ঘন ঘন মাথা ব্যথার কারণ - মাথা ব্যথা দূর করার ঘরোয়া উপায়

প্রিয় পাঠক, আপনার কি মাথা ব্যথার সমস্যা রয়েছে। বিভিন্ন ধরনের ঔষধ সেবন করে ও স্থায়ী সমাধান করতে পারছেন না। যদি এমনটা হয় তাহলে আমার লেখা ঘন ঘন মাথা ব্যথার কারণ - মাথা ব্যথা দূর করার ঘরোয়া উপায় কিংবা মাথা ব্যথা কোন রোগের লক্ষণ আর্টিকেলটি টি সম্পূর্ণ পড়ুন। এছাড়াও মাথা ব্যথা হলে করণীয়, মাথার পিছনে ব্যথা হওয়ার কারণ গুলো উল্লেখ করা হয়েছে। আশা করছি আজকের এ আর্টিকেলটি পড়ে ঘন ঘন মাথা ব্যথার কারণ - মাথা ব্যথা দূর করার ঘরোয়া উপায় সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারবেন।
ঘন ঘন মাথা ব্যথার কারণ - মাথা ব্যথা দূর করার ঘরোয়া উপায়
আশা করি আজকের আর্টিকেল পড়ে আপনার প্রয়োজনীয় তথ্য খুজে পেয়েছেন এবং উপকৃত হয়েছেন। এই আর্টিকেলে ঘন ঘন মাথা ব্যথার কারণ - মাথা ব্যথা দূর করার ঘরোয়া উপায় ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। তাই দেরি না করে সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি করে ফেলুন।

ভূমিকা

শরীরে গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ মাথা। মাথা ব্যথায় ভুগে কষ্ট পায় না এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া যাবে না সম্ভবত। মাঝে মধ্যে মাথা ব্যথার কারণে মনে হয় কোন কাজ করা সম্ভব না। অনেকেরই বিভিন্ন কারণে মাথা ব্যাথা হতে পারে। তবে প্রচন্ড মাথা ব্যথা হলে অনেকেই ভাবেন যে মাইগ্রেনের ব্যথা। কিন্তু বিষয়টা আসলে এরকম নয়। এই মাথাব্যথা থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য বিভিন্ন ধরনের ঔষধ সেবন করে থাকে। তবে এই ওষুধ সাময়িক মুক্তি দিলে ও শরীরের অন্যান্য অঙ্গকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।


যুক্তরাষ্ট্রের একটি চিকিৎসা বিজ্ঞান সংক্রান্ত গবেষণায় জানা গেছে মাথা ব্যথার কারণ অনেক কিছু হতে পারে। মাইগ্রেন যেমন একটি বড় কারণ তেমনি আরো অনেক কারণ রয়েছে। এছাড়া প্রতিটি মাথাব্যথা সুনির্দিষ্ট কারণ রয়েছে। অনেকেই ঘন ঘন মাথা ব্যথার কারণ - মাথা ব্যথা দূর করার ঘরোয়া উপায় সম্পর্কে জানেনা। তাই মাথা ব্যথা হলে অবহেলা করা উচিত নয়।

মাথা ব্যথা হওয়ার কারণ 

মাথা ও ঘাড়ের ব্যথায় মূলত আমাদের কাছে মাথাব্যথা নামে পরিচিত। মাথাব্যথা হওয়ার কারণ বিভিন্ন ধরনের হতে পারে। মাথা ও মাথার হাড়ের চারপাশের রক্তনালী, র্নাভ ও তাদের আবরন, চোখ, কান, সাইনাস, ও ঘাড়ের মাংসপেশী ইত্যাদির প্রদাহ বা টানই মূলত মাথাব্যথা লক্ষণ। তাই ঘন ঘন মাথা ব্যথার কারণ - মাথা ব্যথা দূর করার ঘরোয়া উপায় গুলো নিচে আলোচনা করা হলো।
  • অপর্যাপ্ত পরিমাণ ঘুম বা ঘুমের সময় পরিবর্তন।
  • অতিরিক্ত মানসিক চাপ।
  • চোখের পাওয়ারের পরিবর্তন অথবা দীর্ঘ সময় কম্পিউটার বা ফোনের দিকে তাকিয়ে থাকা।
  • অতিরিক্ত ধূমপান ও মদ্যপান করা।
  • ঠান্ডা খাবার থেকেও মাথাব্যথা হতে পারে।
  • নিয়মিত ও অতিরিক্ত ঘুমের ঔষধ সেবন করা।
  • রোদ বা অতিরিক্ত গরম আবহাওয়ায।
  • ঘুমানোর সময় ভুলবশত ঘাড়ে চাপা লাগা এ থেকেও মাথা ব্যথা হয়।
  • দীর্ঘ সময় ধরে খালি পেটে থাকা।
  • অতিরিক্ত পরিমাণে চা বা ব্ল্যাক কফি পান করা।
  • কোন রাসায়নিক বা ধূপ ও সুগন্ধির কড়া গন্ধ।
  • অনেক সময় ধরে খুব টাইট করে চুল বেঁধে রাখা।
  • পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান না করা।
  • হঠাৎ করেই এলার্জি সমস্যা শুরু হওয়া
উপরোক্ত আলোচিত বিষয় গুলো থেকেই মাথা ব্যথা বেশি হয়ে থাকে। তাই মাথা ব্যাথা থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য উপরোক্ত বিষয়গুলো থেকে বিরত থাকুন। দীর্ঘমেয়াদি মাথা ব্যথার জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করুন।

