১৫ টি খেজুরের উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য

প্রিয় বন্ধুরা আমরা অনেকেই কমবেশি বিভিন্ন উপায়ে খেজুর খেয়ে থাকি। কিন্তু খেজুরের উপকারিতা ও অপকারিতা, কাঁচা খেজুর খাওয়ার উপকারিতা অথবা খালি পেটে খেজুর খাওয়ার উপকারিতা সম্পর্কে অনেকেই জানেনা। তাই আজকের এই পোস্টটি তে খেজুরের উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করবো। তাই দেরি না করে সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি মনোযোগ সহকারে পড়তে থাকুন।
১৫ টি খেজুরের উপকারিতা ও অপকারিতা
আশা করছি খেজুরের উপকারিতা ও অপকারিতা এই আর্টিকেল থেকে আপনার প্রয়োজনীয় তথ্য খুঁজে পেয়েছেন এবং উপকৃত হবেন। পুরো আর্টিকেলটিতে খেজুর সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। চলুন তাহলে জেনে নেওয়া যাক খেজুরের উপকারিতা ও অপকারিতা।

ভূমিকা

খেজুর খেতে পছন্দ করে না এমন মানুষ হয়তো খুব কমই আছে। বাচ্চা থেকে বড় সকলের কাছে প্রিয় ফল খেজুর। খেজুর মিষ্টি স্বাদ যুক্ত সুস্বাদু একটি ফল। খেজুরের পুষ্টিগুণের কথা বলে শেষ করা যায় না। আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) প্রিয় খাদ্য ছিল খেজুর। খেজুরে মহা ঔষধি গুণ রয়েছে যা আমাদের শরীরে বিভিন্ন ধরনের রোগ প্রতিরোধে সাহায্য করে। খেজুরে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম, আয়রন, পটাশিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, ইত্যাদি পুষ্টিগুণ রয়েছে।


খেজুর একজন সুস্থ মানুষের দেহের আয়রনের চাহিদা প্রায় ১১ ভাগ পূরণ করে থাকে। তাই আমাদের নিয়মিত খেজুর খাওয়া প্রয়োজন। খেজুরের উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে জানে না অনেকেই। আজকের এই আর্টিকেলে খেজুরের উপকারিতা ও অপকারিতা এবং খালি পেটে খেজুর খাওয়ার উপকারিতা সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেছি। তাই জানতে হলে সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়তে থাকুন।

কাঁচা খেজুর খাওয়ার উপকারিতা

কাঁচা খেজুর শরীরের জন্য বেশ উপকারী একটি ফল। পাকা খেজুরের চাইতে কাঁচা খেজুরে অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। পাকা খেজুরের মতো কাচা খেজুর ও পুষ্টি গুণে ভরপুর। কাঁচা খেজুর রয়েছে ক্যালসিয়াম,- ম্যাগনেসিয়াম, আয়রন, ফাইবার, ও ভিটামিন বি৬ ইত্যাদি পুষ্টিকর উপাদান। কাঁচা খেজুর খাওয়ার উপকারিতা কি এই ধরনের প্রশ্ন যদি আপনি জানতে চান তাহলে আর্টিকেলে এই অংশটি আপনার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। চলুন তাহলে জেনে নেয়া যাক কাঁচা খেজুর খাওয়ার উপকারিতা সম্পর্কে।
  • কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে।
  • অতিরিক্ত ওজন কমাতে সহায়তা করে।
  • বদহজম সমস্যা দূর করে।
  • পেট ফাঁপা বা পেট ফোলা দূর করে।
  • রক্তের হিমোগ্লোবিন মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে।
  • শরীরের রক্তশূন্যতা চাহিদা পূরণ করে।
  • হার শক্ত ও মজবুত করে।
  • স্ট্রোক বা হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কমায়।
  • দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করে।
  • দৃষ্টিশক্তি বৃদ্ধি করে।
  • পেটে অ্যাসিডিটি সমস্যা প্রতিরোধ করে।
  • যৌন শক্তি বৃদ্ধি করে ইত্যাদি।
উপরে আলোচিত তথ্য থেকে জানতে পেরেছে কাঁচা খেজুর খাওয়ার উপকারিতা সম্পর্কে বিস্তারিত ভাবে। উপরোক্ত সমস্যাগুলো প্রতিরোধ করতে চাইলে অবশ্যই কাঁচা খেজুর খাওয়ার অভ্যাস করুন। নিয়মিত খেজুর খাওয়া শরীরের জন্য খুবই উপকারি।

