওয়ার পাশাপাশি মস্তিষ্কের ক্ষতি হয়।

আপনারা অনেকেই শিশুদের মোবাইল আসক্তি থেকে মুক্তির উপায় সম্পর্কে জানেন না। এজন্য মোবাইল ফোনের সঠিক ব্যবহার হলো প্রয়োজন ছাড়া অপ্রয়োজনে মোবাইল ফোন ব্যবহার না করা। উপরোক্ত আলোচনা থেকে ইন্টারনেট আসক্তি থেকে মুক্তির উপায় সম্পর্কে জানতে পেরেছেন। চলুন তাহলে আমরা মোবাইল ফোনের সঠিক ব্যবহার সম্পর্কে জেনে নিন।
  • মোবাইল ফোনের চার্জের সময় ব্যবহার বা কথা না বলা।
  • কথা বলার সময় অবশ্যই মোবাইল ফোনটিকে বাম কানে ধরুন।
  • ফোনে অতিরিক্ত পরিমাণে চার্জ না দেওয়া।
  • খাবার খাওয়ার সময় মোবাইল ফোন ব্যবহার না করা।
  • মোবাইলের অতিরিক্ত অ্যাপস আনইন্সটল করে ফেলুন।
  • ভালো মানের আ্যন্টিভাইরাস ব্যবহার করুন।
  • মোবাইলের সিগনাল বারে হাত না রাখা।
উপরোক্ত আলোচনায় মোবাইল ফোনের সঠিক ব্যবহারের দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীদের অবশ্যই উপরোক্ত উপায় গুলো অবলম্বন করা উচিত। কেননা উপরোক্ত উপায় গুলো অনুসরণের মাধ্যমে মোবাইল ফোনের সঠিক ব্যবহার হবে এবং মোবাইল ফোন দীর্ঘদিন ভালো থাকবে।

শিশুদের মোবাইল আসক্তি থেকে মুক্তির উপায়

আজকে শিশুরা আগামী দিনের দেশের সম্পদ। তবে বর্তমান সময়ে শিশুদের মোবাইল ফোনের প্রতি আসক্তি দিন দিন বেড়ে যাচ্ছে। এর ফলে শিশুদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ছে। এতে অভিভাবকদের জন্য এ বিষয়টি মারাত্মক চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। শিশুদের মোবাইল আসক্তি থেকে মুক্তি উপায় এর মধ্যে অন্যতম হলো পারিবারিক বন্ধন।


