শীতে ঠোঁট ফাটা থেকে মুক্তি পাওয়ার ১৫ টি ঘরোয়া উপায় জেনে নিন

প্রিয় বন্ধুরা, আপনি কি আপনার ঠোঁট ফাটা সমস্যা নিয়ে চিন্তিত? বিভিন্ন ধরনের কসমেটিকস পণ্য ব্যবহার করে ও সমাধান করতে পারছেন না। কিন্তু আপনি শীতে ঠোঁট ফাটা থেকে মুক্তি পাওয়ার ঘরোয়া উপায় কিংবা ঠোঁটের মরা চামড়া দূর করার উপায় সম্পর্কে জানেন না। তাহলে আজকের এই আর্টিকেলটি সম্পূর্ণ পড়ুন। এই আর্টিকেলে শীতে ঠোঁট ফাটা থেকে মুক্তি পাওয়ার ঘরোয়া উপায় সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে আলোচনা করেছি।
শীতে ঠোঁট ফাটা থেকে মুক্তি পাওয়ার ১৫ টি ঘরোয়া উপায়
আশা করছি এ আর্টিকেলটি পড়ে শীতে ঠোঁট ফাটা থেকে মুক্তি পাওয়ার ঘরোয়া উপায় সম্পর্কে জানতে পেরেছেন এবং প্রয়োজনীয় তথ্য খুজে পেয়েছেন। তাহলে দেরি না করে সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ে ফেলুন এবং বিস্তারিত জেনে নিন।

ভূমিকা

শীতে ঠোঁট ফাটা খুবই কমন একটি সমস্যা। নারী পুরুষ সবারই কম বেশি এই সমস্যা নিয়ে ভোগেন। শীতকাল আসলেই শুষ্ক ত্বক, ঠোঁট ফাটা, খুশকির সমস্যা গুলো বেশি হয়ে থাকে। শীতের আবহাওয়া বাতাসের আদ্রতা কম থাকে। এর ফলে ত্বকের পাশাপাশি ঠোঁট শুষ্ক হয়ে যায় এর থেকে ঠোঁটফাটা শুরু হয়। ঠোঁটফাটা যেমন যন্ত্রণাদায়ক তেমনি প্রাণবন্ত হাসির অন্তরায়।


কারণ ঠোঁট ফেটে যাওয়ার ফলে রক্তক্ষরণ হয়। অনেকে বিভিন্ন ধরনের লিপ-বাম বা লিপজেল ব্যবহার করে এর থেকে স্বস্তি পায় না। অথচ শীতে ঠোঁট ফাটা থেকে মুক্তি পাওয়ার ঘরোয়া উপায় বাড়িতেই রয়েছে। যে উপাগুলো অনুসরণ করে সহজে ঠোঁটফাটা থেকে মুক্তি পাবেন।

ঠোঁট ফাটার কারণ কি

শীতকালে বিভিন্ন ধরনের সমস্যার মধ্যে ঠোঁট ফাটা একটা স্বাভাবিক ঘটনা। বিভিন্ন কারণে এই ঠোঁট ফাটার সমস্যা দেখা দেয়। ঠোঁট ফাটার অন্যতম একটি কারণ হচ্ছে ঠোঁট ও শরীরে আদ্রতার অভাব। শীতকালে বাতাসের আদ্রতা কম থাকে এ কারণে ঠোঁট ফাটা সমস্যা বেশি হয়। এছাড়াও লক্ষ্য করে দেখবেন শরীরে পানি শূন্যতা হয়ে পড়লে যে কোনো ঋতুতেই ঠোঁট ফাটা দেখা দিতে পারে। অনেকের ঠোঁট ফাটার কারণ কি অথবা শীতে ঠোঁট ফাটা থেকে মুক্তি পাওয়ার ঘরোয়া উপায় এ সম্পর্কে জানে না। তাহলে জেনে নিন ঠোঁট ফাটার কারণ গুলো সম্পর্কে বিস্তারিত।
  • অত্যধিক ঠোঁট জিব্বাহ দিয়ে ভিজিয়ে রাখা।
  • অতিরিক্ত সূর্যের ক্ষতিকর তাপ।
  • থাইরয়েড অবস্থা, উচ্চ রক্তচাপ বা ব্রণের জন্য নির্দিষ্ট কিছু ঔষধ।
  • পর্যাপ্ত পরিমাণ মতো পানি পান না করা।
  • ধূমপান করা।
  • সোডিয়াম লরেল সালফেট যুক্ত টুথপেস্ট ব্যবহার করা।
  • এলার্জি জনিত সমস্যা।
  • নিয়মিত সুষম ও পুষ্টিকর খাবার না খাওয়া।
  • নির্দিষ্ট কিছু ঔষধ যেমন রেটিনোয়েড বা কোমো থেরাপি ঔষধ।
  • রাসায়নিক মিশ্রিত লিপস্টিক সামগ্রী ব্যবহার করা।