খেজুর খাওয়ার সঠিক সময়

খেজুর মিষ্টি স্বাদযুক্ত ফল। খেজুর খাওয়ার জন্য কোন নির্দিষ্ট নিয়ম নেই আপনি যখন ইচ্ছে খেজুর খেতে পারেন। তবে কোন সময় খেজুর খেলে আমাদের শরীরের জন্য উপকারী সে সম্পর্কে আপনাকে জানতে হবে। চলুন তাহলে জেনে নেওয়া যাক খেজুর খাওয়ার সঠিক সময় গুলো সম্পর্কে।
  • অতিরিক্ত কাজের চাপে শরীরে দুর্বলতা অনুভব করলে একটি বা দুটি খেজুর খেয়ে নিন। এতে করে শরীরে নতুন করে এনার্জি ফিরে আসবে।
  • সকালে আপনার খাদ্য তালিকায় নিয়মিত খেজুর রাখুন। যা আপনার সারাদিনের এনার্জি যোগানোর একটি চমৎকার উপায়। খেজুরে রয়েছে উচ্চ ফাইবার যা সারা সকালে ক্ষুধার্ত অনুভূতি হতে দেবে না এবং আপনাকে সারাদিনের ক্লান্তি দূর করে একটিভ রাখতে সাহায্য করবে।
  • খেজুর ফাইবারের একটি উত্তম উৎস এবং প্রাকৃতিকভাবে শর্করা থাকে। এই ফাইবার এবং শর্করার উভয়েই রক্তে শর্করা আস্তে আস্তে বৃদ্ধি করে দেয় যা আপনাকে শক্তিশালী করতে সহযোগিতা করে। তাই সকাল অথবা বিকেলের নাস্তায় খেজুর খাবেন।
  • কুসুম গরম দুধের সঙ্গে খেজুর মিশিয়ে খাবেন। এ উপায়ে টানা ১৫ দিন খেলে শরীরে রক্তস্বল্পতা, ঘুমের সমস্যা ইত্যাদি দূর হয়ে যাবে। খেজুর মেশানো এই দুধ আপনি চাইলে রাতেও খেতে পারেন এতে করে ভালো ফলাফল পাওয়া যাবে।
  • যাদের ওজন কম তারা ওজন বৃদ্ধি করতে চাইলে প্রতিদিন ৫-৬ টি খেজুর খাবেন। খেজুরের থাকা শর্করা প্রোটিন ভিটামিন প্রাকৃতিকভাবে ওজন বাড়াতে সাহায্য করে। তাই খেজুর আর শসা একসাথে খেলে আরও বেশি ভালো উপকার পাবেন।
  • রাতে ঘুমানোর আগে খেজুর খেলে গভীর ঘুম হতে সাহায্য করে। এছাড়াও এতে থাকা ফাইবার হজম হতে সময় লাগে যে আপনাকে মধ্যরাতে ক্ষুধা নিবারণ করতে সহযোগিতা করে। তাই রাতে খাবার খাওয়ার পর কয়েকটি খেজুর খাওয়া খুবই ভালো।
  • হঠাৎ করেই ব্লাড সুগার লো হয়ে গেলে চিনির পরিবর্তে খেজুর খেতে পারেন। খেজুরে থাকা পুষ্টিকর উপাদান ব্লাড সুগার কমাতে সাহায্য করে। নিয়মিত চিনি খেলে ব্লাড সুগার বাড়ার ঝুঁকি থাকবে কিন্তু নিয়মিত খেজুর খেলে সেই ঝুঁকিটা আর থাকবে না। তাই প্রতিদিন এক থেকে দুটি খেজুর খেতে পারেন।
  • শুকনা খেজুর খাওয়ার পরিবর্তে ভিজিয়ে খাওয়া উচিত। রাতে ঘুমানোর আগে একটি গ্লাসে কয়েকটি খেজুর ভিজিয়ে রাখুন। সকালে সেই পানিসহ খেজুর খেয়ে ফেলুন। এর ফলে কোষ্ঠকাঠিন্য সমস্যা দূর করতে সাহায্য করবে।

