খুশকি থেকে মুক্তি পাওয়ার ১০ টি সহজ ঘরোয়া উপায়

 

প্রিয় পাঠক, আপনার চুলে কি খুশকি সমস্যা নিয়ে নাজেহাল? যদি এমনটা হয় তাহলে আমার লেখা খুশকি থেকে মুক্তি পাওয়ার সহজ ঘরোয়া উপায় এই আর্টিকেলটি সম্পূর্ণ পড়ুন। কারন এই আর্টিকেলে খুশকি থেকে মুক্তি পাওয়ার সহজ ঘরোয়া উপায় এবং মাথার ত্বকের চুলকানি দূর করার উপায় সম্পর্কে বিস্তারিত ভাবে আলোচনা করেছি। তাই আপনার যদি খুশকের সমস্যা হয়ে থাকে তাহলে খুশকি থেকে মুক্তি পাওয়ার সহজ ঘরোয়া উপায় এই আর্টিকেলটি সম্পূর্ণ নিশ্চিন্তে পড়তে পারেন।
খুশকি থেকে মুক্তি পাওয়ার ১০ টি সহজ ঘরোয়া উপায়
আশা করি খুশকি থেকে মুক্তি পাওয়ার সহজ ঘরোয়া উপায় এই আর্টিকেলটি পড়ে আপনি উপকৃত হবেন। আপনাদের সুবিধার্থে খুশকি দূর করার প্রয়োজনীয় সকল ধরনের তথ্য এই আর্টিকেলে আলোচনা করেছি। তাহলে দেরি না করে সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন এবং বিস্তারিত তথ্য জানুন।

ভূমিকা

খুশকি আমাদের কাছে অতি পরিচিত একটি চর্মরোগ। খুশকির সমস্যায় ভোগে না এমন মানুষের সংখ্যা খুবই কম আছে। নারী পুরুষ সকলেই খুশকি সমস্যা নিয়ে বিব্রতকর অবস্থায় পড়ে। খুশকি হওয়ার মূল কারণ হলো ফাঙ্গাল ইনফেকশন। শীত আসতেই খুশকি সমস্যা বেড়ে যায়। তবে অনেকের সারা বছর খুশকির সমস্যা নিয়ে চিন্তিত থাকে। কিন্তু আমরা অনেকেই এ বিষয় নিয়ে খুব একটা গুরুত্ব দেই না ।
কারণ আমরা মনে করি যে এটা তেমন কোন সমস্যা হবে না। বিভিন্ন ধরনের প্রোডাক্ট ও পার্লারে ট্রিটমেন্ট করে খুশকি দূর করতে পারে না। যা আপনার চুলের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। তবে অনেকে খুশকি থেকে মুক্তি পাওয়ার সহজ ঘরোয়া উপায় সম্পর্কে জানেনা। এমন কিছু পদ্ধতি রয়েছে যেগুলো অবলম্বন করে আপনি খুব সহজেই খুশকি দূর করতে পারবেন।

মাথায় খুশকি কেন হয়

খুশকি আমাদের জীবনে অন্যতম বড় একটি সমস্যা। এর সঠিক গুরুত্ব না দিলে এটি থেকে বড় ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে। খুশকি সাধারণত শীতকাল বা বর্ষাকালে বেশি হয়ে থাকে। তবে অনেকের সারা বছর এই খুশকির সমস্যায় ভোগেন। খুশকির কারণে মাথায় চুলকানি ছাড়াও চুল পড়ার সমস্যা হয়। বর্তমান সময়ের অতিরিক্ত দূষণ, আবহাওয়ার পরিবর্তন, অস্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রার ফলে প্রায় সারা বছরে খুশকি সমস্যা দেখা দেয়। খুশি থেকে মুক্তি পাওয়ার সহজ ঘরোয়া উপায় সম্পর্কে অনেকেই জানেনা।তাই খুশকি থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য শুরুতেই কিছু পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। তবে তার আগে আপনাকে জানতে হবে মাথায় খুশকি কেন হয়।

