কফি দিয়ে ত্বক ফর্সা করার সেরা ঘরোয়া উপায় জেনে নিন

 

প্রিয় পাঠক, ত্বকের উজ্জ্বলতা কি দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে। ব্যস্তময় জীবনে সময় ব্যয় করে ত্বকের যত্ন নেওয়া হয় না। তবে আপনি চাইলে খুব অল্প সময়ে কফি দিয়ে ত্বক ফর্সা করার সেরা ঘরোয়া উপায় মাধ্যমে ত্বকের উজ্জ্বলতা ফিরিয়ে আনতে পারবেন। এর পাশাপাশি কফি দিয়ে হাত পা ফর্সা করার উপায় জানতে পারবেন। কফি দিয়ে ত্বক ফর্সা করার সেরা ঘরোয়া উপায় জানতে সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন।
কফি দিয়ে ত্বক ফর্সা করার সেরা ঘরোয়া উপায়
আশা করছি, সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ে আপনি জানতে পারবেন কফি দিয়ে কম সময়ে আপনার ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়াতে পারবেন। তাই দেরি না করে সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন এবং কফি দিয়ে ত্বক ফর্সা করার সেরা ঘরোয়া উপায় জেনে নিন বিস্তারিত।

ভূমিকা

ত্বকের যত্নে কফির কোনও তুলনায়ই হয় না। কফি আমাদের অনেকেরই নিত্য দিনের সঙ্গী। কফি যেমন আমাদের মনকে চাঙ্গা করে তেমনি ত্বকের যত্নে দারুন উপকারি। ত্বকের মৃতকোষ এবং রোদে পোড়া ভাব দূর করে ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়াতে সাহায্য করে কফি। কফি দিয়ে ত্বক ফর্সা করার সেরা ঘরোয়া উপায় সহ বিভিন্ন রূপচর্চার কাজে কফি ব্যবহার করা হয়। কফি ব্যবহার খুব অল্প সময়ে কফি ব্যবহার করার কারণে ত্বক উজ্জ্বল ও দাগ হীন হবে। কফি প্রাকৃতিক উপাদান দিয়ে তৈরি যার কারণে ত্বকের কোন ক্ষতি হওয়ার ভয় নেই। ঘরে থাকা কফি দিয়ে আপনার ত্বক উজ্জ্বল করতে পারেন।

ব্রণের দাগ দূর করতে কফির ব্যবহার

মুখে ব্রণ মানে সৌন্দর্যের হানি। ব্রণ সেরে গেলেও দাগ থেকে যায়। ব্রণ আমাদের ত্বকের জন্য অনেক বড় একটি সমস্যা। ব্রণের কালো দাগ দূর করার জন্য নানা উপায় বেছে নেই আমরা কিন্তু কোন উপায়ে কার্যকর হয় না। বিভিন্ন ধরনের প্রোডাক্ট ,ফেসওয়াশ ইত্যাদি ব্যবহার করেও যখন কোন সমাধান হয় না তখন চিন্তায় পড়ে যান কি করে ব্রণের দাগ দূর করতে পারবেন। ব্রণের দাগ দূর করতে কফি অনেক উপকারী।
কফিতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও ভিটামিন ব্রণ ও মেছতার দাগ দূর করতে সাহায্য করে। এছাড়া ত্বকের মরা চামড়া,রোদে পোড়া দাগ, বলি রেখা এবং ডার্ক সার্কেল দূর করতে সাহায্য করে কফি। ঘরে বসে কফি দিয়ে আপনার ত্বকের কালো দাগ দূর করতে পারবেন। কফি দিয়ে ত্বক ফর্সা করার সেরা ঘরোয়া উপায় বিস্তারিত জেনে নিন।

কফি ও মধু 
কফি পাউডার আমাদের মুখে মরা চামড়া দূর করে ও ব্রণের দাগ দূর করতে সাহায্য করে। মধু ব্রণের ব্যাকটেরিয়ার ধ্বংস করে। কারণ মধুতে ন্যাচারাল ব্লিটিং রয়েছে যা ব্রণের দাগ দূর করে। একটি বাটিতে ২ টেবিল চামচ কফি পাউডার এবং ১ টেবিল চামচ পরিমাণ মধু একসাথে মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করুন। পরিষ্কার মুখে লাগিয়ে নিয়ে ১০ থেকে ১৫ মিনিট পর হালকা স্ক্রাবিং করে ঠান্ডা পানি দিয়ে পরিষ্কার করে ধুয়ে ফেলুন।

