প্রেগন্যান্সি টেস্ট করার ১০ টি সেরা ঘরোয়া পদ্ধতি সম্পর্কে জানুন

 

প্রিয় পাঠক, আপনি কি প্রেগন্যান্সি টেস্ট করার সেরা ঘরোয়া পদ্ধতি সম্পর্কে জানতে চাচ্ছেন। কিংবা সহবাসের কতদিন পর প্রেগন্যান্সি টেস্ট করা যায় এটা ও জানেন না। তাই আপনাদের সুবিধার্থে প্রেগন্যান্সি টেস্ট করার সেরা ঘরোয়া পদ্ধতি সম্পর্কে আজকের এই আর্টিকেল। আশা করছি আর্টিকেলটি পড়ে প্রেগন্যান্সি টেস্ট করার সেরা ঘরোয়া পদ্ধতি সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারবেন। তাহলে দেরি না করে সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ে ফেলুন এবং বিস্তারিত তথ্য জেনে নিন।
প্রেগন্যান্সি টেস্ট করার সেরা ঘরোয়া পদ্ধতি
প্রেগন্যান্সি টেস্ট করার সেরা ঘরোয়া পদ্ধতি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য এই আর্টিকেলে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। আশা করছি আপনার প্রয়োজনীয় তথ্য এই আর্টিকেলের সাহায্যে পেয়ে যাবেন এবং পড়ে উপকৃত হবেন। তাহলে এখন সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ে ফেলুন।

ভূমিকা

গর্ভবতী কিনা জানার জন্য আসলে বর্তমানে নানা ধরনের পদ্ধতি রয়েছে। আপনি গর্ভবতী হয়েছেন কিনা? এই প্রশ্নের উত্তরটা জানার জন্য সাধারণত আমরা ডাক্তার বা বাজারে প্রেগনেন্সি টেস্ট করে যেসব কাঠি পাওয়া যায় তার মাধ্যমে নিশ্চিত হই। আকস্মিক গর্ভবতী হলে অনেকেই টেস্ট করাতে চায় না। তবে আপনি জানেন কি ঘরোয়া কিছু উপায়ে প্রেগনেন্সি টেস্ট করা যায়।

এক্ষেত্রে গর্ভবতী হওয়ার কিছু লক্ষণ যদি আপনার মধ্যে থাকে তাহলে আপনি ঘরে থাকার নিত্য প্রয়োজনীয় কিছু উপাদান দিয়ে প্রেগনেন্সি টেস্ট করতে পারবেন। নিম্নে প্রেগন্যান্সি টেস্ট করার সেরা ঘরোয়া পদ্ধতি সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নিন।

পিরিয়ডের কতদিন পর প্রেগন্যান্সি টেস্ট করতে হয়

প্রেগনেন্সি টেস্ট করার ক্ষেত্রে দুইটা পদ্ধতি রয়েছে। যেমন ব্লাড টেস্ট (রক্ত পরীক্ষা) ও ইউরিন টেস্ট (প্রস্রাব পরীক্ষা)। সাধারণত আমরা ব্লাড টেস্ট করে থাকি না। প্রস্রাব পরীক্ষার মাধ্যমে প্রেগনেন্সি টেস্ট করা হয়। পিরিয়ড বন্ধ হলে ১৫ দিন পর টেস্ট করলে ভালো ফলাফল পাওয়া যায়। তবে অনেকের ক্ষেত্রে এর আগে নেগেটিভ আসলে ৫থেকে ১০ দিন অপেক্ষা করে টেস্ট করলে ফলাফল পজিটিভ আসবে। তবে এটা যাদের নিয়মিত মাসিক হয় তাদের জন্য।
এছাড়া অনিয়মিত মাসিক যাদের হয় সে ক্ষেত্রে ৩৫ থেকে ৪০ দিন অপেক্ষা করে টেস্ট করুন। তাই যাদের মাসিক নিয়মিত হয় তাদের যে তারিখে মাসিক হওয়ার কথা ছিল সেদিন থেকে ১৫ দিন পর টেস্ট করুন। তাহলে জানতে পারবেন আপনি গর্ভধারণ করেছেন কিনা।