অতিরিক্ত ময়লাঃ চুলে যদি ময়লা জমে এবং তা যদি ঠিকঠাক পড়ে মতো পরিষ্কার না করা হয় তাহলে খুশকি সমস্যা বেড়ে যায়। তাই যারা নিয়মিত বাহিরে কাজ করে বা বাহিরে চলাফেরা করে তাদের এই খুশকি হওয়ার ঝুঁকি অনেক বেশি থাকে।

ফাঙ্গাল ইনফেকশনঃ খুশকি হওয়ার মূল কারণ হলো ফাঙ্গাল ইনফেকশন এবং অন্য কারো ব্যবহ্রত চিরুনি ব্যবহারের মাধ্যমে এটি ছড়াতে পারে। চুল নিয়মিত পরিষ্কার না করলে বা মাথার ত্বকে অতিরিক্ত পরিমাণ ঘাম জমলে  ফাঙ্গাল ইনফেকশন হওয়ার সম্ভাবনা বেশি দেখা দেয়।
গরম পানি দিয়ে গোসল করলেঃ গরম পানি দিয়ে গোসল করলে মাথার ত্বকে খুশির সমস্যা বেশি লক্ষ্য করা যায়। গোসল করা বা চুল পরিষ্কার করার ক্ষেত্রে সাধারণ তাপমাত্রায় পানি ব্যবহার করুন। গরম পানি মাথায় ব্যবহার করলেন খুশকি সমস্যায় আরও বিরূপ প্রতিক্রিয়া হয়ে উঠতে পারে।

মাথায় তৈলাক্ত ত্বকঃ অনেকের মাথার ত্বক অতিরিক্ত তৈলাক্ত বা শুষ্ক হওয়ার কারণে খুশকির সমস্যা দেখা দিতে পারে। মাথায় তৈলাক্ত ত্বকে ধুলাবালি বা ময়লা বেশি জমে। যারা দৈনন্দিন সঠিকভাবে চুল আচঁড়ায় না, চুল ঠিকমতো শ্যাম্পু দিয়ে পরিষ্কার করে না তাদের ক্ষেত্রে এই খুশকির সমস্যা বেশি লক্ষ্য করা যায়।

নিম্নমানের পণ্য ব্যবহারের কারণেঃ ত্বকের মতো চুল ও স্পর্শকাতর। তাই চুলের জন্য মানসম্মত পণ্য সামগ্রী ব্যবহার করা উচিত। কারণ নিম্নমানের পণ্য ব্যবহারের কারণে মাথার ত্বকে খুশকি সমস্যা দেখা দেয়। চুলের যত্নে কোন পণ্যটি ব্যবহার করলে চুল ভালো হবে সেদিকে লক্ষ্য রাখবেন। এছাড়া দুই একবার ব্যবহারের পরে লক্ষ্য করতে পারবেন যে পণ্যটি ব্যবহার করে কোন পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয় কিনা।

বংশগত খুশকির সমস্যাঃ অন্যান্য সকল রোগের মত খুশকি ও বংশগত কারণে হতে পারে। তবে খুশকির সমস্যায় চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া আবশ্যক। এছাড়া দীর্ঘদিন মানসিক সমস্যায় বা অতিরিক্ত ক্লান্তি তে থাকার ফলে খুশকি সমস্যা হতে পারে।

খুশকিযুক্ত চিরুনি বা তোয়ালের ব্যবহারঃ পরিবার বা বন্ধুদের মাথার ত্বকের খুশকি থাকলে তাদের ব্যবহৃত চিরুনি বা তোয়ালে ব্যবহারের কারণে খুশকি সমস্যা হয়। তাই চেষ্টা করবেন অন্যের ব্যবহৃত জিনিসপত্র ব্যবহার থেকে বিরত থাকা।