দিনে কয়টি খেজুর খাওয়া উচিত

আমরা অনেকেই খেজুর খেয়ে থাকি। কিন্তু দিনে কয়টি করে খেজুর খাওয়া আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য উপকার সে সম্পর্কে জানি না। আমরা সাধারণত রমজান মাসেই খেজুর বেশি খাওয়া হয়ে থাকে। রমজান মাসে কম বেশি সকলেই খেজুর খায়। খেজুর খুবই পুষ্টিগুণ সম্পূর্ণ ফল। খেজুর মিষ্টি স্বাদ যুক্ত হলেও এটি খাওয়ার ফলে আমাদের শরীরে বা ওজন কমাতে সাহায্য করে।
খেজুর আমাদের শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ বের করে শরীরকে সুস্থ রাখে। তবে অতিরিক্ত খেজুর খাওয়া থেকে বিরত থাকবেন। কারণ খেজুর প্রাকৃতিকভাবেই উচ্চ পুষ্টিগুণ সম্পন্ন ফল। তাই দিনে আপনি সর্বোচ্চ পাঁচ থেকে ছয়টি খেজুর খেতে পারেন। এর থেকে ২৭৭ ক্যালোরি শক্তি পাবেন। যা আপনার শরীরের জন্য উত্তম।

সকালে খালি পেটে খেজুর খাওয়ার উপকারিতা

নিয়মিত সকালে খালি পেটে খেজুর খেলে শরীরে বিভিন্ন ধরনের রোগ প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে। প্রতি ১০০ গ্রাম খেজুরে ০.০৯ গ্রাম আয়রন থাকে। এছাড়াও খেজুরে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ভিটামিন এ, ম্যাগনেসিয়াম, ক্লোরিন, ফাইবার ও আইরনের মতো প্রয়োজনীয় খাদ্য উপাদান রয়েছে। এ সকল উপাদান আমাদের শরীরের জন্য খুবই উপকারী। যার শরীরে প্রয়োজনীয় আয়নের চাহিদা পূরণ করতে সহযোগিতা করে। প্রতিদিন সকালে খালি পেটে খেজুর খেলে বিভিন্ন ধরনের রোগ নিরাময়ে উপকার পাওয়া যায়। চলুন তাহলে জেনে নেওয়া যাক সকালে খালি পেটে খেজুর খেলে যে উপকার গুলো হয়।

কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করেঃ খেজুরে থাকা পুষ্টি গুণ কোষ্ঠকাঠিন্য সমস্যা দূর করে এবং খাদ্য পরিপাকে সাহায্য করে। এছাড়াও ডায়রিয়া সমস্যায় খেজুর খুব উপকারী একটি ফল। যাদের কোষ্ঠকাঠিন্য সমস্যা রয়েছে তারা প্রতিদিন সকালে খালি পেটে দুই থেকে তিনটি খেজুর সেবন করুন ।

ক্যান্সার প্রতিরোধ করেঃ খেজুর পুষ্টিগুণ সম্পন্ন এবং প্রাকৃতিক আশ পূর্ণ ফল। গবেষণায় জানায় যায় নিয়মিত সকালে খালি পেটে খেজুর খেলে পেটের ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকি কমে যায়। এছাড়াও খেজুর খাওয়ার ফলে ক্যান্সার প্রতিরোধ করে। সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে খেজুরে Abdominal নামক উপাদান থাকে যা ক্যান্সার রোধে খুবই কার্যকর। নিয়মিত খেজুর খাওয়ার ফলে বিভিন্ন ধরনের রোগ থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।

আরো পড়ুনঃ কলা খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা  

ওজন কমাতেঃ সকালে খালি পেটে খেজুর খাওয়ার ফলে খেজুরে থাকা ফাইবার দীর্ঘ সময় পেট ভরে রাখতে সাহায্য করে। যা পাকস্থলীতে কম খাবার গ্রহণের আগ্রহ থাকে। খেজুরে থাকা প্রাকৃতিক শর্করা শরীরে প্রয়োজনীয় শর্করা ঘাটতি পূরণ করতে সহায়তা করে। তাই নিয়মিত সকালে খেজুর খেলে অতিরিক্ত ওজন কমাতে সহায়ক।

রক্তশূন্যতা পূরণ করতেঃ খেজুরের প্রচুর পরিমাণে আয়রন এবং লৌহ ত্তরথাকে। এই উপাদান গুলো শরীরে রক্তশূন্যতার ঘাটতি পূরণ করতে সাহায্য করে। তাই যাদের রক্তে হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ কম তারা নিয়মিত খেজুর খাবেন।