শ্যাম্পু দিয়ে প্রেগনেন্সি টেস্ট করার পদ্ধতি

শ্যাম্পু দিয়ে প্রেগনেন্সি টেস্ট টুথপেস্ট বা সাবান দিয়ে প্রেগনেন্সি টেস্ট করা থেকে বেশি সুবিধা জনক। কারণ শ্যাম্পু দিয়ে প্রেগনেন্সি টেস্ট করার জন্য বিশেষ কোনো সাড়াঞ্জাম প্রয়োজন হয় না এবং ফলাফল খুব দ্রুত পাওয়া যায়।

শ্যাম্পু দিয়ে প্রেগনেন্সি টেস্ট করার নিয়মঃ
প্রথমে একটি পরিষ্কার বাটিতে ১ থেকে ২ চামচ পরিমাণ শ্যাম্পু নিন। এতে কিছুটা পরিমাণ পানি এবং প্রস্রাবের নমুনা মিশিয়ে একটি ঘন মিশ্রণ তৈরি করে নিন। নমনীয়ভাবে মিশ্রণটি তৈরি করুন যাতে ফেনা তৈরি না হয়। ৫ থেকে ১০ মিনিট অপেক্ষা করুন । যদি শ্যামপুর মিশ্রণটি ফেঁপে উঠে এবং বুদবুদ শব্দ সৃষ্টি হয় তাহলে আপনি গর্ভবতী হয়েছেন এমন একটি চিহ্ন। এছাড়া যদি এই মিশ্রণটির কোন প্রতিক্রিয়া তৈরি না হয় তাহলে আপনি বুঝতে পারবেন যে আপনি গর্ভবতী নন।

প্রেগন্যান্সি টেস্ট করার সেরা ঘরোয়া পদ্ধতি

প্রেগন্যান্সি টেস্ট করার জন্য আমরা সাধারণত বাজারের প্রেগন্যান্সি কিট বা কাঠি ব্যবহার করে থাকি। কিন্তু প্রেগন্যান্সি টেস্ট করার সেরা ঘরোয়া পদ্ধতি সম্পর্কে অনেকের ধারণা নেই। ঘরে থাকা সাধারণ কিছু উপায় দিয়ে খুব সহজেই কম খরচে আপনি প্রেগন্যান্সি টেস্ট করতে পারবেন। তবে প্রেগন্যান্সি টেস্ট করার কিট ছিল না বা আবিষ্কার হয়নি তখন মানুষ সাধারণত এই ঘরোয়া কিছু উপায় দিয়ে নির্ধারণ করতেন যে গর্ভবতী হয়েছেন কিনা। তাহলে জেনে নিন ঘরোয়া পদ্ধতিতে প্রেগন্যান্সি টেস্ট করার কিছু উপায় সম্পর্কে।

চিনি দিয়ে প্রেগন্যান্সি টেস্ট 
দীর্ঘ সময় ধরে প্রেগন্যান্সি টেস্ট করার জন্য চিনির ব্যবহার হয়ে আসছে এবং মানুষের কাছে সহজলভ্য স্বাভাবিক প্রেগনেন্সি টেস্ট করার পদ্ধতি হলো চিনি। প্রথমত একটি পাত্রের মধ্যে দুই থেকে তিন চামচ পরিমাণ চিনি এবং সমপরিমাণে প্রস্রাবের নমুনা মিশিয়ে একটি মিশ্রণ তৈরি করুন। গর্ভবতী মহিলাদের প্রস্রাবে এইচসিজি হরমোন উপস্থিত থাকে। এই হরমোনের কারণে মিশ্রণটির চিনি দ্রবীভূত হতে বাধা দেয় এবং এর পরিবর্তে জমাট বেধে যায়। তাহলে এটা গর্ভধারণের লক্ষণ। এছাড়া যদি চিনি প্রস্রাবের মধ্যে দ্রবীভূত অবস্থায় থাকে তাহলে বুঝবেন প্রস্রাবে এইচসিজি হরমোন নেই এবং আপনি প্রেগন্যান্ট নয়।
টুথপেস্ট দিয়ে প্রেগন্যান্সি টেস্ট
টুথপেস্ট দিয়ে প্রেগন্যান্সি টেস্ট করা অপেক্ষাকৃত আধুনিক উপাদান। রঙিন টুথপেস্ট এর ক্ষেত্রে অতিরিক্ত উপাদান গুলির ফলাফল গুলোতে হস্তক্ষেপ করতে পারে তাই সাদা টুথপেস্ট ব্যবহার করুন প্রেগনেন্সি টেস্টের জন্য। একটি পাত্রের মধ্যে ২ টেবিল চামচ পরিমাণ টুথপেস্ট এবং সমপরিমাণ প্রস্রাব মিশিয়ে মিশ্রণ তৈরি করুন। মিশ্রনটির রং যদি পরিবর্তন হয়ে নীলচের কালার ধারণ করে তাহলে আপনি পেগনেন্ট। প্রস্রাবের রং যদি পরিবর্তন না হয়ে কোন প্রতিক্রিয়া কালার ধারণা না করে তাহলে বুঝতে পারবেন আপনি প্রেগন্যান্ট নয়।