খুশকি থেকে মুক্তি পাওয়ার সহজ ঘরোয়া উপায়

চুলের জন্য খুশকি এক বিব্রত কর সমস্যা। আমাদের দৈনন্দিন জীবনে স্বাস্থ্য সংক্রান্ত বিভিন্ন সমস্যা দেখা দেয়। তার মধ্যে একটা সমস্যা হলো খুশকি। খুশকি শুধু মাথার ত্বকের ক্ষতি করে না বরং চুল পড়া সমস্যার কারণ হতে পারে। এছাড়া একবার খুশকি সমস্যা হলে আর যেতে ও চায় না। খুশকির সমস্যায় শুরুতেই যথাযথ গুরুত্ব না দিলে এর সংক্রমণ আরো বাড়তে পারে। খুশকির সমস্যার কারণে লোকসমাজে আমাদের লজ্জায় পড়তে হয়। অনেকেই খুশকি দূর করার জন্য অ্যান্টি ড্যানড্রাফ শ্যাম্পু ব্যবহার করে বা পার্লারে ট্রিটমেন্ট করে থাকেন।
তবে এতে খুশকি সমস্যা দূর না হয়ে উল্টো চুলের বিভিন্ন ধরনের ক্ষতি হয়ে যায়। সারা বিশ্বের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৫০ শতাংশের বেশি মানুষ এই খুশকি সমস্যা ভোগেন। তবে অনেকে খুশকি থেকে মুক্তি পাওয়ার সহজ ঘরোয়া উপায় সম্পর্কে জানেন না। ঘরে থাকা কয়েকটি জিনিস দিয়ে খুব সহজেই খুশকি সমস্যার সমাধান করতে পারবেন। তাহলে জেনে নিন খুশকি থেকে মুক্তি পাওয়ার সহজ ঘরোয়া উপায় সম্পর্কে বিস্তারিত-

সরিষার তেল ও লেবু
লেবুর রস ও সরিষার তেল ভালো করে মিশিয়ে মাথার ত্বকে ম্যাসাজ করুন। ৫ থেকে ১০ মিনিট মাথার ত্বকে লাগিয়ে শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। সম্পূর্ণ খুশকি সমস্যা দূর না হওয়া পর্যন্ত সপ্তাহে অন্তত ২ থেকে ৩ বার লেবুর রস ও সরিষার তেলের মিশ্রণটি ব্যবহার করুন।

নিম পাতা
নিমপাতা কে খুশকির সমস্যায় প্রতিষেধক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। নিমপাতা খুশকি দূর করতে এবং চুলকে ঝলমলে করতে সহায়তা করে। নিম পাতার রসে আয়ুর্বেদিক গুণ রয়েছে যা মাথার ত্বকের চুলকানি কমাতে দারুন উপকারি। নিম পাতার পেস্ট তৈরি করে মাথার ত্বক এবং চুলে লাগান। ১০ থেকে ১৫ মিনিটের জন্য লাগিয়ে রেখে শুকানো পর্যন্ত অপেক্ষা করুন এবং সাধারণ পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

পেঁয়াজের রস
পেঁয়াজের রস খুশকি দূর করতে দ্রুত কাজ করে। পেঁয়াজের পেস্ট তৈরি করে পেঁয়াজের রস বের করে নিন। পেঁয়াজের রস চুলের গোড়ায় ভালো করে ঘষে ঘষে ম্যাসাজ করুন। ১০ মিনিট রেখে চুল ভালো করে শ্যাম্পু দিয়ে পরিষ্কার করে ফেলুন। সপ্তাহে অন্তত ২ থেকে ৩ বার পেঁয়াজের রস মাথার ত্বকে লাগান।  খুশকি দূর করার পাশাপাশি নতুন চুল গজাতে সাহায্য করে।

মেথি
খুশকি দূর করতে মেথি দারুণ উপকারী। দুই থেকে তিন চামচ পরিমাণ মেথি সারারাত ভিজিয়ে রেখে সকালে পেস্ট তৈরি করে নিন। এছাড়া মেথি ভেজানো পানি ফেলে দেবেন না। মেথির পেস্ট এবং মেথি ভেজানো পানি একসাথে মিশিয়ে মাথার ত্বকে লাগিয়ে ঘন্টাখানেক অপেক্ষা করুন। শুকিয়ে গেলে শ্যাম্পু দিয়ে ভালো করে ধুয়ে ফেলুন। খুশকি সমস্যা দূর করার পাশাপাশি মেথি চুলের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সাহায্য করে।

টক দই
খুশকির সমস্যা দূর করতে টক দই অনেক কার্যকর। খুশকি দূর করতে টক দই ভালো করে ফেটিয়ে মাথার ত্বকে ম্যাসাজ করুন। মিনিট পাঁচেক রেখে ভালো করে ধুয়ে ফেলুন। যদিও মাথার ত্বক নোংরা হতে পারে তবে, এটি খুশকি চিকিৎসার জন্য একটি দুর্দান্ত ঘরোয়া উপায়।