উপরোক্ত যে বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে এগুলোর কারণে মূলত ঠোঁট ফাটা সমস্যা হয়ে থাকে। যাদের গরম অথবা শীতকালে অত্যাধিক ঠোঁট ফাটে তারা অবশ্যই উপরে বিষয়গুলো মেনে চলবেন। এর ফলে ঠোঁটফাটা থেকে সহজেই মুক্তি পেতে পারেন।

ঠোঁট ফাটে কোন ভিটামিনের অভাবে

প্রিয় বন্ধুরা আজকের আর্টিকেলে আপনারা ঠোঁট ফাটে কোন ভিটামিন অভাবে এ বিষয়ে জানতে পারবেন। আমাদের শরীরের অনেক সময় বিভিন্ন রকমের ভিটামিনের অভাবে বিভিন্ন ধরনের রোগের সৃষ্টি হয়ে থাকে ঠিক তেমনি কিছু ভিটামিন অভাবেও ঠোঁট ফেটে যায়। তবে আমরা অনেকেই জানিনা আসলে ঠোঁট ফাটে কোন ভিটামিনের অভাবে। আসুন তাহলে জেনে নেওয়া যাক ঠোঁট ফাটে কোন ভিটামিনের অভাবে।

ভিটামিন সি এর অভাব
ভিটামিন সি আমাদের শরীরের জন্য খুবই উপকারী। কারণ ভিটামিন সি আমাদের শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। ভিটামিন সি এর অভাবে মাড়ি ফুলে যাওয়া, মারে থেকে রক্তপাত (স্কার্ভি) এবং ঠোট ফেটে যাওয়া সহ বিভিন্ন ধরনের সমস্যা দেখা দেয়।

ভিটামিন বি এর অভাব
বিশেষত ভিটামিন বি - ১২ (রিবোফ্লাভিন) এর অভাবে ঠোঁট ঠোঁট ফেটে যায়। এছাড়াও ভিটামিন বি এর অভাবে ঠোঁটের কোণের ত্বকে ফাটল এবং ঘা দেখা দেয়। প্রতিদিনের খাবারে তালিকায় ভিটামিন বি সমৃদ্ধ খাবার খাওয়ার অভ্যাস করুন। প্রতিদিন একটি ভিটামিন বি কমপ্লেক্স গ্রহণ করার ফলে শরীর সুস্থ ও ঠোঁটফাটা রোধ করতে সাহায্য করে।


ভিটামিন এ অভাব
ভিটামিন এ আমাদের শরীরের জন্য কার্যকরী উপাদান। ভিটামিন এ শরীরে পর্যাপ্ত পরিমাণে জমে থাকে। কিন্তু অতিরিক্ত ভিটামিন এ ত্বক সুষ্ক এবং ঠোঁট ফাটার কারণ হতে পারে।

উপরোক্ত আলোচিত ভিটামিন গুলোর অভাবে ঠোঁট ফাটা সমস্যা হয়ে থাকে। এছাড়াও ভিটামিন বি ২ ভিটামিন বি ৬ এবং ভিটামিন বি ৯ এর অভাবেও ঠোঁট ফেটে যেতে পারে। ঠোঁট ফাটা প্রতিরোধ করতে চাইলে এ সকল ভিটামিনের চাহিদা পূরণ করতে পারে সেই ধরনের ভিটামিন যুক্ত খাবার বেশি বেশি খেতে হবে। আশা করছি জানতে পেরেছেন ঠোঁট ফাটে কোন ভিটামিনের অভাবে।

ঠোঁটের মরা চামড়া দূর করার উপায়

মুখের সৌন্দর্যের অন্যতম অংশ হলো ঠোঁট। ঠোঁটের মরা চামড়া ও ফাটার সমস্যায় অনেকেই ভোগে থাকেন। এক একজনের ঠোঁটের ধরন একেক রকম হয়ে থাকে। ঠোঁট যেহেতু আমাদের শরীরের গুরুত্বপূর্ণ একটি অঙ্গ তাই এর সঠিক যত্ন নেওয়া খুব প্রয়োজন। শুধু শীতেই নয় অনেকেরই সারা বছরেই ঠোঁটের মরা চামড়া সমস্যা হয়ে থাকে। তাই ঠোঁটের মরা চামড়া দূর করার উপায় সম্পর্কে জানতে হবে। ঠোঁটের মরা চামড়া দূর করতে এবং ঠোঁট ফাটা রোধ করতে অবশ্যই প্রতিদিন ঠোঁটের যত্ন নিতে হবে। তাহলে জেনে নিন ঠোঁটের মরা চামড়া দূর করার উপায় সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য।

