মাসিক হওয়ার ট্যাবলেট এর নাম বিস্তারিত জানুন

 

প্রিয় পাঠক, আপনি কি আপনার অনিয়মিত মাসিকের সমস্যা নিয়ে ভুগছেন? মাসিক হওয়ার ট্যাবলেট এর নাম অনেকেই জানেন না। পিল খাওয়ার পর মাসিক না হলে করনীয় সে বিষয়ে অনেকেই চিন্তায় থাকে। তাহলে আজকের এই আর্টিকেলে মাসিক হওয়ার ট্যাবলেট এর নাম সহ সকল সমস্যা নিয়ে আলোচনা করেছি। এই আর্টিকেলটি সম্পূর্ণ পড়লে মাসিক হওয়ার ট্যাবলেট এর নাম বিস্তারিত তথ্য খুঁজে পাবেন।
মাসিক হওয়ার ট্যাবলেট এর নাম
মাসিকের মাধ্যমে নারীদের জীবনে মাতৃত্বের স্বাদ অনুভব করতে পারে। আশা করছি এই আর্টিকেলটি পড়ে আপনি মাসিক হওয়ার ট্যাবলেটের নাম সহ বিস্তারিত তথ্য খুঁজে পাবেন। তাই দেরি না করে আর্টিকেলটি পড়া শুরু করুন এবং জেনে নিন মাসিক হওয়ার ট্যাবলেট এর নাম সহ সকল সমস্যা সমাধানের উপায়।

ভূমিকা

মাসিক হলো মেয়েদের জীবন একটি প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া যেটাতে মানুষের কোন হাত নেই। মাসিক কোন রোগ নয়।মাসিক ছাড়া কোন নারী সন্তান জন্ম দিতে পারেনা। পৃথিবীতে কয়েকটি প্রজাতির জীবনদশা বেশ রহস্যময় এবং একটি চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য খুঁজে পাওয়া যায় ।এই বৈশিষ্ট্যটি হলো মাসিক।যেমন বানর, বাদুর ও মানুষ মাত্র এই কয়েকটি জীবের স্ত্রী প্রাণীদেহে মাসিক হয়ে থাকে। মাসিকের ফলে একটি মেয়ে সন্তান জন্ম দিতে পারে। সাধারণত মেয়েদের ১১ থেকে ৫০ বছর পর্যন্ত মাসিক হয়ে থাকে। মাসিকের সময়কাল সাধারণত তিন থেকে সাত দিন ধরা হয়।


মেয়েদের বয়ঃসন্ধিকালের পর থেকে মাসিক বা ঋতুচক্র শুরু হয়। সাধারণত ২৮ থেকে ৩৫ দিনের মধ্যে মাসিক হয়। মাসিকের সময় স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটারি ন্যাপকিন ব্যবহার করতে হবে। রক্তস্রাব এর পরিমাণ অনুযায়ী দিনে কমপক্ষে দুই থেকে চার বার স্যানিটারি ন্যাপকিন বদলাতে হবে। এ সময় পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকতে হবে,নিয়মিত গোসল করতে হবে এবং পুষ্টিকর ও সুষম খাদ্য গ্রহণ করতে হবে।

মাসিক না হওয়ার কারণ কি

মাসিক মেয়েদের জীবনে মাতৃত্বের অবিচ্ছেদ্য একটি অংশ। নির্ধারিত সময়ে অর্থাৎ ঠিক ২৮ থেকে ৩৫ দিনের গ্যাপে যদি কারো মাসিক না হয় তবে অনেক নারীরা চিন্তা করে থাকে। অনেকেরই মাসিক দেরিতে হওয়া নিয়ে চিন্তায় থাকে। তবে জানেন কি মাসিকের সাথে অনেকগুলো ব্যাপার জড়িত থাকে মানসিক চাপ থেকে শুরু করে আবহাওয়া পরিবর্তন ফেলতে পারে আপনার মাসিক বা পিরিয়ড চক্রের ওপর ।সাধারণত একজন সুস্থ নারীর ২৮ থেকে ৩৬ দিনে মাসিক হয়ে থাকে। মেয়েদের বয়সন্ধি কালের পর থেকে মাসিক বা ঋতুচক্র শুরু হয়।
মাসিক ১১ বছর থেকে ৫০ বছর বয়সী নারীদের মধ্যে হয়ে থাকে। মাসিক বা পিরিয়ড একজন নারীদের জন্য নিয়মিত সঠিক সময়মতো মাসিক হওয়াটা সুস্বাস্থ্যের লক্ষণ হয়ে থাকে। তবে যদি মাসিক নিয়মিত না হয় তাহলে তার শারীরিক কোন সমস্যা আছে বলে ধরা হয়। এজন্য শরীরে কোন অসুস্থতা সৃষ্টি হয়েছে কিনা বা জীবনযাপনের কোন ক্ষতিকর অভ্যাস আছে কিনা সেদিকে নজর দেওয়া জরুরী।