কেননা অভিভাবকদের অসচেতনতার ফলে শিশুরা মোবাইলে প্রতি আসক্ত হয়ে পড়ছে। শিশুদের মোবাইল আসক্তি বেড়ে যাওয়ার কারণ পারিবারিক বন্ধন ধারণার পরিবর্তন আসছে বলে মনে করেন গবেষকরা। তবে কিছু পদ্ধতি বা উপায় অবলম্বন করে এ সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। চলুন তাহলে জেনে নেওয়া যাক শিশুদের মোবাইল আসক্তি থেকে মুক্তির উপায় সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য।
  • শিশুদের একাকীত্ব দূর করার চেষ্টা করুন। শিশুদের সঙ্গে গল্প করার অভ্যাস করুন এবং তাদের বেশি সময় দিন। কারন একাকিত্বে ভোগা থেকে শিশুরা মোবাইলের আসক্ত হতে পারে। তাদের জন্য বিভিন্ন ধরনের অ্যাক্টিভিটির ব্যবস্থা করুন যেমন নাচ,গান, আবৃত্তি, বাদ্যযন্ত্র বাজানো ইত্যাদি। এছাড়াও সমবয়সী শিশুদের সঙ্গে খেলাধুলা করতে আগ্রহী করে তুলুন। এর ফলে শিশুদের মানসিক বিকাশ বৃদ্ধি পায়।
  • বাসায় প্রচুর বই রাখুন। শিশুদের বই পড়ার অভ্যাস তৈরি করতে পারলে খুব ভালো। ছোটবেলা থেকে রোজ রাতে শোবার আগে সন্তানকে যদি বই থেকে গল্প পড়ে শোনান তাহলে শিশুদের মধ্যে বই পড়ার অভ্যাস গড়ে উঠবে। এছাড়াও প্রতিদিন খবরের কাগজ পড়ার অভ্যাস করুন তাহলে আপনার সন্তান আপনাকে দেখে অনুপ্রাণিত হবেন।
  • শিশুদের খাওয়ানোর সময় কিংবা রাতে ঘুমানোর আগে মোবাইল ফোনের গেম কার্টুন দেখানো বা বিভিন্ন ভিডিও দেখার অভ্যাস করবেন না। এ সময় তাদের সঙ্গে গল্প করে সময় কাটাবেন।
  • শিশুদের ঘরে রং তুলি ছবি আঁকার জিনিস কালার পেন্সিল ইত্যাদি রাখতে পারেন। এরপরে শিশুরা সেগুলোর প্রতি মনোযোগী হবেন এবং নিজে নিজে ছবি আঁকার বা লেখার চেষ্টা করবে।
  • শিশুদের প্রকৃতির মাঝে রাখা খুবই জরুরী। শিশুদের বাগানে বা প্রকৃতির মধ্যে খেলাধুলা করার অভ্যাস গড়ে তুলুন। এছাড়াও লুকোচুরি খেলা, ছোটাছুটি ও প্রকৃতির সাথে সময় কাটান। এর ফলে শিশুদের শারীরিক ও মানসিক মেধার বিকাশ হবে।
  • শিশুদেরকে ঘরের কাজে ব্যস্ত রাখার চেষ্টা করুন। সংসারের ছোট ছোট কাজে সহযোগিতা করতে উৎসাহিত করুন। এতে আপনার সন্তানের ঘরের কাজের প্রতি আগ্রহ তৈরি হবে এবং মোবাইল আসক্তি থেকে দূরে থাকবে।

দিনে কত ঘন্টা মোবাইল ব্যবহার করা উচিত

বর্তমানে ছেলে-মেয়েরা ২৪ ঘন্টার মধ্যে বেশিরভাগ সময়ই মোবাইল ফোন ব্যবহার করে যা শরীরের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। আপনারা অনেকেই জানেন না দিনে কত ঘন্টা মোবাইল ব্যবহার করা উচিত। তবে গবেষকদের ২৪ ঘন্টার মধ্যে ২ থেকে ৩ ঘন্টা মোবাইল ব্যবহার করা উত্তম। অর্থাৎ দিনে অথবা রাতের মধ্যে সর্বোচ্চ ৩ ঘন্টা মোবাইল চালানো উচিত। এর ফলে মোবাইলের প্রতি আসক্তি সৃষ্টি হবে না এবং শরীরের কোন ক্ষতি হওয়া সম্ভাবনা থাকবে না। নির্দিষ্ট টাইমে ও নির্দিষ্ট পরিমাণে মোবাইল ব্যবহার করলে পড়াশোনা ও কাজের কোন ক্ষতি হবে না। তাই এভাবেই নিয়ম মেনে মোবাইল ফোন ব্যবহার করা উচিত।

পরামর্শমূলক কিছু কথা

প্রিয় বন্ধুরা আজকেরে আর্টিকেলে শিশুদের মোবাইল আসক্তি থেকে মুক্তির উপায় এর পাশাপাশি মোবাইল আসক্তির কারণ, মোবাইল আসক্তি পড়ালেখার ক্ষতি, মোবাইল আসক্তির কুফল, ইন্টারনেট আসক্তি থেকে মুক্তি উপায়, মোবাইল ফোনের সঠিক ব্যবহার সম্পর্কে আজকের আর্টিকেলে বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হয়েছে। আশা করছি আজকের আর্টিকেল সম্পূর্ণ পড়ে আপনারা এ সকল বিষয়ে ভালোভাবে জানতে পেরেছেন এবং উপকৃত হয়েছেন। এই ধরনের আরো প্রয়োজনের মুলক তথ্য পেতে নিয়মিত আমার ওয়েবসাইট ভিজিট করতে পারেন। আজকের এই আর্টিকেলটি মনোযোগ সহকারে পড়ার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url