ঘি এর ব্যবহার
ঠোঁটের মরা চামড়া দূর করতে ঘি ব্যবহার করুন। ঘি এ থাকা উপাদান দীর্ঘ সময় পর্যন্ত ঠোঁট নরম রাখে এবং শুষ্ক হতে দেয় না। এছাড়াও এটি আপনার ঠোঁটের ফাটা বা অ্যালার্জিজনিত সমস্যা দূর করে। রাতে ঘুমানোর আগে সামান্য পরিমাণ ঘি আপনার ঠোঁটে লাগান। এতে আপনার ঠোঁট শীতে কোনোভাবেই ঠোঁটে মরা চামড়া হবে না।

তেল ব্যবহার
ঠোঁটকে কোমল ও লাবণ্যময় রাখতে তেল খুব ভালো একটি উপাদান। ঠোঁটের মরা চামড়া দূর করতে নারিকেল তেল, অলিভ অয়েল, ক্যাস্টর অয়েল বাদামের তেলের ফ্যাটি এসিড যা ঠোঁটকে নরম রাখতে সাহায্য করে। ১ চামচ নারকেল তেলের সঙ্গে অলিভ অয়েল বা বাদামের তেলের সঙ্গে দুই থেকে তিন ফোটা টি ট্রি তেল মিশিয়ে হালকা কুসুম গরম করে নিন। ঠান্ডা করে নিয়ে দিনে এবং রাতে ঘুমানোর আগে লাগিয়ে রাখুন।

মধু ও গ্লিসারিন
মধু আমাদের ত্বকের জন্য খুবই কার্যকরী উপাদান। মধু ও গ্লিসারিন সমপরিমাণ মিশে একটা মিশ্রণ তৈরি করে কৌটায় রেখে ব্যবহার করতে পারেন। এতে আপনার ঠোঁট ফাটা ও ঠোঁটের মরা চামড়া দূর করতে সহায়তা করে। দিনে ২ থেকে ৩ ব্যবহার অথবা রাতে ঘুমানোর সময় লাগিয়ে সারারাত রাখুন। নিয়মিত ব্যবহারের ফলে আপনার ঠোঁটের মরা চামড়া দূর করার সহ ঠোঁটের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে।

লেবুর রস ও চিনি
লেবুর রস ও চিনি মিশিয়ে ঠোঁটে হালকা ম্যাসাজ করুন। ঠোঁট ফাটার কারনে লেবুর রসে ঠোট সামান্য জ্বলতে পারে। তবে এতে ভয়ের কিছু নেই কিছুক্ষণ পরেই ঠিক হয়ে যাবে। ঠোঁটে মরা চামড়া দূর করার পাশাপাশি ঠোঁটের কালো দাগ দূর করতেও এই মিশ্রণটি কার্যকর।

অলিভ অয়েল ও চিনি
ঠোঁটে মরা চামড়া দূর করার উপায় এর মধ্যে এই পদ্ধতি টি ব্যবহার করুন। ২ চামচ চিনির সঙ্গে ১ চামচ পরিমাণ অলিভ অয়েল মিশিয়ে নিন। এটি ঠোটে হালকা করে ঘুষে ৫ থেকে ১০ মিনিট পর হালকা কুসুম গরম পানি দিয়ে ধুয়ে নিন। সপ্তাহে অন্তত দুই দিন এই পদ্ধতি অবলম্বন করলে ঠোঁট নরম ও লাবণ্যময় হবে।

শসা
শসা আমাদের শরীরের জন্য কতটা কার্যকর উপাদান সেটা অনেকেই জানেনা। শীতে ঠোঁট ফাটা রক্ষা করার জন্য আপনি নিশ্চিন্তে এই উপাদানটি ব্যবহার করতে পারেন। শসার রস তুলোর সাহায্যে ঠোঁটে লাগান। ৫ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন। এতে খুব সহজেই ঠোঁটের মরা চামড়া দূর করতে পারবেন।

