মাসিক মিস হওয়ার কতদিন পর প্রেগন্যান্ট বোঝা যায়

 

মাসিক মেয়েদের জীবনে সবচেয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তবে মাসিক মিস হওয়ার কতদিন পর প্রেগন্যান্ট বোঝা যায় এ বিষয়ে অনেকেই জানে না। কিংবা প্রেগন্যান্সি টেস্ট করার ঘরোয়া পদ্ধতি এটাও জানেন না। আজকের এই আর্টিকেলে মাসিক মিস হওয়ার কতদিন পর প্রেগন্যান্ট বোঝা যায় এ নিয়ে বিস্তারিতভাবে আলোচনা করেছি। আশা করছি সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়লে মাসিক মিস হওয়ার কতদিন পর প্রেগন্যান্ট বোঝা যায় এ সম্পর্কে তথ্য জানতে পারবেন।
মাসিক মিস হওয়ার কতদিন পর প্রেগন্যান্ট বোঝা যায়
অনেক নারীরা ভেবে থাকে মাসিক মিস হলে প্রেগন্যান্ট হয়। আজকের এই আর্টিকেলে মাসিক মিস হওয়ার কতদিন পর প্রেগন্যান্ট বোঝা যায় এ নিয়ে বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়েছে। আশা করছি এই আর্টিকেলটি  সম্পূর্ণ পড়লে মাসিক নিয়ে সকল সমস্যার সমাধান পাবেন।

ভূমিকা

মাসিক কোন রোগ নয়। মাসিক মেয়েদের জীবনে হরমোন জনিত শরীর বৃত্তীয় প্রক্রিয়া। মেয়েদের সাধারণত বয়ঃসন্ধিকাল থেকে থেকে মাসিক বা ঋতুচক্র শুরু হয়। সাধারণত ১১ থেকে ১৪ বছর বয়সে একটি মেয়ে ঋতুবর্তী হয়। মেয়েদের প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ বছর পর্যন্ত এই ঋতুস্রাব প্রক্রিয়া চলতে থাকে। মাসিকের সময়কাল তিন থেকে সাত দিন পর্যন্ত হতে পারে। মাসিকের সময় একটি মেয়ের শরীর থেকে ৩০থেকে ৮০ মি,লি রক্ত প্রবাহিত হয়। মাসিক সাধারণত ২৮ থেকে ৩০ দিন পর পর হয়ে থাকে।

মাসিক মিস হওয়ার কতদিন পর প্রেগন্যান্ট বোঝা যায়

মাসিক মিস হওয়ার কতদিন পর প্রেগন্যান্ট বোঝা যায় এ নিয়ে অনেকেই দুশ্চিন্তায় থাকে। মাসিক বা পিরিয়ড তারিখ পার হয়ে যাবার পর অনেকেই চিন্তায় করে থাকেন যে প্রেগন্যান্ট হয়ে পড়লে কিনা। তবে জেনে রাখা উচিত যে গর্ভবতী হওয়া ছাড়াও মাসিক মিস হতে পারে। মাসিক মিস হওয়ার অনেক ধরনের কারণ থাকতে পারে শুধু যে প্রেগন্যান্ট হলেই মাসিক মিস হবে এমন না। সাধারণত মাসিক মিস হওয়ার পর দুই সপ্তাহের মধ্যেই অধিকাংশ মহিলাদের প্রেগন্যান্ট লক্ষণগুলো দেখা দিতে পারে। এছাড়া অনেকের দুই সপ্তাহ আগেও বোঝা যেতে পারে তবে। প্রেগনেন্সির সম্পূর্ণ লক্ষণ প্রকাশ পেতে ছয় থেকে আট সপ্তাহ পর্যন্ত সময় লাগে।
সাধারণত মাসিক মিস হওয়ার ১০ দিন পরে প্রেগনেন্সি টেস্ট করা যায়। যদি ১০ দিন পরে কোন ফলাফল না পাওয়া যায় তাহলে পুনরায় ৫ থেকে ১০ দিন পর প্রেগনেন্সি টেস্ট করতে হয়। প্রেগন্যান্ট হলে ছয় থেকে আট সপ্তাহের মধ্যে সম্পন্ন লক্ষণ বোঝা যায় কারণ মাসিক মিস হওয়ার পর প্রেগনেন্সির লক্ষণগুলো দেখা দিতে শুরু করে। তাহলে নিশ্চয় বুঝতে পেরেছেন যে মাসিক মিস হওয়ার কতদিন পর প্রেগন্যান্ট বোঝা যায়।