হূদরোগ প্রতিরোধেঃ খেজুরে থাকা পটাশিয়াম হার্ট কে সুস্থ রাখতে এবং স্ট্রোকের ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করে। খেজুর শরীরে খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে এবং ভালো কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়াতে বেশ কার্যকর। এছাড়াও নিয়মিত খেজুর খাওয়ার ফলে উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়তা করে।

হাড় মজবুত করেঃ খেজুরে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম থাকে। আর ক্যালসিয়াম আমাদের শরীরে হাড়কে মজবুত করতে সহায়তা করে। তাই শিশুদেরকে নিয়মিত খেজুর খাওয়ালে তাদের দাঁতের মাড়ি শক্ত করতে সাহায্য করে।

খেজুরের উপকারিতা ও অপকারিতা

খেজুর খুবই পুষ্টিকর একটি ফল। খেজুর মধ্যপ্রাচ্যের এই ফলটি অত্যন্ত সুস্বাদ এবং বেশ জনপ্রিয়। খেজুরে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন, ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম, আইরন সহ নানা ধরনের পুষ্টি উপাদান। এছাড়াও খেজুরে রয়েছে অ্যান্টি অক্সিডেন্ট যা আমাদের শরীরের জন্য বেশ উপকারী। খেজুর আমরা সারা বছরের তুলনায় রমজান মাসে বেশি পরিমাণে খেয়ে থাকি। তবে আপনি জানেন খেজুরের উপকারিতা ও অপকারিতা বা কাঁচা খেজুর খাওয়ার উপকারিতা কি সে সম্পর্কে নিচে বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হলো,

শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি
খেজুর আমাদের শরীরে নানা ধরনের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। এছাড়াও গলা ব্যথা বিভিন্ন ধরনের জ্বর সর্দি এবং ঠান্ডায় খেজুর মহা ঔষধ হিসেবে কাজ করে। খেজুরে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট অ্যালকোহলজনিত বিষক্রিয়ায় বেশ কার্যকর। তাই নিয়মিত খেজুর খাওয়ার ফলে শরীর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অনেকাংশে বৃদ্ধি পায়।

উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে
খেজুরে সোডিয়াম এবং পটাশিয়াম রয়েছে যা শরীরের ক্ষতিকর কোলেস্টেরলের মাত্রা কমিয়ে উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। উচ্চ রক্তচাপ রোগীদের জন্য নিয়মিত খেজুর খাওয়া জরুরী। এছাড়াও ভালো কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়াতেও সহায়ক। তাই উচ্চ রক্তচাপ জনিত রোগীদের কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ রাখতে প্রতিদিন খেজুর খাওয়ার অভ্যাস করতে হবে।

ডায়াবেটিস রোগ নিয়ন্ত্রণ রাখে
ডায়াবেটিস রোগের ক্ষেত্রে খেজুরের উপকারিতা অপরিসীম। খেজুরের প্রাকৃতিকভাবে প্রচুর পরিমাণে শর্করা থাকে। খেজুরে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট নামক উপাদানের কারণে খেজুর খেলে ডায়াবেটিস রোগীদের কোন ক্ষতি বা সমস্যা হয় না। তবে ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য শুকনো খেজুর খাওয়া উত্তম।

দৃষ্টিশক্তি বৃদ্ধি
খেজুরে ভিটামিন এ ভিটামিন বি এবং ভিটামিন৬ ইত্যাদি পুষ্টিগুণ থাকে। খেজুর কে বলা হয় ভিটামিনের পাওয়ার হাউস। ভিটামিন এ আমাদের চোখের দৃষ্টি শক্তি বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে। এছাড়াও রাতকানা রোগ প্রতিরোধে খুবই উপকারী ভিটামিন এ। তাই নিয়মিত খেজুর খেলে রাতকানা রোগ প্রতিরোধ এবং দৃষ্টিশক্তি প্রখর করতে সাহায্য করে।

