ডেঙ্গু রোগের কারণ ও প্রতিকার - ডেঙ্গু রোগের লক্ষণ

প্রিয়পাঠক, আজকে আপনাদের মাঝে আলোচনা করবো ডেঙ্গু রোগের কারণ ও প্রতিকার - ডেঙ্গু রোগের লক্ষণ সম্পর্কে। বর্তমান সময়ে ডেঙ্গু রোগের সংক্রমন বৃদ্ধি পাচ্ছে। কিন্তু অনেকেই ডেঙ্গু রোগের কারণ ও প্রতিকার - ডেঙ্গু রোগের লক্ষণ অথবা শিশুদের ডেঙ্গু রোগের লক্ষণ ও প্রতিকার সম্পর্কে ধারণা নেই। আজকের এই আর্টিকেলে ডেঙ্গু রোগ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য আলোচনা করেছি। তাই সম্পূর্ণ পোস্টটি মনোযোগ সহকারে পড়লে জানতে পারবেন ।
ডেঙ্গু রোগের কারণ ও প্রতিকার - ডেঙ্গু রোগের লক্ষণ
এছাড়া ও জানতে পারবেন যে কিভাবে এবং কোন ঔষধ খেলে আপনি এই ডেঙ্গু রোগ থেকে মুক্তি পেতে পারবেন। তাই ডেঙ্গু রোগের কারণ ও প্রতিকার - ডেঙ্গু রোগের লক্ষণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে হলে সম্পূর্ণ পোস্টটি দেরি না করে পড়ে ফেলুন। আশা করছি পোস্টটি পড়ে উপকৃত হবেন।

ভূমিকা

ডেঙ্গু জ্বর এখন আতঙ্কের নাম। ডেঙ্গু জ্বর একটি মশাবাহিত ভাইরাস সংক্রমণ। এডিস মশার কামড়ে মানুষ ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়। কয়েক প্রজাতির এডিস মসকী (স্ত্রী মশা) ডেঙ্গু ভাইরাসের প্রধান বাহক। ডেঙ্গু রোগে তখনই মানুষ আক্রান্ত হয় যখন মশা একটি সংক্রামিত ব্যক্তিকে কামড় দেয় এবং তারপর ভাইরাস বহন করার সময় একটি অসংক্রমিত ব্যক্তিকে কামড় দেয়। অর্থাৎ একজনের দেহ থেকে অন্য জনের দেহে ছড়িয়ে পড়ে।


যেটাকে আমরা বলে থাকি ছোঁয়াচে রোগ। বর্তমান সময়ে ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়েই চলছে। দেশে প্রতিদিনই ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হচ্ছে। প্রতি বছরই বিশ্বব্যাপী লক্ষ লক্ষ ডেঙ্গু সংক্রমণে মানুষ মারা যায়। এছাড়াও বিনা চিকিৎসায়, ভুল চিকিৎসায়, এবং দেরিতে চিকিৎসার জন্য অনেক ক্ষেত্রেই রোগীর মৃত্যু পর্যন্ত হয়। তাই আমাদের অবশ্যই ডেঙ্গু আক্রান্ত ব্যক্তির কাছ থেকে দূরে থাকতে হবে।

ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীকে খুব দ্রুত চিকিৎসা মাধ্যমে ঔষধ সেবন করাতে হবে। অনেকে ডেঙ্গু রোগের কারণ ও প্রতিকার - ডেঙ্গু রোগের লক্ষণ সম্পর্কে জানেনা।ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের কোন বিশেষ লক্ষণ দেখা নাও যেতে পারে। তবে সঠিক চিকিৎসায় বাড়িতে থেকেই এই রোগ উপশম করা সম্ভব। কিছু উপায় মেনে চললে ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হওয়ার প্রকোপ থেকে আমরা নিজেদেরকে রক্ষা করতে পারি।