অনেকের অনিয়মিত পিরিয়ড হওয়ার পেছনে অনেক কারণ থাকে তার মধ্যে হলো গর্ভাবস্থায়, বয়স, মানসিক চাপ, অকাল গর্ভপাত, ওজন কম এবং হরমোন জনিত সমস্যা হলো অন্যতম। এর ফলে মাসিক বা পিরিয়ড সাময়িকভাবে বন্ধ থাকতে পারে বা দেরি হতে পারে। জেনে নিন মাসিক না হওয়ার কারণ গুলো-

গর্ভাবস্থায়
সহবাসের পর পরবর্তী মাসে মাসিক না হলে প্রথমে আপনি নিশ্চিত হন গর্ভবতী হয়ে পড়েছেন কিনা। কারণ বিবাহিত নারীদের মাসিক না হওয়ার কারণ প্রেগন্যান্ট হওয়া। প্রেগন্যান্ট হলে সাময়িকভাবে দীর্ঘ সময় মাসিক বন্ধ থাকে।

বয়স
অল্প বয়সী বা মধ্যবয়সী মেয়েদের হরমোন জনিত সমস্যার কারণে মাঝেমধ্যে অনিয়মিত মাসিক দেখা দেয়

মানসিক চাপ
অতিরিক্ত দীর্ঘ সময় টেনশন থাকলে বা কোন কিছু নিয়ে চিন্তিত থাকলে অনেকের মাসিক দেরিতে হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। মানসিক চাপের কারণে শরীরের বিভিন্ন ক্ষতি হয়। এর ফলে মাসিকের সমস্যা দেখা দেয়।
আরো পড়ুনঃ শীতে ঠোঁট ফাটা থেকে মুক্তি পাওয়ার ১৫ টি ঘরোয়া উপায়
শারীরিকভাবে ওজন কম থাকলে বা স্বাস্থ্য নষ্ট হয়ে গেলে সময়মতো মাসিক নাও হতে পারে। এমনকি অনিয়মিত মাসিকের সমস্যা দেখা দেয়

অকাল গর্ভপাত
একজন নারীর সহবাসের হয়ে হঠাৎ গর্ভবতী হয়ে পড়েছিলেন কিন্তু তা তিনি জানতেন না। নিজ থেকে যদি আবার মিস ক্যারেজ বা গর্ভপাত হয়ে যেতে পারে। তখন পিরিয়ড অনেক দেরিতে হওয়া সম্ভাবনা থাকে। যদি কারো গর্ভপাত হয় তাহলে মাসিকে তুলনায় কিছুদিন পরপর রক্তপাত হওয়া সম্ভাবনা থাকে। তাই অনেকেই অকাল গর্ভপাতকে দেরিতে মাসিক হওয়ার কারণ মনে করে।

হরমোনাল জন্ম নিয়ন্ত্রণ
জন্ম নিয়ন্ত্রণের বিভিন্ন পদ্ধতি ব্যবহার করলে মাসিক দেরিতে হতে পারে। যেমন পিল,প্যাঁচ,ইঞ্জেকশন, আইইউডি ইত্যাদি ব্যবহার করলে পিরিয়ড বা মাসিক দেরিতে হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

