ডায়রিয়া হলে করনীয় কি - ডায়রিয়া হলে কি ঔষধ খাওয়া উচিত

প্রিয় পাঠক বৃন্দ আপনি ডায়রিয়া হলে করনীয় কি - ডায়রিয়া হলে কি ঔষধ খাওয়া উচিত এ সম্পর্কে জানতে চাচ্ছেন। তাহলে আজকের আর্টিকেলটি আপনার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়াও আজকেরে আর্টিকেলে ডায়রিয়ার লক্ষণ, ডায়রিয়া হলে কি খাওয়া যাবে,ডায়রিয়া হলে কি ফল খাওয়া যাবে, ডায়রিয়া প্রতিরোধে করণীয় ইত্যাদি বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। তাই সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ে ডায়রিয়া হলে করনীয় কি - ডায়রিয়া হলে কি ঔষধ খাওয়া উচিত এ সম্পর্কে প্রয়োজনের তথ্য খুঁজে পাবেন।
ডায়রিয়া হলে করনীয় কি - ডায়রিয়া হলে কি ঔষধ খাওয়া উচিত
আশা করছি ডায়রিয়া হলে করনীয় কি - ডায়রিয়া হলে কি ঔষধ খাওয়া উচিত এ পোস্টটি পড়ে আপনি উপকৃত হবেন। আপনাদের সুবিধার্থে ডায়রিয়া সম্পর্কে বিভিন্ন প্রয়োজনীয় মুলক তথ্য এ আর্টিকেলে তুলে ধরা হয়েছে। চলুন তাহলে দেরি না করে সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ে ফেলুন।

ভূমিকা

ডায়রিয়া এমন এক ধরনের রোগ যা ছোট বড় সকলেই কম বেশি এ রোগে আক্রান্ত হয়ে থাকে। সাধারণত জীবাণু পেটে ঢোকার ফলে ডায়রিয়া বা পাতলা পায়খানা হয়। পানির মত বারবার পাতলা পায়খানা হলে তাকে ডায়রিয়া বলে। সাধারণত ২৪ ঘন্টার মধ্যে ৩ বা তার থেকে অধিক বার পাতলা পায়খানা হওয়াকে ডায়রিয়া বলে। তবে তিনবারের কম হলে এতে ভয়ের কিছু নেই। তবে চিকিৎসকদের মতে ৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের মৃত্যুর অন্যতম কারণ হলো ডায়রিয়া। আজকের আর্টিকেলে সম্পূর্ণ পড়লে ডায়রিয়া হলে করনীয় কি - ডায়রিয়া হলে কি ঔষধ খাওয়া উচিত এ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানতে পারবেন।


শিশুদের ডায়রিয়া হওয়ার অন্যতম কারণ তাদের বাবা-মা অসচেতনতার ফলে। ডায়রিয়ার কারণে শিশুরা অপুষ্টিজনিত সমস্যায় ভোগে। ডায়রিয়া কারণে শরীরে পানি শূন্যতার অভাব দেখা দেয়। অনেক ক্ষেত্রে এই পানি শূন্যতার কারণে মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। তাই ডায়রিয়া রোগ অবহেলা না করে দ্রুত ডাক্তারের কাছে শরণাপন্ন হওয়া উচিত।

ডায়রিয়ার লক্ষণ

আজকে আমরা আলোচনা করবো ডায়রিয়া রোগের লক্ষণ সম্পর্কে। ডায়রিয়া রোগের লক্ষণ কোনগুলো বা কি কি লক্ষণ দেখা দিলে আপনি নিশ্চিত হবেন যে আপনার ডায়রিয়া হয়েছে। আপনি যদি ডায়রিয়ার লক্ষণ গুলো না জানেন তাহলে এই পর্বটি আপনার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। দেরি না করে তাহলে জেনে নেওয়া যাক ডায়রিয়ার লক্ষণ গুলো সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা।
  • হঠাৎ করেই তীব্র পায়খানা লাগা।
  • বারবার পাতলা পায়খানা হওয়া।
  • পেট ভারী ও ফোলা ফোলা ভাব হওয়া।
  • পায়খানা নিয়ন্ত্রণ না রাখতে পারা।
  • তলপেটে তীব্র কামড় ও ব্যথা অনুভূত হওয়া
  • শরীর ক্লান্ত লাগে এবং মুখ শুকিয়ে যাওয়া
  • বমি হওয়া বা বমি বমি ভাব অনুভব হওয়া।
  • শরীরে পানি শূন্যতা দেখা দেওয়া।
  • খাবারের প্রতি রুচি না থাকা।