ডেঙ্গু রোগের কারন ও প্রতিকার

ডেঙ্গু রোগের কারণঃ ডেঙ্গু জ্বর ডেঙ্গু ভাইরাস দ্বারা সৃষ্টি হয়, যা প্রাথমিকভাবে সংক্রামিত স্ত্রী এডিস মশা। বিশেষ করে এডিস ইজিপ্টাই মশার কামরের মাধ্যমে মানুষের মধ্যে এই ডেঙ্গু রোগ ছড়ায়। এই মশাগুলো সাধারণত শহরে এবং আধা-শহরের পাওয়া যায়। এছাড়াও পুরনো টায়ার, ফুলের টপ, ভাঙ্গা প্লাস্টিকের পাত্র ইত্যাদিতে বৃষ্টির পানি বা স্থির পানির উৎসগুলোতে এ মশা বংশবৃদ্ধি করে। এছাড়াও যদি আশেপাশে নদী-নালা খাল, বিলে পচা পানিতে ও এই মশার আবির্ভাব হয়।

এই ধরনের জায়গা গুলো থেকে এডিস মশার জন্ম হয়ে থাকে। আর এই মশা যদি কোন ব্যক্তি শরীরে কামড় দেয় তাহলে ওই ব্যক্তি ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়ে যাবে। এছাড়াও আরেকটি উপায়ে ডেঙ্গু রোগ ছড়াতে পারে সেটি হলো যদি কোন মশা ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীকে কামড়ায় এবং ওই মশা যদি কোন ভালো মানুষকে কামড়ায় তাহলে ও সেই মানুষের শরীরে ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হবে।