স্বাস্থ্য সমস্যা
শারীরিক বিভিন্ন অসুস্থতার কারণে অনেক সময় মাসিক বা পিরিয়ড দেরিতে হয়। যেমন ঠান্ডা, সর্দি, গলায় ইনফেকশন,টাইফয়েড ইত্যাদি এ ধরনের সমস্যায় মাসিক দেরি তে হওয়া সম্ভবনা থাকে।

মাসিক হওয়ার ট্যাবলেট এর নাম 

মাসিক হলো সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক একটি প্রক্রিয়া।যা মানুষের কোন হাত নেই। তবে মাসিক নাহলে ওষুধ সেবন করা অথবা কৃত্রিম কোন উপায়ে মাসিক ঘটানো বা বন্ধ করা কোন স্থায়ী সমাধান হয় না। তবে যদি একেবারেই দীর্ঘ সময় মাসিক বা পিরিয়ড বন্ধ থাকে সে ক্ষেত্রে মাসিক হওয়ার ঔষধ গ্রহণ করতে পারেন। মাসিক নিয়মিত হওয়ার জন্য বিভিন্ন কোম্পানি বিভিন্ন ঔষধ রয়েছে।মাসিক নিয়মিত করার ট্যাবলেট গুলো আমাদের শরীরে ন্যাচারাল হরমোন ওপর কাজ করে যা অনিয়মিত মাসিকের সমস্যা সমাধান করে দেয়। নিচে মাসিক হওয়ার ট্যাবলেট এর নাম দেওয়া হলো-
  • Normens
  • Ethinor
  • Feminor
  • Menoral
  • Mensil N
  • Remens
  • Norestil
  • Noteron
মাসিক হওয়ার ট্যাবলেট কোন কোন ক্ষেত্রে কাজ করে-
  • অনিয়মিত মাসিক হলে।
  • মাসিকের সময় খুব বেশি রক্তপাত হলে।
  • বেস্ট পেইনবা মাথা ব্যথা হলে।
  • বেস্ট ক্যান্সারের ক্ষেত্রেও হতে পারে।
আশা করি,আজকের এই আর্টিকেলে আপনি মাসিক হওয়ার ট্যাবলেট এর নাম সহ সকল সমস্যার সমাধান খুঁজে পাবেন।মাসিক হওয়ার ট্যাবলেট চিকিৎসকরা প্রতিদিন একটি করে এবং তিন বেলা খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকে। কারো কারো ক্ষেত্রে পাঁচ দিন করে আবার সপ্তাহে এক পর্যন্ত খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকে। তবে মাসিক হওয়ার ট্যাবলেট গুলো খাওয়ার আগে অবশ্যই একজন গাইনি বিশেষজ্ঞ বা অভিজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে খাওয়া জরুরি।

পিল খাওয়ার পর মাসিক না হলে করনীয়

ইমারজেন্সি পিল খাওয়ার পর মাসিক না হওয়ার কারণ কি হতে পারে সেটা ভেবে অনেকেই চিন্তায় পড়েন। পিল খাওয়ার পর মাসিক না হলে করনীয় কি সে বিষয়ে অনেকেই জানে না।মনে রাখবেন, পিল মাসিক হওয়ার কোন ঔষধ নয় বরং এটি ব্যবহার করা হয় অনাকাঙ্ক্ষিত গর্ভধারণ প্রতিরোধে। অনাকাঙ্ক্ষিত গর্ভধারণ রোধ করতে চিকিৎসক পিল খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকে। তবে নিয়মিত পিল ব্যবহার করা একদমই উচিত না। গবেষণায় দেখা গিয়েছে যে নিয়মিত ইমারজেন্সি পিল সেবন করার ফলে জরায়ুর ক্যান্সার সৃষ্টি হয়। নিয়মিত পিল খাওয়ার ফলে আমাদের শরীরে বিভিন্ন রকমের পরিবর্তন হয়।
নির্দিষ্ট সময় মাসিক না হলে অথবা অনিয়মিত মাসিক হলে একজন নারীর বিভিন্ন ধরনের শারীরিক সমস্যা দেখা দেয় এবং একসময় এদের মধ্যে বন্ধ্যাত্বের বিষয়গুলো লক্ষ্য করা যায়। মাসিক হলো মেয়েদের একটি প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া এবং প্রত্যেক মেয়ের প্রত্যেকটি মাসের নির্দিষ্ট দিনে বা এর আগেও মাসিক হয়ে থাকে। নিয়মিত পিল খাওয়ার ফলে যে সমস্যাগুলো হতে পারে বমি বমি ভাব, তীব্র মাথাব্যথা,ওজন বৃদ্ধি, অতিরিক্ত, রক্তক্ষরণ রক্তস্রাব অনিয়মিত হতে পারে এছাড়া পরবর্তীতে গর্ভধারণের সমস্যা হতে পারে।