মাথা ব্যথা হলে করণীয়

মাথা ব্যথা থেকে মুক্তি পাওয়ার সর্বাধিক উত্তম কাজ হলো বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া। এছাড়াও ঘরোয়া কিছু উপায় ব্যবহার করে মাথা ব্যথা দূর করা সম্ভব। আমরা অনেকেরই ঘন ঘন মাথা ব্যথার কারণ - মাথা ব্যথা দূর করার ঘরোয়া উপায় সম্পর্কে ধারণা নেই। নিচে কিছু ঘরোয়া উপায় বিস্তারিত আলোচনা করা হলোঃ
  • আদা বা আদা দিয়ে তৈরি চা মাথা ব্যথা দূর করতে কার্যকরী ভূমিকা রাখে। আদাতে ব্যাথা নাশক ঔষধি গুণ রয়েছে। তাই মাথা ব্যথা সমস্যা দেখা দিলে সামান্য পরিমাণে আদা চিবানো শুরু করতে পারেন। দ্রুত উপকার পেতে কিছুক্ষণ পর পর আদা চা খেয়ে দেখতে পারেন।
  • বরফ কিছু সময় মাথার যে অংশে ব্যাথা করে সেখানে ধরে রাখুন। বাজারে বিভিন্ন ধরনের আইস ব্যাগ কিনতে পাওয়া যায়। সেগুলোর মধ্যে বরফ দিয়ে মাথা ব্যথার সময় ব্যবহার করুন। তবে যাদের ঠান্ডার সমস্যা রয়েছে তারা এটি ব্যবহার না করাই উত্তম।
  • মাথা ব্যথার সমস্যায় মাথা ও ঘাড়ের চারপাশে হালকা ম্যাসাজ পড়ে দেখতে পারেন। এছাড়াও হালকা গরম ছ্যাক দিলেও ব্যথা থেকে কিছুটা আরাম পেতে পারেন।
  • মাথাব্যথা সমস্যায় ধূমপান ও মাদকদ্রব্য সেবন থেকে বিরত থাকুন। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করুন। এছাড়াও পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুমানোর অভ্যাস করুন।
  • মিষ্টি কুমড়ার বীজ ভেজে খেলে মাথাব্যথা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। কারণ এতে ম্যাগনেসিয়াম সালফেট রয়েছে যা ব্যথা উপশমের জন্য কার্যকরী। তাই মাথা ব্যথার সমস্যায় নিয়মিত মিষ্টি কুমড়ার বীজ খেতে পারেন ।
  • গবেষণায় জানা গেছে গান শোনা প্রায় ১৭% মাথা ব্যাথা কমে দিতে সাহায্য করে। তাই মন ভালো করার পাশাপাশি মাথা ব্যাথা দূর করতে ও মনোযোগসহ কারে গান শুনতে পারেন