ডায়রিয়া হলে করণীয় কি

ডায়রিয়ার লক্ষণ গুলো আমরা উপরোক্ত আলোচনার মাধ্যমে জানতে পেরেছি। এবার আমরা জানব ডায়রিয়া হলে করনীয় কি - ডায়রিয়া হলে কি ঔষধ খাওয়া উচিত। কিছু ঘরোয়া উপায় অবলম্বন করলে ডাক্তারের চিকিৎসা ছাড়াও আপনি ডায়রিয়া রোগ থেকে দ্রুত সরে উঠতে পারেন। তবে আপনাকে অবশ্যই জানতে হবে ডায়রিয়া হলে করনীয় কি সেই সম্পর্কে। তাই আপনাদের মাঝে জানাবো ডায়রিয়া হলে করনীয় কি এ বিষয়ে। তাহলে জেনে নিন ডায়রিয়া হলে করণীয় বিষয়গুলো সম্পর্কে।
  • পানি বা তরল জাতীয় খাবার খাওয়া।
  • খাবার স্যালাইন খাওয়া।
  • পুষ্টি সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া।
  • জিংক ট্যাবলেট খাওয়া।
  • অতিরিক্ত তৈলাক্ত খাবার থেকে বিরত থাকা।
আরো পড়ুনঃ কবুতরের বাচ্চার মাংসের উপকারিতা - গর্ভাবস্থায় কবুতরের মাংস খাওয়ার উপকারিতা

পানি বা তরল খাবার খাওয়া
ডায়রিয়া হওয়ার কারণে শরীর থেকে প্রচুর পরিমাণে পানি বের হয়ে যায়। আর এ কারণে শরীরে পানি শূন্যতা দেখা দেয়। তাই শরীরের পানি শূন্যতার অভাব দূর করার জন্য আমাদের বেশি বেশি পরিমাণ পানি বা তরল জাতীয় খাবার খেতে হবে। ডায়রিয়ার সময় প্রতিবার পায়খানা হওয়ার পর ২ থেকে ৩ গ্লাস পানি অথবা তরল জাতীয় খাবার যেমন ডাবের পানি, ফলের রস পর্যাপ্ত পরিমাণে খাওয়া। এতে করে শরীরের পানি শূন্যতার অভাব দেখা দিবে না। এছাড়াও ডায়রিয়া হলে পানির পাশাপাশি তরল খাবার যেমন ভাতের মাড়, সুজি, সাবু, চিড়ার পানি খেতে পারেন। সুতরাং ডায়রিয়া হলে তরল খাবার বেশি পরিমাণে সেবন করা উচিত।

খাবার স্যালাইন খাওয়া
সাধারণত প্রতিবার পাতলা পায়খানা হওয়ার পর এক প্যাকেট বা আধা লিটার করে খাবার স্যালাইন খাওয়া অত্যন্ত জরুরী। কারণ ডায়রিয়া হলে শরীরে লবণ পানির শূন্যতা দেখা দেয়। খাবার স্যালাইন আপনি ফার্মেসি ওষুধের দোকানগুলোতে পাবেন অথবা আপনি চাইলে ঘরে থাকা উপকরণ দিয়ে খাবার স্যালাইন তৈরি করে নিতে পারেন। বাজার থেকে যে সকল খাবার স্যালাইন কিনে স্যালাইন তৈরি করলে তা ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত খাওয়ানো যাবে। কিন্তু বাড়িতে তৈরিকৃত স্যালাইন মাত্র ৬ ঘন্টা পর্যন্ত খাওয়ানো যাবে।

বাসায় খাবার স্যালাইন তৈরি করার জন্য একটি পরিষ্কার পাত্রে আধা লিটার পানি নিতে হবে। আর এই আধা লিটার পানির মধ্যে এক মুঠ চিনি অথবা গুড় এবং এক চিমটি পরিমাণ লবণ দিয়ে এই উপকরণগুলো পানির মধ্যে ভালোভাবে মিশিয়ে খাবার স্যালাইন তৈরি করতে হবে। ডায়রিয়া হলে প্রতিবার পাতলা পায়খানা হবার পরে এক গ্লাস পরিমাণে স্যালাইন খেতে হবে। এর ফলে শরীরে লবণ এবং পানি শূন্যতা দেখা দিবে না। কিন্তু মনে রাখতে হবে বাড়িতে স্যালাইন তৈরির ৬ ঘন্টা পর আবার নতুন করে স্যালাইন তৈরি করে খাওয়াতে হবে।