মাসিক হওয়ার ৭টি ঘরোয়া সমাধান

যেকোনো বয়সে নারীদের ক্ষেত্রে অনিয়মিত মাসিকের সমস্যা দেখা দিতে পারে বিশেষ করে বিবাহিত। সাধারণত অনেক বেশি পরিশ্রম, দুর্বলতা, দুশ্চিন্তা, জীবনযাত্রা বড় কোন পরিবর্তন এ সকল কারণে অনিয়মিত মাসিক হতে পারে। এছাড়া শারীরিক ভাবে অসুস্থতার কারণে অনিয়মিত পিরিয়ড হতে পারে। মাসিক নিয়মিত করার জন্য আমরা বিভিন্ন ধরনের ঔষধ সেবন করে থাকে যেগুলোকে আমরা খাবার পিল হিসেবে চিনি।
কিন্তু এ সকল পিল খাবার ফলে আমাদের শরীরে বিভিন্ন ধরনের সাইড ইফেক্ট হতে পারে। মোটা হয়ে যাওয়া, খাবারে অরুচি, মাথা ব্যথা, বমি বমিভাব, পেট ফাঁপা ক্লান্তি লাগা ইত্যাদি সহ নানা অসুবিধা দেখা দেয়। তাই জেনে নিন সাতটি ঘরোয়া সমাধান যার মাধ্যমে ওষুধ না খেয়েও অনিয়মিত মাসিকের সমস্যা দূর করা যায়-

আদা
আদা প্রাকৃতিকভাবে শরীর থেকে বিভিন্ন দূষিত পদার্থ বের করতে সাহায্য করে। হাফ লিটার পানিতে এক কাপ পরিমাণ আদা কুচি করে নিয়ে পাঁচ থেকে আট মিনিট ফুটিয়ে নিন। এরপর আদার সঙ্গে স্বাদমতো লবণ ও চিনি বা মধু মিশিয়ে নিন। প্রতিদিন নিয়ম করে খাবার পর এই পানীয়টি তিন বেলা খাবেন। কিন্তু মনে রাখতে হবে এই পানিও ভরা পেটে খেতে হবে ।খালি পেটে খেলে এটা কাজ করবে না। নিয়মিত খেলে কিছু মাসের মধ্যে আপনি ফলাফল দেখতে পারবেন।

জিরা
মাসিক নিয়মিত করতে জিরা অনেক কার্যকরী উপাদান। জিরা তে প্রকার কোন পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া নেই। এক গ্লাস পানিতে দুই চামচ পরিমাণ জিরা সারা রাত ভিজিয়ে রাখুন। সকালে এই পানি খেয়ে ফেলুন। নিয়মিত একবার করে সেবন করলে সুফল পাবেন।

কাঁচা হলুদ
হলুদ মসলা জাতীয় দ্রব্য হলেও প্রাচীনকাল থেকেই চিকিৎসাশাস্ত্রে হলুদের ব্যবহার হয়ে আসছে। কাঁচা হলুদ মাসিক নিয়মিত ও শরীরের হরমোন ব্যালেন্স ঠিক রাখতে সাহায্য করে। কাঁচা হলুদ খাওয়ার ফলে জরায়ু মাংসপেশী সংকোচন ও প্রসারণ নিয়ন্ত্রণ করে। এছাড়া কাঁচা হলুদ পিরিয়ডের ব্যথা কমাতে সাহায্য করে। এক গ্লাস দুধে চা চামচের চার ভাগে একভাগ কাঁচা হলুদ নিয়ে মধু বা গুড় দিয়ে কিছুদিন খেয়ে দেখুন। পরিবর্তন নিজেই দেখতে পারবেন।