ডেঙ্গু রোগের প্রতিকারঃ উপরোক্ত আলোচনায় জানতে পেরেছেন ডেঙ্গু রোগের কারণ সম্পর্কে আর এখন জানতে পারবেন কিভাবে ডেঙ্গু রোগের প্রতিকার করা যায়। তাই ডেঙ্গু রোগের প্রতিকার সম্পর্কে সম্পূর্ণ জানতে হলে নিচে বিস্তারিত পড়তে থাকুন। বর্তমান সময়ে ডেঙ্গু রোগে মানুষ বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। তাই আপনি যদি ডেঙ্গু রোগের প্রতিকার সম্পর্কে ধারণা নিয়ে থাকেন তাহলে আপনার পরিবার অথবা প্রতিবেশী ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হলে তাদের কি পরামর্শ দিবেন এবং ডেঙ্গু প্রতিরোধে কি কি উপায় সে সম্পর্কে জানাতে পারবেন। তাহলে দেরি না করে চলুন জেনে নেই ডেঙ্গু রোগের কারণ ও প্রতিকার - ডেঙ্গু রোগের লক্ষণ সে সম্পর্কে।
  • সর্বপ্রথম ডেঙ্গু রোগ প্রতিরোধ করতে বাড়ির আশেপাশে ঝোপঝার, জঙ্গল ও জলাশয় ইত্যাদি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখুন।
  • এডিস মশা মূলত জমে থাকা পানিতে ডিম পাড়ে। তাই ঘরে কিংবা বাড়ির আশে পাশে থাকা ফুলদানি বা ফুলের টব কিংবা অব্যবহৃত কৌটা, পরিত্যক্ত টায়ার, ডাবের খোসা, প্লাস্টিকের ভাঙ্গা,বোতল অথবা বিভিন্ন রকমের পচা পলিথিন থাকে সেগুলো দ্রুত পরিষ্কার করে ফেলুন।
  • লক্ষ্য রাখবেন যেন অ্যাকুয়ারিয়াম ফ্রিজ বা এয়ারকন্ডিশনারের নিচে যেনো পানির জমে না থাকে।
  • এডিস মশা সাধারণত সকাল-সন্ধ্যায় বেশি কামড়ায়। তাই এ সময়টাতে হাত-পা কাপড় দিয়ে ভালো করে ঢেকে রাখুন। এছাড়া ও হাতে-পায়ে মসকুইটো রিপেলেন্ট ব্যবহার করুন। ঘরের দরজা জানালায় নেট ব্যবহার করতে পারেন।
  • ঘুমানোর সময় মশারি অথবা কয়েল জ্বালিয়ে ঘুমান।
  • বাড়ি থেকে বাহিরে যাওয়ার সময় মশা নিধনের ব্যবহৃত ক্রিম ব্যবহার করুন।
  • রাস্তায় বিভিন্ন ধরনের ফুলের টপ,গাছপালা, জলাধার ড্রেন দেখা যায়। এ ধরনের জায়গাগুলোতে বৃষ্টির পানি জমে মশার বংশবিস্তারের ব্যাপারে সতর্ক থাকুন।
  • তাছাড়াও সপ্তাহে অন্তত ২ থেকে ৩ বার স্প্রে বা ফগিং করুন।
  • বাড়িতে অথবা জানালার পাশে তুলসী গাছ রোপণ করুন। কারণ এ গাছে থাকা ভেষজ ঔষধি উপাদান মশা তাড়ানোর জন্য খুবই উপযোগী।
  • আপনার বাড়ির আশেপাশে লক্ষ্য করে দেখবেন বৃষ্টির পানি জমে আছে তাহলে খুব দ্রুত সম্ভব সেখানে থেকে বৃষ্টির পানি পরিষ্কার করে ফেলুন। কারণ জমে থাকা বৃষ্টির পানিতে এডিস মশা ডিম পাড়ে।
  • মশা তাড়াতে কর্পূর খুবই দারুণ কাজ করে। তাই রুমের মধ্যে কর্পূর জ্বালিয়ে দরজা জানালা বন্ধ করে রাখুন। ১০ থেকে ১৫ মিনিট পর দেখবেন মশা একেবারেই চলে গেছে।
উপরে আলোচনা থেকে আশা করি বুঝতে পেরেছেন যে কিভাবে ডেঙ্গু রোগ ছড়ায় এবং ডেঙ্গু রোগের প্রতিকার করার উপায় সম্পর্কে । সুতরাং ডেঙ্গু রোগ থেকে বাঁচতে হলে আপনার পরিবার এবং বন্ধুদের ডেঙ্গু রোগের কারণ ও প্রতিকার - ডেঙ্গু রোগের লক্ষণ সম্পর্কে জানিয়ে দিন । নিজে সুস্থ থাকুন এবং অপরকেও সুস্থ থাকতে সহায়তা করুন। তাহলে ডেঙ্গু রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব।