অলিভ অয়েল
অলিভ অয়েল মাথার ত্বক থেকে খুশকি দূর করতে এবং চুলের স্বাস্থ্য ঠিক রাখতে সহায়তা করে। প্রায় ১০ থেকে ১৫ ফোঁটা অলিভ অয়েল মাথার ত্বকে মেসেজ করুন এবং একটি শাওয়ার ক্যাপ দিয়ে সারারাত ঢেকে রাখুন। সকালে অ্যান্টি ড্যানড্রাফ শ্যাম্পু দিয়ে চুল পরিষ্কার করে ধুয়ে ফেলুন।

খুশকি দূর করার শ্যাম্পুর নাম

খুশকির সমস্যায় ভুক্তভোগী প্রায় আমরা সকলেই। তাই খুশকি হলেই আমরা খুজে থাকি খুশকি দূর করার শ্যাম্পু। খুশকি হওয়ার কারণ হিসেবে বর্তমানে আবহাওয়া পরিবর্তন এবং অতিরিক্ত পরিবেশের দূষণ বেড়ে যাওয়া ইত্যাদির প্রভাব। এর ফলে চুলের রোগের মধ্যে খুশকির সমস্যা এখন সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। খুশকির সমস্যার সমাধানের বিভিন্ন উপায় রয়েছে।
বিভিন্ন নিয়ম কানুন ঘরোয়া উপায় ও চিকিৎসা ব্যবস্থা। খুশকির সমস্যা সমাধানে ঘরোয়া উপায়গুলো দিয়ে চেষ্টা করতে পারেন। এতে যদি খুশকির সমস্যা দূর না হয় সে ক্ষেত্রে আপনি খুশকি দূর করার শ্যাম্পু ব্যবহার করতে পারেন। নিম্নে খুশকি দূর করার শ্যাম্পু গুলোর নাম বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হলো-
  • Dancel Shampoo
  • Select Plus Shampoo
  • Resolve Shampoo
  • Ketocon Shampoo
  • Alpecin Dandruff killer Shampoo
  • BEAUA Medicated Scalp Care Shampoo
  • Clear Shampoo Men Cool Sport Menthol Anti Dandruff
  • Studio X Anti Dandruff Shampoo for Men
  • Selsun Blue Moisturizing With Aloe Dandruff Shampoo

মাথার ত্বকের চুলকানি দূর করার উপায়

মাথার ত্বকের চুলকানি যন্ত্রণাদায়ক সমস্যা যা একাধারে মাথার ত্বকের এবং চুলের জন্য ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে। গরমের সময় শরীরে নানা স্থানের মতো মাথার ত্বকেও চুলকানির সমস্যা দেখা দেয়। বিভিন্ন কারণে মাথার ত্বকের চুলকানি সমস্যা হতে পারে। তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে মাথার ত্বকের ফাঙ্গাল ইনফেকশন। প্রাকৃতিক উপাদান ব্যবহার করে মাথার ত্বকের এই চুলকানি সমস্যা দূর করা সম্ভব। তাহলে জেনে নিন মাথার ত্বকের চুলকানি দূর করার উপায় সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য।

নারকেল বা অলিভ অয়েলঃ মাথার ত্বক যদি খুব শুষ্ক হয়ে যায় তাহলে চুলকানি সমস্যা দেখা দেয়। এতে সপ্তাহে অন্তত ২ থেকে ৩ বার নারকেল বা অলিভ অয়েল মাথার ত্বকে ম্যাসাজ করুন। মাথার ত্বকে তেল মেখে সারারাত বা ঘন্টাখানেক পর হালকা কোন ভেষজ শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