জিংক ট্যাবলেট
ডায়রিয়া বা পাতলা পায়খানা আক্রান্ত হলে জিংক ট্যাবলেট অথবা সিরাপ খেতে পারেন। জিংক ট্যাবলেট ঔষধটি ডায়রিয়া হবার সময়কার এক তৃতীয়াংশ কমিয়ে আনতে পারে। জিংক ট্যাবলেট বা সিরাপ ডায়রিয়া বন্ধ করতে দারুন কার্যকর। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী ৮ থেকে ১২ দিনের জন্য ১৫ মিলিগ্রাম করে জিংক ট্যাবলেট অথবা সিরাপ খাওয়াতে পারবেন।

পুষ্টি সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া
ডায়রিয়ার কারণে শরীর থেকে বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান গুলো বের হয়ে যায়। তাই ডায়রিয়ার ওষুধ কিংবা স্যালাইনের সাথে পুষ্টি সমৃদ্ধ খাবারও খেতে হবে। কারণ ডায়রিয়া হলে শরীরে পুষ্টির অভাব দেখা দেয়। এক্ষেত্রে এ সময় পুষ্টি সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া খুবই জরুরী। পুষ্টি সমৃদ্ধ খাবার খেলে শরীরে পর্যাপ্ত পরিমাণে পুষ্টি চাহিদা পূরণ হবে এবং শরীরে ক্লান্তি বা দুর্বল লাগবে না। সুতরাং ডায়রিয়ার সমস্যা দেখা দিলে বেশি পরিমাণে পুষ্টি সমৃদ্ধ খাবার সেবন করা জরুরী।

আরো পড়ুনঃ সর্দি হলে কি খাওয়া উচিত - সর্দি থেকে মুক্তি পাওয়ার ঘরোয়া উপায়

অতিরিক্ত তৈলাক্ত খাবার থেকে বিরত থাকা
ডায়রিয়া হলে অবশ্য বেশি পরিমাণে পানি ও তরল জাতীয় খাবার গুলো খেতে হবে। ডায়রিয়া বা পাতলা পায়খানা হলে অতিরিক্ত পরিমাণে তৈলাক্ত খাবার বা যে সকল খাবারের পেটে এসিডিটি সৃষ্টি হতে পারে এ সকল খাবার থেকে বিরত থাকতে হবে। কেননা এ সকল তৈলাক্ত খাবার পেটে বদহজম সমস্যা করে। তাই ডায়রিয়ার সময় এ ধরনের তৈলাক্ত খাবার খেলে বেশি সমস্যা বেড়ে যেতে পারে।

ডায়রিয়া হলে কি খাওয়া যাবে

বর্তমান সময়ে ডায়রিয়ার একটি কমন সমস্যা। এজন্য ডায়রিয়া হলে যে খাবারগুলো খাওয়া যাবে সেগুলো সম্পর্কে জেনে রাখা অত্যন্ত জরুরী। ডায়রিয়া হলে কি খাওয়া যাবে এ সম্পর্কে জানা থাকলে আপনি খুব সহজে ডায়রিয়া সমস্যা থেকে সেরে উঠতে পারবেন এছাড়াও আপনার পরিবার কিংবা বন্ধুদের কারো ডায়রিয়া হলে করনীয় কি - ডায়রিয়া হলে কি ঔষধ খাওয়া উচিত এ সম্পর্কে পরামর্শ দিতে পারবেন। চলুন তাহলে জেনে নেওয়া যাক ডায়রিয়া হলে যে খাবারগুলো খাবেন বা সে খাবার গুলোর তালিকা সম্পর্কে। ডায়রিয়া হলে পটাশিয়াম সমৃদ্ধ পুষ্টিকর খাবার হলো খাওয়া শরীরের জন্য।
  • ডাবের পানি
  • লেবু
  • ডালিম
  • কমলা
  • মধু
  • কবুতর অথবা মুরগির মাংস
  • ফলের রস
  • কাঁচা কলা
  • টক দই
  • আলু
  • তরল খাবার
  • সবজি খিচুড়ি
  • স্যালাইন