কফি ও লেবু
ত্বকে উজ্জ্বল এবং ত্বকের শুষ্কতা দূর করতে লেবু অনেক উপকারী। লেবুর রসে ত্বক লাইটিং এজেন্ট রয়েছে যা ব্রণের দাগ দূর করে। ত্বক উজ্জ্বল ও টানটান করে কফি ও লেবুর ফেসপ্যাক। ১ থেকে ২ চামচ কফি পাউডার সঙ্গে পরিমাণ মতো লেবুর রস মিশিয়ে মিশ্রণ তৈরি করে নিন। এই পেস্ট মুখে লাগিয়ে শুকিয়ে যাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করুন। শুকিয়ে গেলে ঠান্ডা পানি দিয়ে পরিষ্কার করে ত্বক ধুয়ে ফেলুন। সপ্তায় ৩ থেকে ৪ দিন ব্যবহার করুন কফি ও লেবুর ফেসপ্যাক।

কফি ও দুধ
দুধ ত্বক ফর্সা করতে অনেক কাযকরী। দুধে রয়েছে ন্যাচারাল এন্টিঅক্সিডেন্ট যা ত্বকে ব্যবহারে ক্ষতি হওয়ার ভয় নেই। একটি বাটিতে ২থেকে ৩ চামচ কফি পাউডারের সঙ্গে পরিমাণ মতো দুধ মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করে নিন। আপনি চাইলে কফি ও দুধের সঙ্গে বেসন দিতে পারেন। ভালো করে মিশন তৈরি করে ফেস প্যাকটি ত্বকে লাগিয়ে রাখুন এবং শুকিয়ে যাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করুন। শুকিয়ে গেলে ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। নিয়মিত ব্যবহারের ফলে ত্বক হবে ফর্সা এবং দাগ হীন।

চন্দন ও গোলাপজল
চন্দনে রয়েছে এন্টি মাইক্রো ভাল উপাদান যা ব্রণের দাগ দূর করতে সাহায্য করে। চন্দন ত্বককে উজ্জ্বল করে। গোলাপজল আমাদের ত্বকের পিএইচ লেভেল নিয়ন্ত্রণ করে। ১ থেকে ২চামচ পরিমাণ চন্দন পাউডার এবং সমপরিমাণ গোলাপজল মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করুন। আপনি চাইলে গ্লিসারিন যোগ করতে পারেন। চন্দন ও গোলাপজলে পেস্ট মুখে লাগিয়ে ১৫ মিনিট রাখুন শুকিয়ে গেলে পরিষ্কার পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে৩থেকে ৪ দিন ব্যবহার করলে উজ্জ্বলতা লক্ষ্য করতে পারবেন।

কফি দিয়ে ত্বক ফর্সা করার সেরা ঘরোয়া উপায়

ত্বক ফর্সা করার জন্য আমরা কত কিছুই না করে থাকি। বিভিন্ন রকমের প্রোডাক্ট,ফেসওয়াস,ক্রিম ইত্যাদি ব্যবহার করেও কাজ হয় না। বিভিন্ন ঘরোয়া প্যাক ব্যবহারের পাশাপাশি বাজারে দামি দামি ক্রিম ব্যবহার করে থাকি। খুব কম সময় দ্রুত ফর্সা হতে চান তাহলে কফি দিয়ে ফেসপ্যাক তৈরি করে ব্যবহার করলে সহজে ফর্সা হতে পারবেন। তাহলে দেরি না করে জেনে নিন কফি দিয়ে ত্বক ফর্সা করার সেরা ঘরোয়া উপায়ের ফেসপ্যাক-