রক্তশূন্যতা পূরণে সাহায্য করে
শরীরে রক্তশূন্যতা দূর করতে খেজুর অতুলনীয় ভূমিকা রাখে। যাদের শরীরে রক্তশূন্যতা রয়েছে তারা নিয়মিত খেজুর খেলে তাদের রক্তশূন্যতা পূরণ করতে পারে। একজন সুস্থ মানুষের শরীরে যতটুকু আয়রনের প্রয়োজন হয় তার প্রায় ৯ ভাগ আইরন খেজুর পূরণ করতে সহযোগিতা করে।

হজম শক্তি ও রুচি বৃদ্ধি করে
মুখে রুচি বৃদ্ধিতে খেজুর খুবই কার্যকরী। বিশেষ করে শিশুরা ঠিকমত খাবার খেতে চায়না তাই তাদের নিয়মিত খেজুর খাওয়ালে মুখের রুচি বৃদ্ধি করে। খেজুরে থাকা শ্যলুবল ও ইনশ্যলুবল ফাইবার ও বিভিন্ন ধরনের অ্যামাইনো এসিড যা খুব সহজেই খাবার হজম করতে সহযোগিতা করে।

ত্বকের বার্ধক্য প্রতিরোধ করতে
খেজুর ত্বকের আর্দ্রতা বজায় রাখতে সাহায্য করে। খেজুরে থাকা ভিটামিন সি ও ভিটামিন ডি ত্বকে বয়সের ছাপ পড়তে বাধা দেয়। খেজুরে থাকা আন্টি এজিং উপাদান শরীরে মেলানিন তৈরিতে বাধা দেয় এর ফলে চেহারার উজ্জ্বলতা বজায় থাকে। তাই আপনার ত্বকের তারুণ্য ধরে রাখে দীর্ঘদিন। নিয়মিত খেজুর খাওয়ার ফলে ত্বককে ভেতর থেকে সুস্থ রাখে।

বীর্য বৃদ্ধি করে
খেজুরের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ উপকারিতা হলো পুরুষের বীর্য বৃদ্ধি করে। তাই নিয়মিত খেজুর খাওয়ার ফলে নারী ও পুরুষের উভয়ে যৌন শক্তি বৃদ্ধি পায় এবং বীর্যের গুণগতমান বৃদ্ধি করে।

খেজুরের অপকারিতা

খেজুর খাওয়ার অপকারিতা সম্পর্কে তেমন কোন ক্ষতিকর সমস্যা দেখা যায় না। তবে একটা কথা মনে রাখতে হবে কোন কিছুরই অতিরিক্ত খাওয়া শরীরের জন্য উপকারী নয়। সুতরাং অত্যাধিক পরিমাণে খেজুর খেলে খেজুরের অপকারিতা আপনার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। তবে অতিরিক্ত খেজুর খাওয়ার কিছু অপকারিতা রয়েছে সেগুলো জেনে নেওয়া যায়।
  • অত্যাধিক মাত্রায় খেজুর খেলে ওজন বৃদ্ধি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
  • অতিরিক্ত খেজুর খাওয়ার ফলে কিডনিতে সমস্যা হতে পারে। কারণ খেজুরে প্রচুর পরিমাণে পটাশিয়াম থাকে।
  • এছাড়া অতিরিক্ত খেজুর খাওয়ার ফলে পেটে বদহজম হতে পারে এবং বিভিন্ন রকমের সমস্যা দেখা দিতে পারে।
  • যাদের শরীরে এলার্জি আছে তারা অতিরিক্ত খেজুর খাওয়া থেকে বিরত থাকবেন। শুকনো খেজুর অনেক সময় আমাদের শরীরে এলার্জি সমস্যা জাগিয়ে তুলতে পারে।

শেষ কথা

খেজুর একটি পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ ফল। যা আমাদের শরীরের জন্য খুবই উপকারী। উপরে আলোচনা থেকে জানতে পেরেছেন খেজুরের উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য। আজকের এই আর্টিকেলে খেজুর সম্পর্কে প্রয়োজনীয় তথ্য তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। আশা করছি সম্পূর্ণ আর্টিকেল টি মনোযোগ সহকারে পড়লে আপনার প্রয়োজনে তথ্য খুঁজে পাবেন এবং পরে উপকৃত হবেন। এই পোস্টটি পড়ে আপনাদের ভালো লাগবে অবশ্যই বন্ধুদের সঙ্গে বেশি বেশি শেয়ার করবেন। সম্পূর্ণ পোস্টটি মনোযোগ সহকারে পড়ার জন্য আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ।








এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url