প্রেগন্যান্ট হওয়ার কত দিন পর মাসিক বন্ধ হয়

একজন নারী প্রেগন্যান্ট হওয়ার সর্বপ্রথম যে কারণ তা হলো মাসিক মিস হওয়া। একজন নারী প্রেগন্যান্ট হলে তার পরবর্তী মাস থেকেই তার মাসিক বন্ধ হয়ে যাবে। সাধারণত ২৮ থেকে ৩৫ দিন পর একজন নারীর মাসিক ঋতুচক্র হয়ে থাকে। বিয়ের পরে আপনার নিয়মিত মাসিক হলে হঠাৎ পরবর্তী মাস থেকে যদি মাসিক বন্ধ হয়ে যায় তাহলে বুঝে নিবেন আপনি প্রেগন্যান্ট। আশাকরি বুঝতে পেরেছেন প্রেগন্যান্ট হওয়ার কতদিন পর মাসিক বন্ধ হয়ে যায়।

প্রেগন্যান্সি কতদিন পর বুঝা যায়

অধিকাংশ নারী মাসিক মিস করার আগে থেকেই প্রথম সপ্তাহে ৮০ শতাংশ মহিলা ও বমির ভাব ও মাথা ঘুরে এই সমস্যা হয়ে থাকে। মাসিক মিস হওয়ার কতদিন পর প্রেগন্যান্ট বোঝা যায় এ নিয়ে অনেকের ভুল ধারণা রয়েছে। এছাড়াও স্তন ফুলে যাওয়া, ভারী হয়ে যাওয়া ও প্রেগনেন্সির লক্ষণ। মাসিক মিস হওয়াকেই প্রেগনেন্সির একমাত্র লক্ষণ নয়। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় মহিলাদের নিয়মিত পিরিয়ড হওয়া সত্ত্বেও প্রেগন্যান্ট হয়। প্রেগন্যান্ট হলে সাধারণত দুই সপ্তাহের মধ্যে শরীরে বিভিন্ন পরিবর্তন আসে।
প্রেগনেন্ট হওয়ার এক মাস পর থেকে মর্নিং সিকনেস এই সমস্যা দেখা দেয়। চার থেকে পাঁচ সপ্তাহ পর বমি শুরু হয়, খাবারে অরুচি, পেট ফুলে যাওয়া ও গ্যাসের সমস্যা ইত্যাদি। এছাড়া শরীর দুর্বল লাগা, মাথা ঘোরা ইত্যাদি গুলো প্রেগনেন্সি লক্ষণ।

লবন দিয়ে প্রেগন্যান্সি টেস্ট

ঘরে বসে অল্প খরচে প্রেগনেন্সি টেস্ট করা যায়। প্রেগনেন্সি টেস্ট করার ঘরোয়া অনেক উপায় রয়েছে যার মধ্যে লবণ একটি। ঘরে থাকা উপকরণ দিয়ে ব্যক্তিগতভাবে প্রেগনেন্সি টেস্ট করার একটি প্রাকৃতিক কৌশল। তাহলে জেনে নিন লবণ দিয়ে প্রেগনেন্সি টেস্ট করার নিয়ম।
  • প্রথমে একটি পরিষ্কার পাত্রে আপনি প্রসাবের নমুনা সংগ্রহ করুন।
  • এরপর একটি পরিষ্কার পাত্রে দুই চামচ লবণ নিন।
  • এরপর লবনের ওপর প্রস্রাব ঢেলে নিন।
  • কয়েক মিনিট অথবা কয়েক ঘন্টা পর্যন্ত অপেক্ষা করুন।
  • এটি নির্দিষ্ট অপেক্ষার সময় কাল নেই। কারণ একেকজনের ক্ষেত্রে একেক সময় লাগতে পারে।
  • যদি আপনি প্রেগন্যান্ট হয় তাহলে মিশ্রণটি রূপরত দিক থেকে চিজ বা দুধের মত রংয়ের আকার ধারণ করবে। এছাড়া মিশ্রণটির ওপর ফেনা ও থাকতে পারে।
  • যদি আপনিপ্রেগন্যান্ট না হয়ে থাকে তবে এ সকল কোন পরিবর্তন দেখা দিবে না এটি সাধারণ প্রস্রাবের মত দেখতে হবে যার মধ্যে কিছুটা লবণ থাকবে।
  • সকালে ঘুম থেকে ওঠার পরেই এই লবণ দিয়ে টেস্ট করলে ভালো ফলাফল পাওয়া যায় কারণ সকালে প্রথম যে প্রস্রাব হয় এতে এইচ সি জি ঘনীভূত অবস্থায় থাকে।
  • টেস্ট করার সময় যদি আপনি খুব তাড়াতাড়ি করেন তাহলে ভুল ফলাফল পেতে পারেন।