মাথা ব্যথা কোন রোগের লক্ষণ

মাথা ব্যথা অত্যন্ত কষ্টদায়ক যা সহ্য করা অসহনীয়। অনেকের ক্ষেত্রে এই সমস্যা দীর্ঘস্থায়ী হতে পারেন। তবে সামান্য মাথাব্যথায় কিছুটা বিশ্রাম, তরল খাবার বা ঔষধের মাধ্যমে উপশম করা সম্ভব। এ ছাড়া তীব্র মাথাব্যথার জন্য এসব ছাড়াও আরো কিছু পদ্ধতি অনুসরণ করা প্রয়োজন পড়ে। মাথাব্যথা নির্দিষ্ট কোন সংজ্ঞা নেই বললেই চলে। তবে মাথা ব্যাথা এমন এক ধরনের ব্যথা যা অনুভূতি মাথা এবং মাথা চারপাশে হতে পারে।
যেহেতু এই সমস্যাটা সব মানুষেরই হয় তাই বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এটাকে কোন রোগ নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে মাথা ব্যথায় মৃদু বা তীব্র কোনটাই পুষে রাখা উচিত নয়। এটি শুধু একটি উপসর্গই নয় বরং জটিল রোগের আমন্ত্রণের দরজাও। নিচে মাথা ব্যথা কোন রোগের লক্ষণ বিস্তারিত আলোচনা করা হলোঃ
  • আপনার বয়স যদি ৪০ বছর বেশি হয়। কিন্তু আগে কখনো মাথা ব্যথা হতো না, এখন নতুন করে মাথা ব্যথা হলে সেটা ক্যান্সারের লক্ষণ হতে পারে।
  • মাথাব্যথা থেকে এইচ আই ভি বা ক্যান্সার রোগের লক্ষণ।
  • মাথা গুরুতর আঘাতের পর মাথা ব্যথা।
  • মাথার সামনে অথবা এক পাশে তীব্র ব্যথা অনুভব করলে ব্যথাটি মাইগ্রেনের হতে পারে।
  • হাচিঁ বা কাশিতে মাথাব্যথা।
  • হঠাৎ করেই মাথা ব্যথা কিংবা পূর্বের তুলনায় ঘন ঘন তীব্র মাথাব্যথা।
  • প্রেগন্যান্সি বা প্রেগন্যান্সি পরবর্তী সময়ে মাথা ব্যথা হতে পারে।
  • মাথা ব্যথার সঙ্গে জ্বর, প্রচন্ড দুর্বলতা, ও ঘাড় শক্ত হয়ে যাওয়া।
  • যাদের হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, উচ্চ কোলেস্টেরলের মাত্রা, ডায়াবেটিস বা রক্তের সমস্যা রয়েছে এ ধরনের রোগীদের হঠাৎ করেই মাথা ব্যথা হলে স্ট্রোক হওয়ার সম্ভাবনা নির্দেশ করে।
  • দীর্ঘ সময় ধরে মাথাব্যথা বাড়তে থাকা এ লক্ষণ ব্রেন টিউমারের ক্ষেত্রে দেখা যায়।
উপরোক্ত আলোচিত বিষয় গুলো মাথাব্যথা থেকে এ রোগ গুলোর লক্ষণ। তাই মাথা ব্যাথা হলে সেটাকে উপেক্ষা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করা উচিত। এছাড়াও কিছু উপায় মেনে চললে মাথাব্যথা থেকে দ্রুত আরাম পাওয়া যায়। আশা করছি উপরোক্ত আলোচনা থেকে মাথা ব্যথা কোন রোগের লক্ষণ এ সম্পর্কে জানতে পেরেছেন এবং পরে উপকৃত হবেন।