শীতে ঠোঁট ফাটা থেকে মুক্তি পাওয়ার ঘরোয়া উপায়

শীতের ঠান্ডা আবহাওয়ায় ঠোঁট ফাটা শুরু হয়। শীতে বাতাসের আদ্রতা কম থাকায় ত্বকের চেয়েও বেশি শুষ্ক হয়ে যায় ঠোঁট। ঠোঁট ফাটা দূর করার জন্য অনেকেই বিভিন্ন ধরনের পণ্য সামগ্রী ব্যবহার করেও এর থেকে মুক্তি না। কিন্তু শীতে ঠোঁট ফাটা থেকে মুক্তি পাওয়ার ঘরোয়া উপায় সম্পর্কে জানেনা। তাই কিছু নিয়ম মেনে চললে আপনি ও ঠোঁটফাটা থেকে মুক্তি পেতে পারেন।

অ্যালোভেরা
অ্যালোভেরা জেল আমাদের ত্বকের জন্য খুবই উপকারী। অ্যালোভেরা জেল ঠোঁটের শুষ্কতা দূর করতে সহায়তা করে। অ্যালোভেরা থাকা প্রাকৃতিক উপাদান ঠোঁট ফাটা সহ ঠোঁটের মরা চামড়া দূর করতে সাহায্য করে। অ্যালোভেরা পাতা থেকে থকথকে জেল বের করে একটি কৌটায় সংরক্ষণ করুন। এই জেল রাতে ঘুমানোর সময় ঠোঁটে লাগিয়ে রাখুন। সকালে ঘুম থেকে উঠে ধুয়ে ফেলুন। দীর্ঘ সময় অ্যালোভেরা জেল সংরক্ষণ করতে ফ্রিজে রাখতে পারেন। নিয়মি রাতে এটির ব্যবহারের ফলে সমস্যা থেকে খুব দ্রুত মুক্তি পাবেন।

মধু ও ভ্যাসলিন
মধুতে অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়া জাত পদার্থ থাকে এবং ভ্যাসলিন ঠোঁটকে কোমল ও নমনীয় করতে সাহায্য করে। এছাড়াও ত্বক রুক্ষ হয়ে যাওয়া রোধ করে। এই দুটো উপাদান একসঙ্গে মিশিয়ে ঠোঁটে ব্যবহার করা হয়। তাহলে ঠোঁটের জন্য যেমন উপকারী তেমনি আবার ঠোঁট ফাটা দূর করতেও কার্যকর। মধু ও ভ্যাসলিন প্রাকৃতিক ময়েশ্চারাইজারের কাজ করে। তাই ঘরে থাকা মধু ও ভ্যাসলিন দিয়ে খুব সহজেই ঠোঁটফাটা দূর করতে পারবেন।


প্রথমে ঠোটে মধু লাগিয়ে পাঁচ মিনিট রেখে দিন। এতে করে ঠোটের ওপর পাতলা স্তর আবরণ সৃষ্টি হবে। এরপর ভ্যাসলিন লাগিয়ে ১০ থেকে ১৫ মিনিট অপেক্ষা করুন। টিস্যু বা কাপড় ব্যবহার করে ঠোঁটের এই আস্তরণ তুলে ফেলুন। সপ্তাহ অন্তত ৩ থেকে ৪ দিন এইভাবে ভ্যাসলিন ও মধু ব্যবহার করলে ঠোঁট ফাটা থেকে ম্যাজিকের মতো সমাধান পাবেন।

নারিকেল তেল
দীর্ঘকাল ধরেই ঠোঁটফাটা প্রতিরোধ করতে নারিকেল তেলের ব্যবহার হয়ে আসছে। নারিকেল তেলে প্রচুর পরিমাণে ফ্যাটি অ্যাসিড থাকে, যা ঠোঁটের শুষ্কতা দূর করে দেয়। তাই ঠোঁট ফাটা দূর করতে নিয়মিত ঠোটে নারকেল তেল ব্যবহার করুন। এছাড়াও অলিভ অয়েল, ক্যাস্টর অয়েল এবং বাদামের তেলে প্রাকৃতিক ভাবে ময়েশ্চারাইজারের কাজ করে। এই তেল গুলো ঠোঁটকে নরম ও কোমল রাখতে সহায়তা করে।