সাবান দিয়ে প্রেগন্যান্সি  টেস্ট
সকালের প্রথম প্রস্রাবের সঙ্গে সাবানের পানি মিশিয়ে মিশ্রণ তৈরি করে নিন। প্রস্রাব এবং সাবানের পানি মিশে যাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করুন। যদি এই মিশ্রণটি বুদবুদ ওঠে তাহলে আপনি বুঝতে পারবেন গর্ভবতী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যদি এই মিশ্রণটির মধ্যে কোন প্রতিক্রিয়া না সৃষ্টি হয় তাহলে আপনি গর্ভবতী নয়।

ভিনেগার দিয়ে প্রেগন্যান্সি টেস্ট
ভিনেগারের মধ্যে সকালের প্রথম প্রস্রাব মিশিয়ে নিন। কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে দেখুন যদি এটি রং পরিবর্তন হয়ে যায় তাহলে আপনি গর্ভবতী হওয়ার সম্ভাবনা আছে। এবং রং যদি অপরিবর্তিত থাকে তাহলে বুঝতে পারবেন আপনি গর্ভবতী না।

ডেটল দিয়ে প্রেগন্যান্সি টেস্ট
প্রত্যেকের ঘরেই অ্যান্টিসেপটিক হিসেবে ডেটল ব্যবহার করা হয়। ছোটখাটো কাটা এবং পোড়ার চিকিৎসার জন্য ডেটল ব্যবহার করা হয়। এছাড়া ও প্রাকৃতিক ভাবে প্রেগন্যান্সি পরীক্ষা করার জন্য ডেটল ব্যবহার করা হয়ে থাকে। একটি পরিষ্কার পাত্রে ১ থেকে ২ চামচ পরিমাণ ডেটল এবং ১ চামচ পরিমাণ প্রস্রাবের সাথে মিশিয়ে নিন। অপেক্ষা করুন এবং পাঁচ থেকে সাত মিনিট পর লক্ষ করে দেখুন যদি মিশ্রণটি থেকে ডেটল আলাদা করে উপরে একটি পৃথক স্তর তৈরি করে তাহলে আপনি গর্ভবতী। আর যদি মিশ্রণটি পৃথক না হয় তাহলে ফলাফল নেতিবাচক হবে অর্থাৎ গর্ভাবস্থা নেই।

সরিষা পাউডার দিয়ে প্রেগন্যান্সি টেস্ট
কোন বড় পাত্রে বা এক বালতি পানির মধ্যে দুই থেকে তিন কাপ পরিমাণ সরিষার গুঁড়া মিশিয়ে ১৫ থেকে ২০ মিনিট রেখে দিন। এবার এই পানি দিয়ে গোসল করুন। সরিষা পাউডার আপনার শরীরকে গরম করতে সাহায্য করবে। এর ফলে ৩ থেকে ৪ দিনের মধ্যেই আপনার পিরিয়ড হবে। আর যদি আপনি গর্ভধারণ করেন তাহলে পিরিয়ড হবে না।