আপেল সিডার ভিনেগারঃ মাথার ত্বকের ফাঙ্গাল ইনফেকশন দূর করতে আপেল সিডার ভিনেগার খুবই কার্যকরী। আপেল সিডার ভিনেগার রয়েছে এন্টিফাঙ্গাল, অ্যাান্টি-ইনফ্লামেটারি ও আ্যান্টি ব্যাকটেরিয়াল গুণ সমৃদ্ধ উপাদান। মাথার ত্বকের শুষ্কতায় যদি আপনার মাথা চুলকানোর কারণ হয় তাহলে আপেল সিডার ভিনেগার এবং পানির মিশ্রণ দিয়ে নিয়মিত মাথা ধুলেই উপকার পাবেন। একই সঙ্গে পানি খাওয়ার পরিমাণ বাড়ানো উচিত। সপ্তাহে ৩ দিন শ্যাম্পু করার পর এক কাপ পরিমাণ পানিতে এক টেবিল চামচ আপেল সিডার ভিনেগার মিশিয়ে মাথার ত্বকে ভালো করে লাগান। এরপর ঠান্ডা পানি দিয়ে পরিষ্কার করে ধুয়ে ফেলুন।

নিমের প্যাকঃ খুশকি ও মাথার চুলকানি সমস্যা দূর করতে নিম খুবই কার্য করে। ১০ থেকে ১২  টি নিমপাতা পেস্ট তৈরি করে এর সঙ্গে দুই টেবিল চামচ পরিমাণ অলিভ অয়েল মিশিয়ে মাথার ত্বকে এবং চুলে লাগিয়ে রাখুন। ঘন্টাখানেক অপেক্ষা করে শ্যাম্পু করে ধুয়ে ফেলুন। গবেষণা অনুযায়ী মাথার ত্বকের বিভিন্ন সমস্যার সমাধানে নিম পাতা বেশ কার্যকর।

অ্যালোভেরা জেলঃ অ্যালোভেরা পাতার ভিতরে থকথকে জেলির মতো উপাদান থাকে যা মাথার ত্বক ও চুলের জন্য খুবই উপকারী। মাথার ত্বকের ফাঙ্গাল ও ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ দূর করতে এবং মাথা ঠান্ডা রাখতে সাহায্য করে। অ্যালোভেরা  জেল আঙ্গুল দিয়ে মাথায় ভাল করে ম্যাসাজ করে আধা ঘন্টা রাখুন। এরপর ঠান্ডা পানি দিয়ে মাথা ধুয়ে ফেলুন । সপ্তাহে অন্তত দুই থেকে তিনবার মাথায় অ্যালোভেরা জেল ব্যবহার করুন।

লেবুর রসঃ নিয়মিত মাথায় যে তেলটা ব্যবহার করেন তাতে লেবুর রস মিশিয়ে নিয়ে ব্যবহার করুন। চাইলে হেয়ার প্যাকের সাথে লেবুর রস মিশিয়ে নিতে পারেন। লেবুর রস ব্যবহার করার পর অবশ্যই শ্যাম্পু দিয়ে পরিষ্কার করে ধুয়ে নেবেন।

টি ট্রি অয়েলঃ টি ট্রি অয়েল মাথার তালুর ব্যাকটেরিয়া ও ফাংগাল সংক্রমণ দূর করতে সাহায্য করে। এছাড়াও খুশকি উকুন জনিত মাথায় চুলকানিতে টি ট্রি অয়েল খুবই কার্যকর। ১০ থেকে ১৫ ফোটা পরিমাণ মতো টি ট্র অয়েল এর সাথে অলিভ অয়েল বা নারিকেল তেল মিশিয়ে মাথার ত্বক ও চুলে ম্যাসাজ করে লাগান। ২০ থেকে ৩০ মিনিট পর শ্যাম্পু ব্যবহার করে মাথা পরিষ্কার করে ধুয়ে ফেলুন।

লেবু দিয়ে খুশকি দূর করার উপায়

প্রাকৃতিকভাবে মাথার ত্বক থেকে খুশকি দূর করতে লেবু ব্যবহার করুন। লেবুর রসে সাইট্রিক এসিড পাওয়া যায় যা ভিটামিন সি উৎস। এছাড়াও লেবু তে অ্যান্টিফাঙ্গাল আয়ুর্বেদিক গুণ রয়েছে। লেবু চুলের ফলিকল মজবুত রাখতে এবং মাথার ত্বকের অতিরিক্ত তেল কমাতে সাহায্য করে। এজন্য লেবু খুশকি দূর করতে একটি ঘরোয়া কার্যকরী প্রতিকার। তাহলে জেনে নিন লেবু দিয়ে খুশকি দূর করার উপায়।