পিরিয়ড মিস হওয়ার কতদিন পর প্রেগন্যান্সি টেস্ট করতে হয়

বিয়ের পর মেয়েদের পিরিয়ড মিস হলে দুশ্চিন্তায় থাকেন। কারণ নিয়মিত পিরিয়ড হওয়ার পর হঠাৎ করে বন্ধ হয়ে গেলে সেটাকে অনেকেই প্রেগন্যান্ট লক্ষণ মনে করে। তবে পিরিয়ড বিভিন্ন কারণে বন্ধ হতে পারে। প্রেগনেন্ট কিনা তা আমরা প্রেগনেন্সি টেস্টের মাধ্যমে জানতে পারি। দুই ভাবে প্রেগনেন্সি টেস্ট করা যায় ব্লাড টেস্ট ও ইউরিন টেস্ট। সাধারণত ব্লাড টেস্ট আমরা করি না। ইউরিন টেস্ট করে থাকি। যদি ইউরিন এর মাধ্যমে ভালো ফলাফল পেতে চান তাহলে মাসিক বন্ধ হওয়ার ১৫ দিন পর টেস্ট করলেই নিশ্চিত ফলাফল পাওয়া যায়।
যদি ১৫ দিন পর টেস্ট করলে নেগেটিভ ফলাফল আসে তাহলে ৫ থেকে ১০ দিন পর করলে সঠিক ফলাফল আসবে। যাদের নিয়মিত মাসিক হয় তাদের জন্য এই টেস্টটি কার্যকর। যাদের নিয়মিত মাসিক হয় তারা মাসিক যেদিন হওয়ার কথা সেদিন থেকে ১৫দিন পর এই টেস্ট টি করুন তাহলে আপনি জানতে পারবেন প্রেগন্যান্ট কিনা।

প্রেগন্যান্সি টেস্ট করার ঘরোয়া পদ্ধতি

গর্ভাবস্থা পরীক্ষা করার জন্য ঘরোয়া কিছু আধুনিক পদ্ধতি কয়েক শতাব্দী ধরে ব্যবহার হয়ে আসছে। এই প্রাকৃতিক প্রেগনেন্সি অনেকগুলি পরীক্ষা জানা খুব জরুরী কারণ এগুলো ব্যবহার করা সহজ। তাই প্রেগন্যান্সি টেস্ট করার ঘরোয়া পদ্ধতি জানতে হলে সম্পূর্ণ পড়ুন।

চিনি দিয়ে প্রেগনেন্সি টেস্ট
দীর্ঘ কাল ধরে প্রেগনেন্সি টেস্ট করার জন্য চিনি ব্যবহার করা হয়ে আসছে যা মানুষের কাছে সবচেয়ে স্বাভাবিক প্রেগনেন্সি টেস্ট করার পদ্ধতি। চিনি দিয়ে প্রেগনেন্সি টেস্ট করার জন্য যেগুলো দরকার তা হলো-প্রথমে একটি পরিষ্কার পাত্র নিতে হবে। এক থেকে দেড় চামচ চিনি নিন। পাত্রের মধ্যে এক থেকে দেড় চামচ চিনি ও প্রস্রাবের নমুনা সমপরিমাণে ঢালুন অপেক্ষা করতে থাকুন এবং দেখুন। আপনি লক্ষ্য করবেন যে তিনি যদি চিনি তরল অবস্থায় না থেকে পরবর্তীতে জমাট বেঁধে যায় তাহলে এটি প্রেগন্যান্সি স্পষ্ট চিহ্ন।