কফি ও চালের গুড়া
একটি বাটিতে দুই টেবিল চামচ কফি পাউডার ও এক চামচ পরিমাণ চালের গুড়া মিশিয়ে ঘন পেস্ট তৈরি করে নিন। আপনি চাইলে মধু যোগ করতে পারেন এতে কোন সমস্যা নেই। মুখে লাগিয়ে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে শুকিয়ে নিন। পরিষ্কার ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এই ফেসপ্যাকটি ত্বক ফর্সা করতে অত্যন্ত কার্যকরী।

কফি ও দুধ
কফি ও দুধের ফেসপ্যাক শুধু ত্বক ফর্সা করতেই নয় ব্রনের দাগ কমাতে অনেক উপকারী। দুই টেবিল চামচ কফি পাউডারের সঙ্গে এক থেকে দেড় চামচ পরিমাণ লিকুইড দুধ মিশিয়ে মিশ্রণ তৈরি করে পুরো মুখমন্ডলে ১৫ মিনিট লাগিয়ে রাখুন। এরপর শুকিয়ে গেলে ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে । সপ্তাহে তিন থেকে চারবার এই ফেসটা একটি ব্যবহার করলে আপনার ত্বক অনেক ফর্সা ও উজ্জ্বলতা বাড়াতে সাহায্য করবে।

টকদই ও কফি
রোধের কালো পোড়া দাগ দূর করতে টক দই অনেক উপকারী।২ টেবিল চামচ টক দইয়ের সঙ্গে এক টেবিল চামচ পরিমাণ কফি পাউডার মিশিয়ে ঘন পেস্ট তৈরি করে নিন। এতে সামান্য পরিমাণ হলুদ গুঁড়া যোগ করতে পারেন। টক দই ও কফির পেস্ট মুখমণ্ডল ও গলায় ১৫ মিনিট লাগিয়ে রাখুন। সপ্তাহ অন্তত দুই থেকে তিনবার ব্যবহার করলে ভালো ফলাফল পাবেন।

কফি ও অ্যালোভেরা জেল
যারা খুব কম সময়ে দ্রুত ফর্সা হতে চান তারা এই ফেসপ্যাক টি ব্যবহার করুন। ত্বক ফর্সা করার পাশাপাশি ত্বকের বিভিন্ন সমস্যা দূর করে। ২ টেবিল চামচ কফি পাউডারের সঙ্গে এক টেবিল চামচ এলোভেরা জেল মিশিয়ে মিশ্রণ তৈরি করে নিন। চেষ্টা করবেন অ্যালোভেরা গাছ থেকে জেল ব্যবহার করার। বাজারের কেনা অ্যালোভেরা জেল থেকে এলোভেরা গাছের জেল অনেক উপকারী।
কফি ও অ্যালোভেরা জেল এর সঙ্গে চন্দন পাউডার ব্যবহার করতে পারেন। কফি ও অ্যালোভেরা জেল মিশ্রণটি সারা মুখে লাগিয়ে রাখুন। শুকিয়ে গেলে পাঁচ থেকে সাত মিনিট হালকা মেসেজ করুন। সর্বোত্তম উপকার পেতে এই প্যাকটি সপ্তাহে অন্তত দুই থেকে তিনবার ব্যবহার করুন।

পাকা টমেটো, লেবু ও কফি
পাকা টমেটো আমাদের ত্বকের মৃত কোষ সতেজ করতে সাহায্য করে। এছাড়াও পাকা টমেটো তে স্কিন লাইটিং এজেন্ট রয়েছে যা ত্বককে উজ্জ্বল ও ফর্সা করতে সাহায্য করে। পাকা টমেটোর পেস্ট এর সাথে দুই টেবিল চামচ কফি ও লেবুর রস মিশিয়ে ঘন মিশ্রণ তৈরি করে নিন। সম্পূর্ণ মুখে লাগিয়ে শুকিয়ে গেলে গ্লিসারিন দিয়ে হালকা মেসেজ করুন। স্থায়ীভাবে ত্বক উজ্জ্বল ও ফর্সা করার জন্য সপ্তাহে অন্তত দুই থেকে তিনবার কফির ফেসপ্যাক ব্যবহার করার চেষ্টা করুন।