ডেঙ্গু রোগের লক্ষণ

ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর তেমন কোন নির্দিষ্ট লক্ষণ পাওয়া যায় না। তবে ডেঙ্গুর লক্ষণগুলো সংক্রমনের ৪ থেকে ৬ দিন পরে শুরু হয়ে যায় এবং ১০ দিন পর্যন্ত স্থায়ী হয়। কখনো কখনো লক্ষণগুলো এতটাই কম হয় যে বা অন্য কোন ভাইরাস সংক্রমণের মতো মনে হতে পারে। জেনে নিন ডেঙ্গু রোগের লক্ষণ গুলো সম্পর্কে।
  • সর্বপ্রথম ডেঙ্গু রোগের লক্ষণ জ্বর। চিকিৎসকদের মতে ডেঙ্গু রোগে যদি কোন ব্যক্তি আক্রান্ত হয় তাহলে ওই ব্যক্তির শরীরে তাপমাত্রা হবে ১০১ ডিগ্রী থেকে ১০৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত। এই জ্বর এক টানা থাকতে পারে আবার ঘাম দিয়ে ছেড়ে যাওয়ার পর আবার জ্বর শুরু হতে পারে।
  • এছাড়াও ডেঙ্গু রোগের অন্যতম একটি লক্ষণ শরীরে ব্যথা। এর সঙ্গে মাথাব্যথা, চোখের পিছনে ব্যথা অনুভব হওয়া এর সঙ্গে চামড়ায় লালচে দাগ বা র‍্যস পারে।
  • তারপরে দেখা যাবে আপনার শরীর অনেকটা ঠান্ডা হয়ে যেতে পারে। এর সঙ্গে খুদা মন্দা ভাব চলে আসবে। এমনকি শরীর ম্যাজ ম্যাজ করা অনুভূতি হবে। 
  • এছাড়াও আপনি যদি সিভিয়ার ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হন তাহলে সে ডেঙ্গু রোগের ক্ষেত্রে তীব্র পেটব্যথা করবে, পেট ফুলে যাবে, বমির সঙ্গে রক্তক্ষরণ হবে, মাড়ি থেকে রক্ত পড়বে, শ্বাসকষ্টের সমস্যা দেখা দিবে। শরীর থেকে অতিরিক্ত ঘাম হবে, আর ঘুম ঘুম ভাব অথবা অজ্ঞান হয়ে যাবেন।
ডেঙ্গুর শক সিনড্রোম যদি আপনার হয় তাহলে শরীরে পানি শূন্যতা দেখা দিবে এছাড়াও পালস রেট বেড়ে যাবে এবং সাথে রক্তচাপ খুব কমে যাবে। এ ধরনের লক্ষণগুলো কারণে রোগীর শ্বাস-প্রশ্বাস বেড়ে যাবে এবং রোগী অস্থিরতা অনুভব করবে। তাই দেরি না করে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করান এবং সঠিক চিকিৎসা দিন।

ডেঙ্গু রোগের ঔষধ

ডেঙ্গু জ্বর আসলে এক ধরনের ছোঁয়াচে জাতীয় রোগ। ডেঙ্গু রোগের চিকিৎসায় বিশেষ কোনো ঔষধ বা প্রতিষেধক এখনো আবিষ্কৃত হয়নি। তাই ডেঙ্গু জ্বর হলে রোগীকে যে সকল ঔষধ গুলো খাওয়াবেন সেগুলো হলো প্যারাসিটামল। চিকিৎসকেরা প্যারাসিটামল জাতীয় ঔষধ যন্ত্রণা এবং জ্বরের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করেন। ডেঙ্গু রোগীর শরীরের তাপমাত্রা হাইভোল্ট এর হয়ে থাকে যা ১০১ থেকে ১০৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত জ্বর হয়ে থাকে। অনেকে আছেন যারা ডেঙ্গু রোগের কারণ ও প্রতিকার - ডেঙ্গু রোগের লক্ষণ সম্পর্কে কিছুই জানে না।


ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীকে প্যারাসিটামলের পাশাপাশি অন্যান্য ঔষধ খাওয়াতে হবে এছাড়াও কিছু সময় পর পর স্যালাইন খাওয়াতে হবে। কেননা ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর শরীরে পানি শূন্যতা দেখা দেয়। তাই এই সময়ে বেশি বেশি তরল জাতীয় খাবার খাওয়াতে হবে। ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীকে অ্যান্টিবায়োটিক ঔষধ সেবন করানো যাবে না। কারণ অ্যান্টিবায়োটিক জাতীয় ঔষধ রোগীর ওপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে।

তাই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী এন্টিবায়োটিক বাদ দিয়ে প্যারাসিটামল জাতীয় ঔষধ সেবন করতে হবে। ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত রোগীর জ্বরের মাত্রা বৃদ্ধি পেলে দ্রুত রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি এবং ডাক্তারি পরামর্শ নেওয়া জরুরি। হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের শিরায় ইলেকট্রোলাইট তরল দেওয়া হয়। যার শরীরে প্রয়োজনীয় পানি এবং লবণের অভাব পূরণ করে। আশা করি এই উপায় দ্বারা রোগী সুস্থ হয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ।