গ্লিসারিন
শীতকালে হাত পা ফাটার সমস্যার পাশাপাশি ঠোঁট ফাটার সমস্যা হয়। তবে নিয়মিত ঠোঁটে গ্লিসারিন লাগালে ঠোঁটফাটা সমস্যা কখনোই দেখা দিবে না। দিনে অথবা রাতে ঘুমানোর সময় ঠোটে গ্লিসারিন দিয়ে ম্যসাজ করে ঘুমান। নিয়মিত ব্যবহারের ফলে ঠোঁটফাটা দূর হবে এবং ঠোঁট হবে কোমল।

গোলাপের পাপড়ি ও দুধ
দুধ ত্বকের জন্য প্রাকৃতিক ময়েশ্চারাইজার হিসেবে খুবই উপকারী। নিয়মিত ঠোটে কাঁচা দুধ ব্যবহার করলে ভালো ফলাফল পাওয়া যায়। কাঁচা দুধের সঙ্গে কিছু গোলাপের পাপড়ি ভিজিয়ে রেখে দিন। এরপর পেস্ট তৈরি করে ঠোঁটে লাগান। ঠোঁট ফাটা দূর করার এবং ঠোঁটকে গোলাপি করতেও এই প্যাক দারুণ কার্যকরী।

চিনি ও মধুর স্ক্রাব
ঠোঁটের মরা চামড়া কারণে ঠোঁট শুষ্ক হয়ে যায়। তাই মধুর সঙ্গে চিনি মিশিয়ে ঠোঁটে কিছুক্ষণ আলতো করে ম্যাসাজ করুন। এরপর ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ভ্যাসলিন লাগিয়ে রাখুন। ঠোঁট ফাটা দূর করতে সপ্তাহ অন্তত ২ দিন চিনি ও মধুর স্ক্রাবিং করুন।

অলিভ অয়েল
অলিভ অয়েল প্রাকৃতিক ময়েশ্চারাইজার হিসেবে ঠোঁটকে সুরক্ষা দেয়। এতে ফ্যাটি এসিড নামক উপাদান রয়েছে যা ত্বকে শুষ্কতা দূর করার পাশাপাশি ঠোঁটফাটা দূর করে। দিনে ২ থেকে ৩ বার অলিভ অয়েল ব্যবহারে ঠোট নরম ও কোমল হবে।

উপরোক্ত উপায় গুলো থেকে জানতে পেরেছেন ঠোঁটফাটা দূর করার উপায় সম্পর্কে। উপরের ঘরোয়া উপায় গুলো ব্যবহারের ফলে ঠোঁট ফাটা দূর করার পাশাপাশি ঠোঁটকে নরম ও গোলাপি করতে সাহায্য করে। এছাড়াও এই উপাদান গুলো ব্যবহারে কোন পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া নেই। এছাড়াও শীতকালে আমরা অনেকেই পানি কম পরিমাণে পান করে থাকে। এর ফলে ত্বক ও ঠোটের আদ্রতা হারায়। শরীরে পানি শূন্যতা থাকলে ঠোঁটের উজ্জ্বলতা নষ্ট হয়ে যায়। শীতকালে ত্বকের পাশাপাশি ঠোঁটের যত্ন নেওয়া জরুরি।

প্রাকৃতিকভাবে ঠোঁট গোলাপি করার উপায়

মুখের সৌন্দর্যের অন্যতম অঙ্গ ঠোঁট। আকর্ষণীয় গোলাপি ঠোঁট নিমিষে মুখে সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে দিতে পারে দ্বিগুণ। কিন্তু অনেকেই ঠোঁট বিভিন্ন কারণে কালচে হয়ে যায়। ঠোঁটের এই কালো দাগের জন্য বিব্রতকর অবস্থায় পড়তে হয় অনেকের। অনেকে আবার ঠোঁটের এই কালো দাগ ঢেকে রাখতে লিপস্টিক ব্যবহার করেন। ঠোঁটকে আকর্ষণীয় গোলাপি করার জন্য অনেকে বিভিন্ন ধরনের লিপ পাম ব্যবহার করে। কিন্তু এগুলো সব অস্থায়ী সমাধান। প্রাকৃতিকভাবে ঠোঁট গোলাপি করার উপায় সম্পর্কে অনেকেই জানে না। আসুন তাহলে জেনে নেওয়া যাক প্রাকৃতিকভাবে ঠোঁট গোলাপি করার উপায় সম্পর্কে।

বিটরুট থেরাপি
বিটরুট ঠোঁট গোলাপি করা ও উজ্জ্বলতা বাড়াতে বেশ কার্যকরী উপাদান। বিটরুটে থাকা গোলাপি রস ঠোঁটের কালো দাগ দূর করতে সাহায্য করে। তাই বিটরুটের তাজা রস নিয়মিত ঠোঁটে ব্যবহারে ঠোঁটের কালচে দাগ দূর হয়ে যায়।