ডায়রিয়া হলে কি কি খাওয়া যাবে না

উপরোক্ত আলোচনা থেকে ডায়রিয়া হলে করনীয় কি - ডায়রিয়া হলে কি ঔষধ খাওয়া উচিত এ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেছি। হলে আমাদের অনেক কিছু নিয়ম মেনে খাবার খেতে হয়। অর্থাৎ কোন খাবারগুলো খেলে আমাদের ডায়রিয়ার সমস্যা কমে যাবে। এ কারণে আপনাকে অবশ্যই ডায়রিয়া হলে কি কি খাওয়া যাবে না সে সম্পর্কে জানতে হবে। চলুন তাহলে যে সকল খাবারগুলো খাবেন না সেগুলো নিম্নে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো-

দুধ
আপনার ডায়রিয়া সম্পূর্ণ ভালো হওয়া না পর্যন্ত দুধ বা দুধ জাতীয় কোন ধরনের খাবার খাবেন না। কেননা দুধ হজমে সমস্যা সৃষ্টি করে এবং ডায়রিয়ার সময় পেটে গ্যাসের সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। সুতরাং ডায়রিয়ার সমস্যায় দুধ না খাওয়াই উত্তম।

চা কিংবা কফি
ডায়রিয়া সমস্যায় আপনি কখনোই চা কিংবা কফি খাবেন না। কারণ এগুলোতে থাকা ক্যাফেইন  জাতীয় খাবার। ডায়রিয়া সমস্যায় চা কিংবা কফি খেলে আপনার পেটের জ্বালাপোড়া সমস্যা বৃদ্ধি পেতে পারে। তবে আপনি আদা চা খেতে পারবেন।

ঝাল কিংবা অতিরিক্ত তেল জাতীয় খাবার
ডায়রিয়ার সমস্যায় কখনোই আপনি ঝাল বা মসলা জাতীয় খাবার খাবেন না। এছাড়াও অতিরিক্ত ডুবো তেলে ভাজা খাবার এড়িয়ে চলুন। কারণ অতিরিক্ত তেল আপনার পেটে এসিডের সমস্যা হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে আর এ কারণে ডায়রিয়ার সমস্যা বেড়ে যাবে।


মদ্যপান করা
ডায়রিয়া একটি জীবাণুবাহিত রোগ। ডায়রিয়া হলে আপনি অ্যালকোহল বা মদ্যপান থেকে বিরত থাকুন। এতে হজমের সমস্যা বেড়ে যায়। তাই ডায়রিয়া সম্পূর্ণ ভালো না হওয়া পর্যন্ত মদ্যপান থেকে বিরত থাকুন।

ডায়রিয়া হলে কি ফল খাওয়া যাবে

ডায়রিয়া হলে ফল খাওয়া শরীরের জন্য খুবই উপকারী। তবে ডায়রিয়া হলে এমন কিছু ফল খেতে হবে যেগুলো রসালো এবং প্রচুর পরিমাণে পানি পাওয়া যাবে। অর্থাৎ আপনাকে ফলমূল খেতে হবে যেগুলোতে অধিক পরিমাণে রস জাতীয় । রস জাতীয় ফল খাওয়ার ফলে শরীরে পানি শূন্যতার অভাব পূরণের সাহায্য করবে। কেননা ডায়রিয়া হলে শরীর থেকে প্রচুর পরিমাণে পানি বের হয়ে যায়। এর ফলে শরীরে পানি শূন্যতা এবং পুষ্টির পরিমাণ কমে যায়।

সুতরাং রসালো বা পানি জাতীয় ফল বেশি বেশি পরিমাণে খাওয়া জরুরী যেমন ডাবের পানি, কমলা, আনারস, তরমুজ। পেয়ারা। এ ধরনের ফল থেকে প্রচুর পরিমাণে পানি পাওয়া যায়। তাই চেষ্টা করবেন ডায়রিয়া হলে রসালো ফল খাওয়ার কারণ  রসালো ফল খেলে ডায়রিয়া সমস্যা থেকে দ্রুত সুস্থ করতে সাহায্য করে। আশা করি জানতে পেরেছেন যে ডায়রিয়া হলে আপনি কোন ধরনের ফলগুলো খেতে পারেন।