শিশুদের ডেঙ্গু রোগের লক্ষণ ও প্রতিকার

ডেঙ্গু একটি ভাইরাস জনিত মারাত্মক রোগ। এ রোগে শিশুরা আক্রান্ত হয় বেশি, জটিলতা হাড় ও বেশি। শিশুরা সাধারণত তাদের শারীরিক পরিস্থিতি সম্পর্কে সচেতন না হওয়ার কারণে তাদের এই রোগের প্রভাব বড়দের তুলনায় বেশি ভয়াবহ হওয়ার আশঙ্কা থাকে। শিশুদের শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকায় এ রোগের ভয়াবহতা ঝুঁকিপূর্ণ। ডেঙ্গু রোগের মশা দিনের বেলায় কামড়ায়। শিশুরা মশার কামড় প্রতিরোধ করতে পারে না। তাই শিশুদেরকে সাবধানে রাখতে হবে। চলুন তাহলে জেনে নেওয়া যাক শিশুদের ডেঙ্গু রোগের লক্ষণ ও প্রতিকার সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য।

শিশুদের ডেঙ্গু রোগের লক্ষণঃ
  • অতিরিক্ত তাপমাত্রায় জ্বর।
  • শরীরের ব্যথা ও জয়েন্টে ব্যথা।
  • তীব্র মাথা ব্যথা।
  • ক্লান্তি ও দুর্বলতা।
  • র‍্যাশ বের হওয়া।
  • পেটে ব্যথা।
  • শ্বাসকষ্ট।
  • মাড়ি থেকে রক্তপাত।
  • শরীরে বিভিন্ন স্থানে রক্ত জমাটবাধা।
  • খাবার অরুচি ও বমি হওয়া।
  • ডায়রিয়া বা পাতলা পায়খানা হওয়া।
  • বিরক্তি এবং অস্থিরতা।
শিশুদের ডেঙ্গু রোগের প্রতিকারঃ
  • শিশুদের ডেঙ্গু রোগের প্রতিকার করতে সর্বপ্রথম এমন পরিবেশ তৈরি করতে হবে যাতে শিশুদের মশা না কামরায়।
  • এডিস মশার জন্মাতে পারে বা মশার উৎপত্তিস্থল ধ্বংস করতে হবে। তাই বাড়ি অথবা বাড়ির আশেপাশে ফুলের টব, গারের টায়ার বা ডাবের খোলে বৃষ্টির পানি জমে থাকতে পারে। এইসব জায়গা গুলোতে দীর্ঘদিন পানি স্থির থাকে বিধায় সহজে মশা বংশবিস্তার করতে পারে। তাই আশেপাশে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।
  • মশার কামড় থেকে শিশুকে রক্ষা করার জন্য দিনে ও রাতে ঘুমানোর সময় শিশুদেরকে মশারির ভেতরে রাখতে হবে। এছাড়াও নবজাতক শিশু কে সবসময় মশার ভেতরে রাখা জরুরী। কেননা ডেঙ্গু আক্রান্ত কোনো ব্যক্তি মশা কামরার ফলে সে মশাও ডেঙ্গু আক্রান্ত মশা হিসেবে পরিগণিত হয়। সুতরাং সেই মশা কোন সুস্থ শিশুকে কামড়ালেও তার শরীরের ডেঙ্গুর ভাইরাস সংক্রমণ হতে পারে।
  • দিনের অনেক সময়ই শিশুরা বাহিরে খেলাধুলা করে। তাই দিনের য়ে সময়টা শিশুরা বাহিরে খেলাধুলা করে সে সময়টায় মশা নিরোধিকরণ স্প্রে বা ক্রিম ব্যবহার করতে পারেন। এতে করে শিশু মশার কামড় থেকে রক্ষা পাবে। তবে শিশু যদি খুবই ছোট হয় তাহলে মশা নিরোধক স্প্রে বা ক্রিম ব্যবহার না করা যায় তাহলে তার ব্যবহৃত পোশাকে ব্যবহার করা যেতে পারে।
  • এছাড়াও মশার কামড় থেকে শিশুকে রক্ষা করার আরেকটি উপায় হল শিশুদেরকে ফুল হাতা ও ফুল প্যান্ট পরিয়ে রাখা।