কফি দিয়ে হাত পা ফর্সা করার উপায়

অনেকেরই মুখের তুলনায় হাত-পা কম ফর্সা হয়ে থাকে। যা দেখতে একদম বেমানান লাগে। মুখের যত্নে আমরা যতটা যত্নশীল হই হাত পা ক্ষেত্রে ততটা নয়। যার ফলে আমাদের মুখের তুলনায় হাত-পা কালচে হয়ে থাকে। তবে আপনি ঘরে থাকা কফি পাউডার দিয়ে আপনার হাত পা ফর্সা করতে পারবেন। তাহলে জেনে নিন কি পদ্ধতিতে কফি দিয়ে হাত পা ফর্সা করার উপায়।

অলিভ অয়েল ও কফির স্ক্রাব
কফি ত্বকের জন্য বেশ উপকারী। এটি ত্বককে উজ্জ্বল ও মসৃণ করে তুলতে সাহায্য করে। কফির স্ক্রাব তৈরি করার জন্য এক কাপ কফি পাউডারের সঙ্গে ২ থেকে ৩ চামচ পরিমাণ অলিভ অয়েল ভালোভাবে মিশিয়ে নিন। এরপর হাতে ও পায়ে ২০ থেকে ২৫ মিনিট ভালোভাবে স্ক্রাব করুন। হাত পায়ের পাশাপাশি আপনি চাইলে মুখ ও ঘারেও এই স্ক্রাবটি ব্যবহার করতে পারবেন। এটি হাত পা ফর্সা করার পাশাপাশি কালচে দাগ দূর করতেও সাহায্য করে।
চিনি ও কফির স্ক্রাব
হাত ও পায়ের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করতে চিনি অনেক উপকারী। দুই থেকে তিন টেবিল চামচ পরিমাণ কফি সঙ্গে এক টেবিল চামচ পরিমাণ চিনি ভালো করে মিশিয়ে একটি স্ক্রাব তৈরি করে নিন। এর সাথে চাইলে আপনি লেবুর রস যোগ করতে পারেন। ১০ থেকে ১৫ মিনিট হালকা করে হাত ও পায়ে মেসেজ করুন। সপ্তাহে অন্তত দুই থেকে তিন বারে স্ক্রাব টি করলে আপনার হাত ও পা ফর্সা হবে।

লেবু ও কফি স্ক্রাব
লেবু আমাদের ত্বক উজ্জ্বল করতে বেশ উপকারী। ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ানোর পাশাপাশি হাত ও পা ফর্সা করতে ব্যবহার করুন লেবু ও কফির স্ক্রাব। দুই থেকে তিন টেবিল চামচ কফি পাউডারের সঙ্গে পরিমাণ মতো লেবুর রস মিশিয়ে হাত ও পা স্ক্রাবিং করুন। এরপর পরিষ্কার ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে অন্তত এই স্ক্রাব টি দুই দিন ব্যবহার করুন পরিবর্তনটা নিজেই দেখতে পারবেন।

কফি দিয়ে চোখের কালো দাগ দূর করার উপায়

কফি আমাদের শরীরকে চাঙ্গা করার পাশাপাশি ত্বকের জন্য অনেক উপকারী। কফিতে ক্যাফেইন নামক উপাদান রয়েছে যা ত্বকের জন্য বেশ কার্যকরী। কফি চোখের নিচে কালো দাগ দূর করতে সাহায্য করে। কফির মাধ্যমে আপনি আপনার চোখের কালো দাগ খুব অল্প সময়েই দূর করতে পারবেন। দুই টেবিল চামচ কফি পাউডারের সঙ্গে পরিমাণ মতো পানি মিশিয়ে ঘন একটি পেস্ট তৈরি করে নিন।
মিশ্রনটি চোখের চারপাশে ভালোভাবে লাগিয়ে ১৫ মিনিট অপেক্ষা করুন। শুকিয়ে গেলে হালকা ভাবে স্ক্রাব করে ধুয়ে ফেলুন। এরপর ময়েশ্চারাইজ ক্রিম ব্যবহার করুন। এভাবে নিয়মিত ঘুমানোর আগে অথবা দিনে ব্যবহারের ফলে আপনার চোখের নিচের কালো দাগ ও ফোলা ভাব দূর হয়ে যাবে।