বরফ থেরাপি
ঠোঁটের কালো দাগ দূর করতে বরফের এই গুণটি সম্পর্কে অনেকেই ধারণা রাখেন না। যে কোন দাগের ওপর বরফ ম্যাসাজে খুব সহজেই দাগ হালকা হয়ে যায়। প্রতিদিন এক টুকরো বরফ ঠোঁটে ঘষুন যা আপনার ঠোঁটের কালো দাগ দূর হবে।

দুধের সর
প্রাচীনকাল থেকেই ঠোঁটের কালো দাগ দূর করতে দুধের সরের ব্যবহার হয়ে আসছে। দুধের সর এর সঙ্গে মধু মিশিয়ে ঠোঁটে লাগান। প্রাচীনকালের রানীরা এই পদ্ধতি অবলম্বন করতেন। বেশ কিছুদিন কয়েকবার ব্যবহারে আপনার ঠোঁট আকর্ষণীয়ভাবে গোলাপি রঙের হবে।

আরো পড়ুনঃ খুশকি থেকে মুক্তি পাওয়ার ১০ টি সহজ ঘরোয়া উপায়

গোলাপের পাপড়ির নির্যাস
আকর্ষণীয় গোলাপি ঠোঁট পেতে চাইলে ব্যবহার করতে পারেন গোলাপের পাপড়ি নির্যাস। গোলাপের নির্যাস এর সাথে এক চামচ মধুর মেশান। এই মিশ্রণটি ঠোঁটে হালকা করে ম্যাসাজ করুন। এছাড়াও কাঁচা দুধের সঙ্গে গোলাপের পাপড়ি ভিজিয়ে রেখে পেস্ট তৈরি করে লাগালেও ভালো উপকার পাবেন।

ডালিমের রস
ডালিম দানা রস তৈরি করে ঠোঁটে ঘষুন। আপনি চাইলে সামান্য পরিমাণে ঘি মেশাতে পারেন। এই মিশ্রণটি ঠোঁটের মরা চামড়া দূর করার পাশাপাশি প্রাকৃতিকভাবে ঠোঁটে গোলাপি আভা আনবে।

লেবুর রস
লেবুর রস আমাদের কাছে খুবই ভালো একটি ব্লিচিং উপাদান হিসেবে পরিচিত। ত্বকের পাশাপাশি ঠোঁটের কালচে ভাব দূর করতে খুবই উপকারী। রাতে ঘুমানোর সময় সামান্য লেবুর রস ঠোঁটে ব্যবহার করুন। কিছুদিন ব্যবহারের মধ্যেই ঠোঁটের রঙের পার্থক্য দেখতে পাবেন।

শেষ কথা

শীতকালে ঠোঁট কমবেশি সবার ফেটে যাওয়ার সমস্যা দেখা যায়। তবে শীতে ঠোঁট ফাটা থেকে মুক্তি পাওয়ার ঘরোয়া উপায় অবলম্বন করে এই সমস্যা দূর করা যায়। এছাড়াও কিছু নিয়ম রয়েছে যেগুলো আপনি শীতকালে অনুসরণ করবেন। যেমন সব সময় ঠোঁটে লিপ বাম লিপ জেল ব্যবহার করুন। ঠোঁটে কখনো নিম্নমানের লিপস্টিক ব্যবহার করবেন না। কারণ এতে ঠোট কালচে হয়ে যায় এবং ঠোঁটে মরা চামড়া উঠতে পারে। শীতের জন্য ঠোঁটে ম্যাট লিপস্টিক লিপস্টিক ব্যবহার করবেন না। ঠোঁটের শুষ্কতা প্রতিরোধ করতে ঠোট চাটা এড়িয়ে চলুন।

এটি ঠোঁট ফাটা সমস্যার মূল কারণ হতে পারে। আজকের এই আর্টিকেলে শীতে ঠোঁট ফাটা থেকে মুক্তি পাওয়ার ঘরোয়া উপায় এবং ঠোঁটের মরা চামড়া দূর করার উপায় গুলো নিয়ে বিস্তারিত ভাবে আলোচনা করেছি। যা পরে আপনি উপকৃত হবেন। এই ধরনের আরো প্রয়োজনীয় মূলক তথ্য পেতে নিয়মিত আমার লেখা আর্টিকেলগুলো পড়ুন। সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ার জন্য ধন্যবাদ।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url