টুথপেস্ট দিয়ে প্রেগনেন্সি টেস্ট
প্রাকৃতিকভাবে টুথপেস্ট দিয়ে প্রেগনেন্সি টেস্ট করার একটি আধুনিক উপায়। রঙিন টুথপেস্ট ব্যবহার করলে ফলাফল ভালো না হতে পারে তাই প্রেগনেন্সি টেস্ট করার জন্য সাদা টুথপেস্ট বেছে নিন। প্রথম একটি পরিষ্কার পাত্র নিন। ২ টেবিল চামচ টুথপেস্ট। পরিষ্কারপাত্রের মধ্যে দুই টেবিল চামচ টুথপেস্ট ও এক টেবিল চামচ প্রসাব যোগ করুন অপেক্ষা করতে থাকুন এবং দেখুন। আপনি যদি গর্ভবতী হয়ে থাকেন তাহলে টুথপেস্ট ও প্রস্রাবের রং পরিবর্তন হয়ে নীলচে রং হবে।এতে আপনি বুঝতে পারবেন যে আপনি প্রেগন্যান্ট।
শ্যাম্পু দিয়ে প্রেগনেন্সি টেস্ট
শ্যাম্পু দিয়ে প্রেগনেন্সি টেস্ট সাবান বা টুথপেস্ট থেকেও সুবিধা জনক এর প্রধান কারণ হলো প্রেগনেন্সি টেস্ট করার জন্য এর কোন বিশেষ সরঞ্জাম প্রয়োজন হয় না। এছাড়া ফলাফল গুলো খুব তাড়াতাড়ি পাওয়া যেতে পারে। প্রথমে একটি পরিষ্কার পাত্রে দুই ফোঁটা শ্যাম্পু নিন কিছুটা পানি মিশিয়ে তরল করে নিন। এরপর পাত্রের শ্যাম্পু ও প্রস্রাব একসাথে যোগ করুন খুব সাবধানতা অবলম্বন করুন যাতে ফেনা তৈরি না হয়। যদি শ্যাম্পু ফেঁপে বা বুদবুদ সৃষ্টি না হয় তবে আপনি বুঝতে পারেন যে প্রেগনেন্ট হওয়ার চিহ্ন।

ডেটল দিয়ে প্রেগনেন্সি টেস্ট
প্রায় সবার বাড়িতেই অ্যান্টিসেপটিক হিসেবে ডেটল ব্যবহার হয়। ছোটখাটো কাটা পোড়া চিকিৎসার জন্য ডেটল ব্যবহার হয়। ডেটল দিয়ে প্রেগনেন্সি পরীক্ষা করা যায়। তাহলে জেনে নিন কিভাবে ডেটল দিয়ে প্রেগনেন্সি পরীক্ষা করা হয়। প্রথমে একটি পরিষ্কার গ্লাস নিন। ডেটল এক চামচ ও তিন চামচ প্রস্রাব নিন। ভালোভাবে মিশিয়ে অপেক্ষা করুন। কিছুক্ষণ পর লক্ষ করুন যদি প্রস্রাবটি ডেটল থেকে আলাদা হয়ে উপরে পৃথক একটি স্তর তৈরি করে তবে আপনি গর্ভবতী চিহ্ন।

ব্লিচিং পাউডার দিয়ে প্রেগনেন্সি টেস্ট
ব্লিচিং পাউডার জামাকাপড় কাঁচা টয়লেট পরিষ্কার করা ইত্যাদি কাজে ব্যবহার হয়। প্রেগনেন্সি টেস্ট করার জন্য ব্লিচিং পাউডার একটি কার্যকর উপাদান। ব্লিচিং পাউডার ব্যবহারের সুবিধা হল যে ফলাফল মোটামুটি দ্রুত দেখা যেতে পারে। প্রথমে একটি পরিষ্কার গ্লাস নিন এক টেবিল চামচ ব্লিসিং পাউডার নিন সমপরিমাণের প্রস্রাব ঢালুন। কিছু সময় অপেক্ষা করুন। লক্ষ্য করে দেখুন যদি মিশ্রণটি ফেনা সহ গেজে ওঠা শব্দ শুনতে পান এবং প্রচুর বুদবুদ ও ফেনা সৃষ্টি হয় তবে এটি প্রেগন্যান্ট হওয়ার শক্তিশালী ইঙ্গিত।