কাঠি দিয়ে প্রেগন্যান্সি টেস্ট করার পদ্ধতি

কোন নারী প্রেগন্যান্ট হয়েছে কিনা তা জানা সবচেয়ে সহজ মাধ্যম প্রেগন্যান্সি কাঠি। প্রেগন্যান্ট হলে বিটা এইচসিজি নামে শরিলে একজন হরমোন তৈরি হয় যার উপস্থিতিতে প্রস্রাবের মাধ্যমে নির্ণয় করা যায়। সকালের প্রথম প্রস্রাব দিয়ে এই পরীক্ষা করলে ভালো ফলাফল পাওয়া যায়। প্রেগনেন্সি কাঠির মধ্যে তিন থেকে চার ড্রপ প্রস্রাব দিন এবং কিছুক্ষণ অপেক্ষা করুন।
কাঠির স্ট্রিপের পাশাপাশি দুটি রঙিন লাইন দেখা দিলে পজিটিভ অর্থাৎ আপনি প্রেগন্যান্ট। কাঠির একটি রঙের লাইন বা রেখা দেখা গেলে প্রেগনেন্সি নেগেটিভ, প্রেগন্যান্ট নয়। কাঠি দিয়ে প্রেগনেন্সি পরীক্ষা করার সুবিধা হল ৩ থেকে ৫ মিনিটের মধ্যেই ফলাফল পাওয়া যায়।

লবন দিয়ে প্রেগন্যান্সি টেস্ট করার পদ্ধতি

আগেকার যুগে লবণ দিয়ে প্রেগন্যান্সি টেস্ট করার প্রধান মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা হতো। ঘরে থাকা এই উপাদান দিয়ে খুব সহজে প্রেগন্যান্সি পরীক্ষা করতে পারবেন। প্রথমে একটি পরিষ্কার পাত্র নিতে হবে। এবার ড্রপারের সাহায্যে সকালের প্রস্রাবের কয়েক ফোঁটা পাত্রের মধ্যে ফেলুন। এরপর ১ চামচ পরিমাণ লবণ পাত্রের মধ্যে ফেলুন। মিনিট পাঁচেক অপেক্ষা করুন। যদি এই মিশ্রণটির বুদবুদ সৃষ্টি হয় তাহলে বুঝে নিতে হবে আপনি প্রেগন্যান্ট। আর যদি কোন প্রতিক্রিয়া না সৃষ্টি হয় তাহলে গর্ভবতী নন।

সহবাসের কতদিন পর প্রেগন্যান্সি টেস্ট করা যায়

সহবাস করার পর যদি মাসিক বন্ধ হয়ে যায় তাহলে অনেকেই ভাবে গর্ভধারণ করেছে। তবে গর্ভধারণ নিশ্চিত হওয়ার জন্য প্রেগন্যান্সি টেস্ট এর মাধ্যমে জানা যায়। সহবাসের ৯ থেকে ১২ দিন পর আপনি আপনার প্রেগন্যান্সি টেস্ট করতে পারবেন। যদি কারো মাসিক অনিয়মিত হয় সে ক্ষেত্রে সহবাসের ১৫ দিন পর প্রেগন্যান্সি টেস্ট করতে পারবেন। এতে যদি সঠিক ফলাফল না আসে তাহলে সহবাসের ২১ দিন পর প্রেগন্যান্সি টেস্ট করতে হবে এক্ষেত্রে সঠিক ফলাফল সম্ভাবনা বেশি থাকে।

শেষ কথা

আশা করছি প্রেগন্যান্সি টেস্ট করার সেরা ঘরোয়া পদ্ধতি এবং সহবাসের কতদিন পর প্রেগন্যান্সি টেস্ট করা যায় এ সম্পর্কে জানতে পেরেছেন। আজকের এই আর্টিকেল এর মাধ্যমে প্রেগন্যান্সি টেস্ট করার সেরা ঘরোয়া পদ্ধতি, টুথপেস্ট লবণ ইত্যাদি দিয়ে কিভাবে প্রেগন্যান্সি টেস্ট করতে হয় সে সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পেরেছেন। আর্টিকেলটি পড়ে প্রেগনেন্সি টেস্ট করার সকল পদ্ধতি সম্পর্কে জানতে পেরেছেন এবং পরে উপকৃত হয়েছেন।

আমি চেষ্টা করেছি প্রেগন্যান্সি টেস্ট করার ঘরোয়া পদ্ধতি বিস্তারিত তথ্য ফুটিয়ে তোলার। এরকম আরো পদ্ধতি জানতে চাইলে নিয়মিত আমার লেখা আর্টিকেলগুলো পড়ুন। সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ার জন্য ধন্যবাদ।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url