কাঁচা পেঁপে
কাঁচা পেঁপে মাসিক নিয়মিত করতে সাহায্য করে। যাদের মাসিক অনিয়মিত হয় তারা নিয়মিত কাঁচা পেঁপে রস খেলে এই সমস্যা থেকে সমাধান পাবে। তবে মাসিক চলাকার অবস্থায় পেপে না খাওয়াই ভালো। পেঁপে শুধু মাসিক নিয়মিত ছাড়াও হজমে সাহায্য করে ,ক্যান্সার প্রতিরোধ করে ত্বক, মসৃণ রাখে, এবং চুল পড়া রোধ করে।

অ্যালোভেরা
অ্যালোভেরা বা ঘৃতকুমারী মাসিক নিয়মিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে ।এছাড়াও রূপচর্চায় এলোভেরা ব্যবহার করা হয়। অ্যালোভেরা মাসিকের হরমোন রেগুলেশনের সাহায্য করে। প্রতিদিন সকালে খালি পেটে এলোভেরা তাজা পাতার ভিতরের শাঁস মধুর সাথে মিশিয়ে খান। নিয়মিত খেলে পরিবর্তন আপনি নিজেই দেখতে পারবেন। তবে মাসিক চলাকালীন অবস্থায় এলোভেরা না খাওয়াই ভালো।

ভিটামিন সি জাতীয় খাবার
ভিটামিন সি দেহের ইস্টোজন হরমোনের মাত্রা বাড়িয়ে মাসিককে প্রবাহিত করতে সাহায্য করে। যে সকল খাবার ভিটামিন সি রয়েছে সে সকল খাবার যাদের অনিয়মিত মাসিকের সমস্যা রয়েছে তারা নিয়ম করে খেলে এ সমস্যা থেকে মুক্তি পাবে। ভিটামিন সি সম্মিলিত খাবার যেমন সাইটাস ফল, শাকসবজি টমেটো, ব্রুকলি,বেল কাঁচামরিচ ইত্যাদি আপনি আপনার খাবারের প্রতিদিন রাখুন।

ভিটামিন সি মাসিক নিয়মিত হওয়ার ঘরোয়া প্রতিশোধক হিসেবে কাজ করে।তেতুল,মালটা, জলপাই, লেবু,কামরাঙ্গা মাসিক নিয়মিত করতে সাহায্য করে।এছাড়াও চিনি মেশানোর তেতুল এক ঘন্টা ভিজিয়ে রেখে এর সাথে লবণ চিনি ও জিরার গুঁড়া মিশিয়ে দিনে দুইবার সেবন করুন।এটি আপনার অনিয়মিত মাসিক কে নিয়মিত করে দিবে।

তিল
তিল একটি কার্যকারী উপাদান। তিল আপনার অনিয়মিত মাসিককে নিয়মিত করতে সাহায্য করবে। তিল শরীরের হরমোন উৎপাদনে সাহায্য করে। অল্প পরিমাণে তেল ভেজে গুঁড়ো করে নিন এর সঙ্গে গুড় মিশিয়ে রোজ সকালে খালি পেটে এক চামচ করে খান দেখবেন উপকার পাচ্ছেন কিছুদিনের মধ্যে।