মাসিক না হলে কি প্রেগন্যান্ট

মাসিক হলো মেয়েদের জীবনের মাতৃত্বের অবিচ্ছেদ অংশ কারণ মাসিক ছাড়া মা হওয়া সম্ভব নয়। বিয়ের পর মাসিক বন্ধ হলে ধরে নেওয়া হয় মেয়েটি প্রেগনেন্ট। মাসিক বা ঋতুস্রাব বন্ধ হওয়ার জন্য অন্য কোন কারণও হতে পারে। আপনি যদি প্রেগনেন্ট হয়ে থাকেন তাহলে মাসিক বা ঋতুচক্র শুরু হওয়া সম্ভব নয়।সাধারণত মেয়েদের ২৪ থেকে ৩৫ দিন পর পর মাসিক বা পিরিয়ড হয়ে থাকে।

একজন নারীর নিয়মিত সময়মতো মাসিক বা পিরিয়ড হওয়া সুস্বাস্থ্যের লক্ষণ । তবে অনেক ক্ষেত্রে যদি অনিয়মিত হয়ে থাকে তাহলে শারীরিক কোন সমস্যার থাকতে পারে।। তাই দুশ্চিন্তার কোন কারণ নেই যে মাসিক না হলেই সে কি প্রেগনেন্ট হয়।

গর্ভবতী হওয়ার প্রথম লক্ষণ গুলো কি কি

গর্ভবতী হওয়ার প্রথম এক বা দুই সপ্তাহে তেমন কোন সুনির্দিষ্ট লক্ষণ প্রকাশ পায় না। গর্ভবতী হওয়ার এক মাস পর নারীরা বুঝতে পারে যে সে গর্ভধারণ করেছে। গর্ভবতী হওয়ার প্রথম যে লক্ষণটি নারীরা খেয়াল করে তা হল পিরিয়ড মিস হাওয়া। এ ছাড়া আরও কিছু লক্ষণ প্রকাশ পায় যেমন মাথা ঘুরানো, স্তনের চাপ দিলে ব্যথা অনুভব, করা বমি বমি লাগা, ক্লান্তি অনুভব করা ইত্যাদি।
তবে এ সকল লক্ষণ দেখা দিলে যে আপনি গর্ভবতী এটা সুনিশ্চিত ভাবে বলা সম্ভব নয়। আপনি গর্ভবতী কিনা তা জানার জন্য সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য পদ্ধতি হলো প্রেগনেন্সি টেস্ট করা। আপনি প্রেগনেন্সি টেস্টের মাধ্যমে জানতে পারবেন আপনি প্রেগন্যান্ট কিনা।

প্রেগন্যান্সি টেস্ট কখন করা ভালো

গর্ভধারণের প্রথম মাসে তেমন কোন লক্ষণ পাওয়া যায় না। দিনে যেকোনো সময় প্রেগন্যান্সি টেস্ট করা যায়। আপনি ডাক্তার কিংবা স্বাস্থ্যকর্মীর কোন সাহায্য ছাড়াই ঘরে বসে নিজেই প্রেগনেন্সি টেস্ট করতে পারবেন। প্রেগনেন্সি টেস্ট সাধারণত গর্ভবতী নারীদের প্রসাবের একটি হরমোনের উপস্থিতি নির্ণয় করা, গর্ভবতী নারীদের গর্ভধারণের প্রথম দিকে এই হরমোনের লক্ষণ অল্প পরিমাণে থাকে। তাই সহবাসের পর পরে টেস্ট করলে সাধারণত হরমোনের নেগেটিভ ফলাফল দেখা দিতে পারে।

এজন্য সহবাসে পর কমপক্ষে ২১ দিন অথবা পরবর্তী মাসিকের তারিখ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়। প্রেগনেন্সি টেস্ট এর সঠিক ফলাফল পেতে সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর প্রথম প্রস্তাবের নমুনা দিয়ে প্রেগনেন্সি টেস্ট করলে সঠিক রিপোর্ট পাওয়া যায় ।কারণ এই সময় প্রস্রাবে এইচ সি জি হরমোনের উপস্থিত ঘনীভূত থাকে।