টকদই ও লেবুর রস
খুশকি সমস্যা দূর করতে টক দই এর সাথে লেবু মিশিয়ে ব্যবহার করুন। টক দইয়ে মধ্যে ল্যাকটোব্যাসিলাস প্যারাকেসি নামক ব্যাকটেরিয়া পাওয়া যায়। এই ব্যাকটেরিয়া অ্যান্টি ড্যানড্রাফ হিসেবে মাথার ত্বকের খুশকি দূর করতে উপকার। ৪ টেবিল চামচ টক দইয়ে ২ চামচ পরিমাণ লেবুর রস মিশিয়ে নিন। আপনি চাইলে এতে লেবুর রস ব্যবহার করতে পারবেন। এই মিশ্রণটি মাথায় লাগিয়ে ২০ থেকে ৩০ মিনিট অপেক্ষা করুন। তারপর মাইল্ড শ্যাম্পু দিয়ে পরিষ্কার করে চুল ধুয়ে ফেলুন।

আমলকি ও লেবুর রস
খুশকি দূর করতে আমলকি ও লেবুর রস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। আমলকির পেস্ট এর সাথে দু চামচ পরিমাণ লেবুর রস মিশিয়ে চুলের গোড়ায় আধা ঘন্টা লাগিয়ে রাখুন। আধাঘন্টা পর শ্যাম্পু দিয়ে চুল পরিষ্কার করে ধুয়ে ফেলুন। আমলকি ও লেবুর রস খুশকি দূর করার পাশাপাশি মাথার চুলকানি ও বিভিন্ন ধরনের ফাংগাল ইনফেকশন দূর করতে সাহায্য করে।

অ্যালোভেরা ও লেবুর রস
চুলের খুশকি দূর করার পাশাপাশি চুলের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে অনেকে এলোভেরা ও লেবুর রস ব্যবহার করেন। চুলের পরিমাণ অনুযায়ী এলোভেরা জেল এর সঙ্গে দু চামচ লেবুর রস মিশিয়ে মাথার ত্বকে লাগালে চুলকানি থেকে আরাম পাওয়া যায়। কিছুক্ষণ মেসেজ করে ঘন্টাখানেক এভাবে রেখে দিতে। এরপর শ্যাম্পু দিয়ে পরিষ্কার করে চুল ধুয়ে ফেলুন।

মধু ও লেবুর রস
খুশকি সমস্যা প্রতিরোধে মধু ও লেবুর রস বেশ কার্যকরী। ৪ টেবিল চামচ পরিমাণ মধু ও ৩ চামচ পরিমাণ লেবুর রসের সঙ্গে সামান্য পানি মিশিয়ে মিশ্রণ তৈরি করে নিন। মাথার ত্বকে ১০ থেকে ১৫ মিনিট লাগিয়ে রাখুন। এরপর শ্যাম্পু দিয়ে চুল ভালো করে পরিষ্কার করে ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে অন্তত দুই থেকে তিন দিন ব্যবহারে ভালো ফলাফল পাবেন।

সর্বশেষ কথা

আশা করছি আমার লেখা খুশকি থেকে মুক্তি পাওয়ার সহজ ঘরোয়া উপায় আর্টিকেলটি পড়ে আপনি বুঝতে পেরেছেন যে কিভাবে আপনার খুশকি দূর করার কোন পদ্ধতি অবলম্বন করবেন। এছাড়াও কোন শ্যাম্পু ব্যবহার করলে চিরতরে খুশকি দূর হবে তাও তুলে ধরেছি। যদি আমার আর্টিকেলটি সম্পূর্ণ পড়ে থাকেন তাহলে আপনি আপনার সমস্যার সমাধান করতে পারবেন। আশা করছি আর্টিকেলটি পড়ে আপনি উপকৃত হবেন। আপনাদের মাঝে প্রয়োজনীয় তথ্য পৌঁছে দেওয়া একমাত্র উদ্দেশ্য। এরকম আরো তথ্য পেতে নিয়মিত আমার লেখা আর্টিকেলগুলো পড়ুন। সম্পূর্ণ আর্টিকেলটা পড়ার জন্য ধন্যবাদ।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url