দ্রুত মাসিক হওয়ার উপায়

বর্তমান সময়ে অনিয়মিত মাসিক মেয়েদের জন্য খুব বড় একটি সমস্যা। দ্রুত মাসিক হওয়ার জন্য মেয়েরা অনেক ধরনের উপায় অবলম্বন করতে হয়। যেমন মেয়েদের নিয়মিত ব্যায়াম করতে হয় ঘরোয়া কিছু উপায় আছে যেগুলো অবলম্বন করতে হয় , ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হয় এছাড়া বিভিন্ন ধরনের ঔষধ বা ট্যাবলেট সেবন করতে হয়। এছাড়াও পরিবারের বড় সদস্যদের কাছ থেকে পরামর্শ নিয়ে চলাফেরা করতে হয়। মাসিক নিয়মিত করার জন্য কিছু ট্যাবলেট এবং উপায় আছে। ভিটামিন সি যুক্ত ফল খাওয়া , চিন্তা থেকে দূরে থাকা ,বেশি পরিমাণে পানি পান করা ইত্যাদি।
মাসিক দ্রুত হওয়ার জন্য আদা , জিরা , ডাবের পানি, এলোভেরা ,দারুচিনি ইত্যাদি প্রাকৃতিক ঔষধ হিসেবে ব্যবহার করলে মাসিক দ্রুত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। সঠিক পুষ্টিকর খাবার এবং নিয়মিত ব্যায়াম আপনার হরমোনের ভারসাম্যকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে এবং নিয়মিত পিরিয়ড বাড়াতে সাহায্য করে। নিয়মিত ব্যায়াম মানসিক চাপ কমাতে এবং স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখতে সাহায্য করে ।এই দুই উপায় নিয়মিত মাসিক চক্র অবদান রাখতে পারে।

একদিনে মাসিক হওয়ার ঘরোয়া উপায়

মেয়েদের প্রতি মাসে একবার করে মাসিক হয় আর এই মাসিকের স্থায়ী কাল ৫ থেকে ৭ দিন হয়ে থাকে। এ সময়ের মধ্যে মেয়েদের নানারকম সতর্কতা থাকতে হয় এবং অনেক যত্নের মধ্যে থাকতে হয় কারন এই সময়টা অনেক সেনসিটিভ হয়। মাসিক চলাকালীন সময় মেয়েদের একটু পুষ্টিকর ভালো খাবার খাওয়া দাওয়া করে তাহলে শরীরের রক্তের পরিমাণ বাড়ে। যাদের অনিয়মিত মাসিকের সমস্যা রয়েছে তারা একদিনে যদি মাসিক হওয়াতে চান তাহলে অতিরিক্ত টক জাতীয় ফল খান। টক জাতীয় ফলের মধ্যে ক্ষার থাকে যা মাসিক নিয়মিত হতে সাহায্য করে।

আপনি যদি তেতুল নিয়মিত খান তাহলে আপনার মাসিক ক্লিয়ার হয়ে যেতে পারে। আনারস খেলে মাসিকের সমস্যা একেবারে দূর হয়ে যাবে তাই যারা অনিয়ম মাসিকে সমস্যা নিয়ে ভুগছেন তারা কিছুদিন নিয়মিত আনারস খেতে পারেন। তাহলে দেখবেন যে আপনার মাসিক হয়েছে। এছাড়াও যদি বাচ্চা চলে আসার সম্ভাবনা থাকে কিন্তু এই সময় আপনি বাচ্চা নিতে চাচ্ছেন না ।তাহলে যদি আনারস খেয়ে থাকেন তাহলে দেখবেন একদিনের মধ্যেই মাসিক হয়ে গিয়েছে এবং আনওয়ান্টেড প্রেগনেন্সি থেকে মুক্তি পাবেন।

অতিরিক্ত ওজন থাকলে এবং অপুষ্টিকর খাদ্য খায় বা পুষ্টিকর খাবার খেতে চায় না তাদের মাসিক অনিয়মিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। একদিনে মাসিক হওয়ার জন্য শুধু ঘরোয়া উপায় নয় ডাক্তারের সাথে পরামর্শ নিতে পারেন। একজন স্বাস্থ্যকর্মী বা গাইনি বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের কাছ থেকে অনিয়মিত মাসিকের সমস্যা থেকে সমাধান পাওয়ার জন্য পরামর্শ নিতে পারেন।