মাথার পিছনে ব্যথা হওয়ার কারণ

মাথা ব্যথার বিভিন্ন প্রকারভেদ এবং সেই সঙ্গে নির্দিষ্ট কিছু কারণ রয়েছে। গবেষণা জানা গেছে প্রায় দেড়শ রকমের মাথাব্যথা রয়েছে। তবে মাথা ব্যথার কারণ গুলোর মধ্যে সবচেয়ে সাধারণ কারণ হচ্ছে-মাইগ্রেন, দুশ্চিন্তা, দীর্ঘ সময় ধরে মানসিকচাপ, ঘুমের সমস্যা, তীব্র গন্ধ, অত্যাধিক আলো ইত্যাদি। এছাড়াও শারীরিক অসুস্থতা কিংবা মাথায় আঘাত পাওয়া ইত্যাদির কারণেও মাথাব্যথা হয়ে থাকে। মাথাব্যথা গুরুতর কোন স্বাস্থ্য সমস্যার পূর্বলক্ষণ হতে পারে। অনেকেই মাথাব্যথা সমস্যা হয় পেইনকিলার খেয়ে বা ঘুমের ঔষধ খেয়ে থাকেন। তবে মাথার পিছনে ব্যথাকে অবহেলা করা উচিত নয়, কারণ গুলো জেনে নেই চলুন।
  • মাথার পিছনে দিকে ব্যথা হওয়ার সম্পর্কে ভুল ধারণা করে থাকে কারণ এর লক্ষণগুলো মাইগ্রেন ট্রেনশন হেডেক ও ক্লাস্টার হেডেকের লক্ষণের সাথে মিলে যায়। কিন্তু মাথার পিছন থেকে ব্যথা হয় মাথার মাসেল টেনশনের কারণে।\
  • ঘাড়ে বা মাথায় আঘাত পেলে মাথার পেছনের দিকে ব্যথার লক্ষণ দেখা দিতে পারে। এই ধরনের ব্যথা মাথা এক পাশ থেকে শুরু করে ধীরে ধীরে কানের কাছাকাছি পর্যন্ত ছড়িয়ে যায়।
  • মাথার পিছনে অর্থাৎ মাথা ও ঘাড়ে ব্যথা করে তা সার্ভিকোজেনিক মাথা ব্যথার ইঙ্গিত। মাথার পেছনের দিকে ব্যথা হলো সেকেন্ডারি মাথাব্যথা। এ মাথাব্যথা হয় অসুস্থতা বা শারীরিক অবস্থার কারণে। সময়ের সাথে সাথে এ ব্যথা আরো খারাপ হতে পারে। যার ফলে ঘাড় নড়াচড়া করা কঠিন হয় এবং চাপ বাড়ে।
  • অক্সিপিটাল নিউরালজিয়া এক ধরনের মাথাব্যথা যা মাথার পেছন থেকে শুরু করে মাথার উপরের দিকে ছড়িয়ে যায়।
  • মস্তিষ্কের পর্দার ভেতর রক্তক্ষরণ ও প্রদাহ কারণে মাথার পেছনের দিকে কম্পন হতে পারে এবং মাথার তালুতে ছড়িয়ে পড়ে এই ব্যথা।

মাথা ব্যথা দূর করার ঘরোয়া উপায়

মাথা ব্যাথ খুবই কষ্টদায়ক যা সহ্য করা অসহ্যকর। আবার ঘুমের পরিবর্তন বা কাজের চাপ, সামান্য কারণেই মাথা ব্যথা করে অনেকের। জীবনে কখনো মাথা ব্যাথা সমস্যায় ভোগেনি এমন মানুষ হয়তো খুঁজে পাওয়া মুশকিল। কর্মব্যস্তময় জীবনের মধ্য বিশ্রাম নেওয়া অবকাশও খুব একটা মেলে না। বিভিন্ন কারণে মাথাব্যথা হয় যেমন দুশ্চিন্তা, মাইগ্রেন, অতিরিক্ত মাদকাসক্ত, শরীরে পানি শূন্যতা ইত্যাদি।
মাথাব্যথা সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে অনেকেই পেইনকিলার ঔষধ সেবন করে। এসকল পেইনকার ঔষধে পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া থাকে এবং সেই সঙ্গে শরীরের ওপর দীর্ঘস্থায়ী নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই ঘন ঘন মাথা ব্যথার কারণ - মাথা ব্যথা দূর করার ঘরোয়া উপায় অবলম্বন করে অসহ্যকর মাথাব্যথা থেকে মুক্তি পাওয়া যায় সহজেই।

চা-কফি
চা কফি তে থাকা ক্যাফেইন নামক উপাদান মাথা ব্যথা কমাতে ভীষণ কার্যকর। এছাড়াও চায়ের সঙ্গে আদা-লবঙ্গ ও মধু মিশিয়ে খেলে খুব তাড়াতাড়ি মাথাব্যথা থেকে আরাম পাওয়া যায়।