ডায়রিয়া হলে কি ওষুধ খাওয়া উচিত

ডায়রিয়া সমস্যা হলে এটিকে বন্ধ করতে বিভিন্ন ধরনের ঔষধ খেতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ডায়রিয়া কোন ধরনের ঔষধ খাওয়া প্রয়োজন হয় না। অনেকেই জানেনা ডায়রিয়া হলে করনীয় কি - ডায়রিয়া হলে কি ঔষধ খাওয়া উচিত এই সম্পর্কে। ডাইরিয়া হলে আমাদের শরীর থেকে পানি ও লবণ বেরিয়ে যায় এজন্য খাওয়ার স্যালাইন খেলেই চলবে। এছাড়াও বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ডায়রিয়া নিজে থেকেই কমে যায়। ডায়রিয়া সমস্যা দেখা দিলে ঔষধের দোকানে গেলে দোকানদার বিভিন্ন ধরনের ঔষধ খাবার পরামর্শ দেন যেমন-ফ্লাজিল,মেট্রোনিডাজল ইত্যাদি এন্টিবায়োটিক ঔষধ।


কিন্তু ডায়রিয়ার সমস্যায় এ ধরনের ঔষধ খাওয়ার প্রয়োজন হয় না। খাবার স্যালাইন ছাড়া ঔষধ খাওয়া উচিত নয়। এ ধরনের ওষুধ খেলে ডায়রিয়ার সমস্যা ভালো হয় না বরং শরীরে আরো ক্ষতি হয়। যেহেতু ডায়রিয়া হলে আমাদের শরীর থেকে প্রচুর পরিমাণে পানি বের হয়ে যায় এজন্য বেশি বেশি পানি এবং তরল জাতীয় খাবার খেলে ডায়রিয়া সমস্যা সেরে যায়। সুতরাং এন্টিবায়োটিক জাতীয় ঔষধ সেবন না করাই ভালো। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ঔষধ সেবন করা উচিত।

ডায়রিয়া প্রতিরোধে করণীয়

চিকিৎসকদের মতে প্রতিকার চেয়ে প্রতিরোধ করা উত্তম। ডায়রিয়া রোগের কিছু পদ্ধতি অবলম্বন করে খুব সহজে এ রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। তাই ডায়রিয়া প্রতিরোধে স্বাস্থ্যসম্মত জীবন যাপন ও খাদ্যাভ্যাসের পাশাপাশি আরো যেসব বিষয় মেনে চলা জরুরী সেগুলোর নিচে আলোচনা করা হলো-
  • পর্যাপ্ত পরিমাণে বিশুদ্ধ পানি পান করা।
  • খাবার খাওয়ার আগে ও পরে হাত ভালো করে ধুয়ে পরিষ্কার করে নেওয়া।
  • অতিরিক্ত বাহিরে খোলা খাবার খাওয়া থেকে বিরত থাকা।
  • অতিরিক্ত তৈলাক্ত ও পচা বাঁশি খাবার গ্রহণ না করা।
  • পায়খানা থেকে বের হয়ে হাত সাবান দিয়ে ধোঁয়া।
  • মলত্যাগের জন্য স্যানিটারি পায়খানা ব্যবহার করা।
  • বারবার হাত ধোয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন।
  • নিজে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকুন এবং আশেপাশে পরিষ্কার রাখুন।

সর্বশেষ কথা

প্রিয় বন্ধুরা আজকের আলোচনা শেষে জানতে পেরেছেন ডায়রিয়া হলে করনীয় কি - ডায়রিয়া হলে কি ঔষধ খাওয়া উচিত সে সম্পর্কে বিস্তারিত। এছাড়াও এই আর্টিকেলে আরো জানতে পারবেন ডায়রিয়া প্রতিরোধে করণীয়,ডায়রিয়া হলে কি ফল খাওয়া যাবে, ডায়রিয়া হলে কি কি খাওয়া যাবে না, ডায়রিয়া হলে কি খাওয়া যাবে। ডায়রিয়ার লক্ষণ ইত্যাদি সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।

তুমি আসবে বলে বাসসম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়লে আপনি ডায়রিয়া রোগ থেকে মুক্তি পাওয়ার প্রয়োজনীয় তথ্য খুঁজে পাবেন এবং উপকৃত হবেন। এ ধরনের আরো প্রয়োজনীয়মূলক তথ্য পেতে নিয়মিত আমার লেখা আর্টিকেল পড়ুন। আজকের এই আর্টিকেলটি পড়ে যদি ভালো লেগে থাকে তাহলে অবশ্যই পরিবার কিংবা বন্ধুদের সঙ্গে শেয়ার করবেন। সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি ধৈর্য সহকারে পড়ার জন্য ধন্যবাদ।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url