তৈলাক্ত ত্বকের যত্নে কফির ৩ টি ফেসপ্যাক

তৈলাক্ত ত্বকে ব্রণের সমস্যা বেশি দেখা দেয়। তৈলাক্ত ত্বক নিয়ে বিব্রতকর অবস্থায় পড়তে হয়। তৈলাক্ত ত্বকের যত্ন নেওয়া বেশ সহজ কাজ নয়। তৈলাক্ত ত্বকের জন্য প্রসাধনী বাছাই করাটাও অনেক কষ্টকর। তবে ঘরোয়া কিছু উপাদান দিয়ে ফেসপ্যাক ব্যবহার করে ত্বকের তেলতেলে ভাব কমানো যায়। তাহলে জেনে নিন কফি দিয়ে ত্বক ফর্সা করার সেরা ঘরোয়া উপায়ে ত্বকের তৈলাক্ত ভাব দূর করতে পারবেন।

কফি, বেসন ও টক দই এর ফেসপ্যাক
একটি পরিষ্কার পাত্রের ১ টেবিল চামচ কফি পাউডার এর সঙ্গে সমপরিমাণ বেসন ও টকদই ভালো করে মিশিয়ে নিন। ব্রাস বা হাতের সাহায্যে ফেসপ্যাকটি সম্পূর্ণ মুখমন্ডলে লাগান। ১০ থেকে ১৫ মিনিট পর্যন্ত অপেক্ষা করুন। শুকিয়ে গেলে হালকা কুসুম গরম পানি দিয়ে পরিষ্কার করে ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে তিন থেকে চারদিন ব্যবহার করলে তাকে তৈলাক্ত ভাব কমে যাবে। এই ফেসপ্যাক টি ত্বকের অতিরিক্ত তেল শোষণ করে ত্বককে উজ্জ্বল করতে সাহায্য করে।

চালের গুড়া, দুধ ও কফির ফেসপ্যাক
এই ফেসপ্যাকটি আপনার ত্বকের তৈলাক্ত ভাব দূর করার পাশাপাশি ব্রণ, ব্রনের দাগ, রোদে পোড়া কালো দাগ দূর করতে সাহায্য করে। একটা পরিষ্কার বাটিতে দুই টেবিল চামচ চালের গুড়া এক চামচ কফি পাউডার ও চার চামচ লিকুইড দুধ মিশিয়ে খুব ভালো করে মিশ্রণটি তৈরি করে নিন। সম্পূর্ণ মুখমণ্ডলে ফেসপ্যাকটি লাগিয়ে ১৫ থেকে ২০ মিনিট অপেক্ষা করুন।

হালকা মেসেজ করে ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। চাউলের গুড়া দানা দানা হয়ে থাকে এর ফলে ব্ল্যাকহেডস ও হোয়াইটহেডস দূর করে। এই প্যাকটি ব্যবহারের ফলে ত্বকে তৈলাক্ত ভাব কমানোর পাশাপাশি ব্ল্যাকহেডস ও হোয়াইটহেডের দূর করতে সাহায্য করে।

লেবু মধু ও কফির ফেসপ্যাক
অতিরিক্ত তেল শোষণ করে তৈলাক্ত ভাব দূর করে ত্বককে কোমল ও উজ্জ্বল করতে এই প্যাকটি দারুন উপকারী। লেবু ও মধুতে ন্যাচারাল অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে যা ত্বকের জীবাণু ধ্বংস করতে সাহায্য করে। একটি পরিষ্কার পাত্রে লেবু মধু ও কফি পাউডার খুব ভালো করে মিশিয়ে একটি মিশ্রণ তৈরি করে নিন। মিশ্রণটি সারা মুখে লাগিয়ে রাখুন। আপনি চাইলে গলাতেও লাগাতে পারবেন। তবে খেয়াল রাখবেন চোখ কিংবা ঠোঁটে যেন না লাগে। ফেসপ্যাকটি মুখে লাগিয়ে ১০ থেকে ১৫ মিনিট অপেক্ষা করে শুকিয়ে নিন। এরপর পরিষ্কার পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। নিয়মিত ব্যবহারের ফলে আপনার ত্বক কোমল ও উজ্জ্বল হবে।