আদা
  • আদা মাথার রক্তনালীর প্রদাহ কমাতে সহায়তা করে। যা মাথা ব্যাথা দূর করে।
  • আদা ও লেবুর রস একসঙ্গে মিশিয়ে খান। মাথাব্যথা থাকলে দিনে দুই থেকে চারবার এটি খেতে পারেন।
  • এছাড়াও আদা চা খেতে পারেন। এতে করে মাথা ব্যথা দ্রুত আরাম পাওয়া যায়।
  • আদা গুঁড়ো করে বা কাচা সিদ্ধ করে এই সিদ্ধ পানিতে ভাপ নিন।
  • এছাড়া তীব্র মাথাব্যথা যন্ত্রণায় আদার টুকরো চিবাইতে পারেন।
বরফের প্যাক
  • বরফ মাথাব্যথা যন্ত্রণা দূর করতে সাহায্য করে এবং পাশাপাশি এটি ব্যথা উপশমে দারুণ কাজ করে।
  • যাদের মাইগ্রেনের সমস্যা রয়েছে তারা বরফের প্যাক ঘাড়ে কিছু সময় ম্যাসাজ করুন। এতে করে মাইগ্রেনের ব্যথা অনেকটা কমে যাবে।
  • তোয়ালে অথবা কাপড়ের টুকরো বরফ ঠান্ডা পানিতে ভিজিয়ে রেখে মাথায় ৫ মিনিট রাখুন। তীব্র মাথা যন্ত্রণা দেখা দিলে দিনে বেশ কয়েকবার করলে মাথা ব্যথা কমে যাবে। তবে যাদের ঠান্ডা জড়িত সমস্যা রয়েছে তারা এটি না করাই উত্তম।
ম্যাসাজ
কপালে দুই পাশে বা ঘাড়ে কিছু সময় হাত দিয়ে ম্যাসাজ করুন। ক্লান্তির কারণে মাথা ব্যথায় এ ম্যাসাজ খুব উপকারী। ব্যথার স্থানে আঙ্গুলের ডগা দিয়ে হালকা করে চাপ দিন। এর ফলে মাথা ব্যথা খুব সহজেই কমে যাবে।

অতিরিক্ত আলো
মাথা যন্ত্রণার আরেকটি কারণ হলো অতিরিক্ত আলো। তাই মাথা যন্ত্রণা শুরু হলে ঘরে আলো বন্ধ করে দিন। এছাড়াও কম্পিউটার স্কিন, ল্যাপটপ বা মোবাইল ফোন থেকে দূরে থাকুন। এছাড়া ল্যাপটপ বা কম্পিউটারে কাজ করার জন্য Blue Cut চশমা ব্যবহার করুন।

গোসল
অসহ্যকর মাথা ব্যাথা যন্ত্রণা থেকে স্বস্তি পেতে গোসল করতে পারেন। মাথায় কিছু সময় ঠান্ডা পানি ঢালুন এতে মাথা ব্যথা অনেকটা কমে যাবে।

অ্যাাসেনশিয়াল অয়েল
আঙ্গুলের ডগার সাহায্যে অ্যাাসেনশিয়াল ওয়েল কপালে অথবা মাথায় ম্যাসাজ করুন। লাভেন্ডার বা পিপারমিন্টের মতো কোন সুগন্ধি ফ্লেভারের তেল দিয়ে মাসাজ করলে মাথা ব্যথা অনেকটা দূর হয়ে যায়।

পুদিনা পাতা
পুদিনা পাতায় আছে ম্যানথল ও ম্যানথন নামক উপাদান যা মাথাব্যথা উপশম করতে খুবই উপকারী। পুদিনা পাতার রস কপালে মাখন এতে মাথা ব্যথা কমে যায়। এছাড়াও নিয়মিত পুদিনা পাতার চা খেতে পারেন।

শেষ কথা

যাদের মাথা ব্যথা সমস্যা রয়েছে তারাই শুধু জানে এটার কষ্ট কতটা যন্ত্রণাদায়ক। তাই মাথা ব্যথা সমস্যা নিয়ে অবহেলা করা উচিত নয়। যেকোনো কারণে মাথাব্যথা দেখা দিলে দ্রুত ডাক্তারের পরামর্শ গ্রহণ করা উচিত। কারণ সামান্য কোন রোগ থেকেই বড় কোন রোগের সূত্রপাত হয়। এছাড়াও মাথাব্যথা দূর করার ঘরোয়া কিছু উপায় রয়েছে যেগুলো অনুসরণ করে মাথাব্যথা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।

আজকেরে আর্টিকেলে ঘন ঘন মাথা ব্যথার কারণ - মাথা ব্যথা দূর করার ঘরোয়া উপায় নিয়ে বিস্তারিতভাবে আলোচনা করেছি। আশা করছি সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ে আপনি ঘন ঘন মাথা ব্যথার কারণ - মাথা ব্যথা দূর করার ঘরোয়া উপায় সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারবেন এবং উপকৃত হবেন। এ ধরনের আরও প্রয়োজনীয় তথ্য পেতে নিয়মিত আমার লেখা আর্টিকেলগুলো পড়ুন। সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ার জন্য অনেক অনেক ধন্যবাদ।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url