সহবাসের পর মাসিক না হলে করণীয়

সহবাসের পর মাসিক না হলে সর্বপ্রথম আপনাকে প্রেগনেন্সি টেস্ট করতে হবে। কারণ সহবাসের পর পরবর্তী মাসে মাসিক মিস হলে সেটাকে প্রেগন্যান্ট হওয়ার লক্ষণ হিসেবে ধরা হয়। মাসিক হওয়ার পর প্রেগনেন্সি টেস্ট সঠিক রিপোর্ট পেতে হলে নির্ধারিত মাসিক হওয়ার অন্তত কমপক্ষে ১৫ দিন পরে প্রেগনেন্সি টেস্ট করতে হবে। প্রেগনেন্সি টেস্ট করার সবচেয়ে সহজ পদ্ধতি হলো প্রেগনেন্সি কীট। যা যেকোন ঔষধের ফার্মেসি থেকে প্রেগনেন্সি টেস্টের কিট পাবেন। সারারাত ঘুমানোর পর সকালে যে সর্বপ্রথম প্রসাব করবেন।

একটি পরিষ্কার পাত্রে সেই প্রস্রাবের নমুনা সংগ্রহ করুন, এরপর দোকান থেকে আনা প্রেগনেন্সি স্টেপটি খাড়া ভাবে রাখুন তবে খেয়াল রাখবেন যেন নির্ধারিত লাইনের বাইরে চলে না যায়। এ পদ্ধতি ছাড়াও ঘরোয়া কিছু পদ্ধতি রয়েছে যার মাধ্যমে আপনি প্রেগনেন্সি টেস্ট করতে পারবেন যেমন সাবান্‌ শ্যাম্পু,চিনি,টুথপেস্ট,সরিষার গুঁড়া,ভিনেগার বেকিংপাউডার মাধ্যমে প্রেগনেন্সি টেস্ট করে নিতে পারবেন।

যদি প্রেগনেন্সি টেস্ট রিপোর্ট নেগেটিভ আসে তাহলে মাসিক না হওয়ার কারণ হিসেবে ধরে নিতে হবে।এটি আপনার অনির্মিত মাসিকের জন্য। অনিয়মিত মাসিকের সমাধানের জন্য আপনি খেতে পারেন কাঁচা পেঁপে , কাঁচা হলুদ, অ্যালোভেরার রস ,আদা, জিরা, পুষ্টিকর ও স্বাস্থ্যসম্মত খাবার।

শেষ কথা

মাসিকের মাধ্যমে আমরা মাতৃত্বের সাধ অনুভব করতে পারি। অনিয়মিত মাসিকে সমস্যার জন্য আমরা অনেক উপায় অবলম্বন করি এবং বিভিন্ন ধরনের ওষুধ সেবন করে থাকে। তবে অতিরিক্ত ওষুধ সেবন করা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। অনিয়মিত মাসিককে নিয়মিত করতে ইমারজেন্সি পিল ইঞ্জেকশন ইত্যাদি জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ব্যবহার করে থাকে।তবে মনে রাখতে হবে ইমারজেন্সি পিল মাসিক হওয়ার ঔষধ নয় বরং অনাকাঙ্ক্ষিত প্রেগনেন্সি প্রতিরোধে পিল।

মাসিক হওয়ার জন্য অতিরিক্ত ট্যাবলেট বা ঔষধ সেবন করা থেকে বিরত থাকা উচিত।যেহেতু মাসিক মেয়েদের জীবনে প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া। শারীরিকভাবে অসুস্থতার জন্য সাময়িকভাবে মাসিক বন্ধ থাকতে পারে এ ক্ষেত্রে ঘরোয়া কিছু উপায়ে অনিয়মিত মাসিককে নিয়মিত করা যায়। মাসিকের সমস্যার জন্য অবশ্যই বিশেষজ্ঞ ডাক্তার বা স্বাস্থ্যকর্মীর পরামর্শ অনুযায়ী ঔষধ সেবন করা ।

আশা করছি, আজকের এই আর্টিকেল পড়ে মাসিক হওয়ার ট্যাবলেট এর নাম জানতে পেরেছেন। আমি চেষ্টা করেছি আপনাদের মাঝে মাসিকের সমস্যা নিয়ে সকল তথ্য তুলে ধরার জন্য।আপনার প্রজনন স্বাস্থ্যের ওপর যত্ন নিন এবং সচেতন হোন ও সুষম নিয়মিত করতে হবেমাসিক চক্র উপভোগ করুন।


এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url