কফি খেলে কি ত্বকে ক্ষতি হয়

দীর্ঘ সময় কাজ করার কারণে একঘেয়েমি কাটাতে কফির বিকল্প নেই। তবে অতিরিক্ত পরিমাণ কফি বা ক্যাফিন জাতীয় পানীয় খেলে শরীরে ডিহাইড্রেশন সমস্যা দেখা দিতে পারে। এর ফলে ত্বকে সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে। অতিরিক্ত পরিমাণে কপি পান করার কারণে ত্বকে তৈলাক্ত হয়ে যায় এবং মুখে ব্রণের সমস্যা বেড়ে যায়।
কফি খেলে ত্বকের আর কি কি ক্ষতি হয়?
  • কফিতে থাকা এসিডের প্রভাব হরমোনের ভারসাম্য হারিয়ে ফেলে।
  • দুধ বা চিনি দেওয়া ফিল্টার কফি অতিরিক্ত পান করার ফলে ত্বকে ব্রণের সমস্যা সৃষ্টি হয়।
  • তৈলাক্ত ত্বকের নাক ও মুখের বিভিন্ন অংশ শুষ্ক হয়ে যেতে পারে
  • ঘুমের যে স্বাভাবিক চক্র আছে তাতে ক্ষতিকর প্রভাব পড়ে। যার কারণে ঘুম কম হয় ও ত্বকের উজ্জ্বলতা হারিয়ে ফেলে
বিশেষজ্ঞদের মতে, কফি বা ক্যাফেইন জাতীয় পানীয় কোন রকম ক্ষতিকর প্রভাব এড়াতে ৪০ মিলিগ্রামের বেশি খাওয়া উচিত নয়। প্রতিদিনে দুই থেকে তিন কাপ কফি খাওয়া উত্তম। শরীর ও ত্বক সুস্থ রাখতে পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি পান করুন এবং ত্বকের ধরন অনুযায়ী যত্ন নিন।

কফি দিয়ে চুলের কালার করার পদ্ধতি

চুলকে সুন্দর করার জন্য আমরা অনেকেই কালার করতে পছন্দ করি। বিভিন্ন ধরনের কেমিক্যালযুক্ত কালার ব্যবহার করার কারণে চুলে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা সৃষ্টি হয়। যা চুলকে নষ্ট করে দেয়। বাড়িতে থাকা কফি ব্যবহার করে খুব সহজে আপনি চুলকে কালার করতে পারবেন। একটা পাত্রে হাফ লিটার পানির মধ্যে চার থেকে পাঁচ চামচ পরিমাণ কফি ও চা মিশিয়ে ফোটাতে হবে।

পাঁচ মিনিট ফুটিয়ে পানিটিকে ঘন করে নিতে হবে। এরপর ঠান্ডা করে নিয়ে মিশ্রণটি চুলে দিয়ে শুকিয়ে যাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করুন ও শ্যাম্পু দিয়ে ভালো করে ধুয়ে ফেলুন। এই মিশ্রণটি দেওয়ার ফলে চুল হালকা বাদামি কালার হবে যার রং অনেকদিন পর্যন্ত থাকবে।

শেষ কথা

কফি আমাদের ত্বকের জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ তা আজকের আর্টিকেলে আলোচনা করেছি। কফি ত্বক ফর্সা করার পাশাপাশি হাত-পা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানের কালো দাগ দূর করতে সহায়তা করে। আমাদের প্রত্যেকেরই ত্বকের যত্ন নেওয়া উচিত। আশা করছি, আজকের এই আর্টিকেলটি পড়ে আপনারা কফি দিয়ে ত্বক ফর্সা করার সেরা ঘরোয়া উপায় সম্পর্কে জানতে পেরেছেন।

আজকের এই আর্টিকেলে চেষ্টা করেছি কফি দিয়ে ঘরোয়া উপায়ে কিভাবে ত্বক ফর্সা করতে পারবেন। আশা করছি, আমাদের এই আর্টিকেলটি পড়ে আপনি এমন কিছু তথ্য পাবেন যার দ্বারা উপকৃত হবেন। এরকম আরো রূপচর্চা মূলক টিপস পেতে নিয়মিত আমাদের আর্টিকেলটি পড়ুন ।সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ার জন্য ধন্যবাদ।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url