বাচ্চা নেওয়ার জন্য সহবাসের উপযুক্ত সময়

মেয়েদের জীবনের মাতৃত্ব একটি আনন্দদায়ক অনুভূতি। আপনি যদি বাচ্চা নেওয়ার জন্য পরিকল্পনা করে থাকেন তাহলে আপনাকে জানতে হবে সহবাসে উপযুক্ত সময় এবং মাসের কোন সময় আপনার ওভুলেশন হচ্ছে। নারীদের সাধারণত ২৮ থেকে ৩৫ দিন পর পর পিরিয়ড বা মাসিক হয়ে থাকে। কিন্তু সব নারীদের ২৮ দিনের মাসিক চক্র হয় না।একজন মহিলার পিরিয়ড শেষ হওয়ার ১০ থেকে ২০ তম দিনের মধ্যে ওভুলেশন ঘটে। বাচ্চা নেওয়ার জন্য সহবাসের নিয়ম সাধারণত এই মাসিক চক্রের ২৬ থেকে ৩২ দিনেই হয়। এছাড়া পরবর্তী মাসিকের প্রায় ১২ থেকে ১৪ দিন আগে।

পিরিয়ডের কতদিন পর সহবাস করলে সন্তান হয়

মাসিকের কতদিন পরে সহবাস করলে সন্তান হয় এবং মাসিকের পরে এমন কিছু দিন থাকে যখন ডিম্বানু গুলো সবচেয়ে বেশি উর্বর থাকে এবং গর্ভবতী হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। এই সময়কালকে উর্বর উইন্ডো বলা হয়ে থাকে।সাধারণত একজন মহিলার মাসিক শুরু হওয়ার প্রায় ১০থেকে ১৪ দিন পরে ঘটে। অনেক মহিলাদের ক্ষেত্রে এটা নির্ভর করে মাসিক চক্রের দৈর্ঘ্যের উপর।
মাসিকের কত দিন পরে সহবাস করলে সন্তান হয় সেটা উর্বর উইন্ডোর ওপর নির্ভর করে।মেয়েদের ডিম্বাসয় থেকে একটি ডিম্বানু ত্যাগ করলে যা ফলোপিয়ান টিউব বা জরায়ুতে ভ্রমণ করে। এই সময় সহবাস করলে ডিম্বাণু ও শুক্রাণু দ্বারা নিষিক্ত হয় তাহলে গর্ভবতী হতে পারে। নারীদের দেহে শুক্রাণু ৫ দিন পর্যন্ত বেঁচে থাকতে পারে তাই ডিম্বস্ফোটনের কয়েকদিন আগে সহবাস করলে দ্রুত গর্ভবতী হওয়া সম্ভব।

শেষ কথা

মাসিক মেয়েদের জীবনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটা অবিচ্ছেদ অংশ। মাসিকের মাধ্যমে মেয়েদের জীবনে মাতৃত্বের স্বাদ অনুভব করে। নিয়মিত মাসিক হওয়া স্বাস্থ্যের জন্য ভালো। কারণ অনিয়মিত মাসিকের সমস্যা থাকলে গর্ভধারণ সম্ভব নয়। পরবর্তী মাসে মাসিক বন্ধ হয়ে গেলে ১০থেকে ১৫ দিন অপেক্ষা করে প্রেগন্যান্সি টেস্ট করলেই আপনি জানতে পারবেন গর্ভধারণ হয়েছে কিনা।

আশা করি আজকের আর্টিকেলটি পড়ে আপনাদের জানা অজানা বিষয়গুলো জানতে পেরেছেন। অধিকাংশ বিবাহিত নারীরা বিয়ের পর মাসিক মিস হওয়ার কতদিন পর প্রেগন্যান্ট বোঝা যায় এ বিষয় নিয়ে প্রতিনিয়ত চিন্তায় থাকে। আজকের এই আর্টিকেলটি পড়ে এই বিষয়ে সমস্যার সমাধান খুঁজে পাবে। ধৈর্য সহকারে সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ার জন্য ধন্যবাদ।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url