ডেঙ্গু হলে কি খেতে হবে

ডেঙ্গু রোগটি ভাইরাস জনিত। ডেঙ্গুর প্রধান লক্ষণ হল জ্বর। ডেঙ্গু রোগের জ্বরের তাপমাত্রা ৯৯ থেকে ১০৬ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত উঠতে পারে। ডেঙ্গু জ্বরের সঙ্গে শরীরে ব্যথা, তীব্র মাথাব্যথা, চোখের পিছনে ব্যথা এবং শরীরের চামড়া লালচে দাগ বা ফুসকুড়ি সমস্যা দেখা যায়। তাই ডেঙ্গু হলে আমাদের সতর্ক থাকা উচিত। এছাড়াও ডেঙ্গু রোগের সময় আমাদের খাবারের প্রতি মনোযোগ দেওয়া উচিত।


 ডেঙ্গু জ্বর হলে রোগীকে কি কি খাওয়ানো যাবে অর্থাৎ ডেঙ্গু জ্বর হলে রোগী কি কি খেতে পারবে কিংবা কোন কোন খাবারগুলি খেলে ডেঙ্গু রোগী খুব দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠবে সে সম্পর্কে জেনে নিন। ডেঙ্গু জ্বরের ক্ষেত্রে নরম ও তরল জাতীয় খাবার খেতে দিতে হবে। তাই ডেঙ্গু হলে যে খাবার গুলো বেশি বেশি খাবেন সেগুলো হলোঃ

ডাবের পানি
শারীরিক সুস্থতায় ডাবের পানি খুবই উপকারী। ডেঙ্গু জ্বর হলে শরীরে তরল পদার্থের ঘাটতি সৃষ্টি হয় ডিহাইড্রেশন। তাই এ সময় বেশি করে ডাবের পানি পান করানো উচিত। ডাবে থাকা ইলেক্ট্রালাইটসের উপাদান শরীরের পানি শূন্যতার অভাব দূর করে।

কমলা
কমলা বা মাল্টার রসে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট পাওয়া যায়। তাই ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীকে কমলার রস খাওয়াতে হবে। ভিটামিন সি ডেঙ্গু জ্বর নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।

ডালিম
আমাদের শরীরে রক্তশূন্যতা দূর করতে ডালিমের রস দারুন উপকারি। ডালিমে থাকা প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ও মিনারেল ডেঙ্গু রোগীর শরীরে প্লেটেলেটের সংখ্যা বৃদ্ধি করতে সহযোগিতা করে। তাই ডেঙ্গু জ্বর প্রতিরোধে এ ফলটি বেশি বেশি খাওয়ানো উচিত।

ব্রোকোলি
ব্রোকোলি ভিটামিন এ  একটি ভালো উৎস। ভিটামিন এ দেহের রক্তের প্লেটলেট এর সংখ্যা বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে। তাই যদি কোন ব্যক্তি ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয় তাহলে তাকে অবশ্যই ব্রোকোলি খাওয়ানো উচিত।

পালং শাক
ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীকে বেশি বেশি পালং শাক খাওয়াতে হবে। কারণ পালং শাকে আয়রন এবং ওমেগা থ্রি ফ্যাটি এসিড রয়েছে। দেহে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে সহযোগিতা করে এই শাক।

পেপে পাতার জুস
ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীকে কাঁচা পেঁপে অথবা পেঁপে পাতার রস খেতে হবে। ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর শরীরে রক্তের প্লেটলেটের সংখ্যা কমে যায়। আর এ সময়ে প্লেটলেটের সংখ্যা বাড়ানোর সবচেয়ে কার্যকরী হলো পেঁপে পাতার জুস। তেতো লাগলেও এই রস ডেঙ্গু মোকাবেলায় ভীষণ কার্যকর।

ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হলে রোগীকে পুষ্টিকর খাবার খাওয়ানোর পাশাপাশি তৈলাক্ত ভাজাপোড়া খাবার থেকে বিরত রাখুন। এছাড়াও মসলা জাতীয় খাবার এড়িয়ে চলুন। ডেঙ্গু জ্বরে ক্যাফেইন যুক্ত পানীয় খাবেন না। রাখবেন ডেঙ্গু রোগ প্রতিরোধ করতে চাইলে ডেঙ্গু রোগের কারণ ও প্রতিকার - ডেঙ্গু রোগের লক্ষণ সম্পর্কে আপনাকে জেনে রাখতে হবে । আশা করছি উপরের আলোচনা থেকে বুঝতে পেরেছেন ডেঙ্গু রোগীর জন্য কোন খাবারগুলো উত্তম। তাই ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীকে উপরোক্ত খাবারগুলো বেশি বেশি খাওয়ানোর চেষ্টা করুন।

ডেঙ্গু জ্বর কতদিন থাকে

আমরা অনেকেই জানি না যে ডেঙ্গু জ্বর সাধারণত কতদিন ধরে থাকে। কিন্তু ডেঙ্গু জ্বর খুবই মারাত্মক একটি রোগ। এ রোগের কারণে রোগী যেকোনো সময় মৃত্যুবরণ করতে পারে যদি ডেঙ্গুর প্রভাব বেশি হয় তার শরীরে। ডেঙ্গু জ্বরের স্বাভাবিক মাত্রা ও সময় আছে। যে সময় পর্যন্ত এই ডেঙ্গু জ্বর থাকতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী ২ থেকে ৭ দিন পর্যন্ত এই জ্বর স্থায়ী হয়।

সুতরাং এই জ্বর সাধারণত দুই থেকে সাত দিন পর্যন্ত থাকে। জ্বর ভালো হয়ে যাওয়ার ৪৮ থেকে ৭২ ঘন্টা রোগীর জন্য ঝুঁকিপূর্ণ সময়। কারণ ডেঙ্গু রোগ ভালো হওয়ার পরেও এর বিভিন্ন ধরনের জটিলতা সৃষ্টি হয়। যদি অনেকদিন পর্যন্ত স্থায়ী হয় যেমন ৭ থেকে ১০ দিন তাহলে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা উচিত না হলে রোগীর মৃত্যু হতে পারে।

শেষ কথা

ডেঙ্গু জ্বর একটি সাধারন রোগ। তবে এই রোগ অবহেলা করলে মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে। শহরাঞ্চলে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেশি দেখা যায়। আশা করছি উপরের আলোচনা থেকে বুঝতে পেরেছেন যে ডেঙ্গু রোগ কি এবং ডেঙ্গু রোগ থেকে বাঁচার কি কি উপায় রয়েছে সে সম্পর্কে। এছাড়াও এ রোগ আপনার হয়েছে আপনি কিভাবে বুঝতে পারবেন এরকম লক্ষণ কি কি এবং আপনি কিভাবে এ রোগের প্রতিকার করতে পারবেন কিংবা ডেঙ্গু রোগের কারণ ও প্রতিকার - ডেঙ্গু রোগের লক্ষণ রয়েছে সে সমস্ত বিষয় এই আর্টিকেল টি পড়ে ভালো করে বুঝতে পেরেছেন এবং উপকৃত হয়েছেন।

ডেঙ্গু রোগ প্রতিরোধ করতে সব সময় চেষ্টা করুন মশারির মধ্যে অবস্থান করতে। অন্তত দিনে অথবা রাতে ঘুমানোর আগে মশারি টাঙিয়ে নিবেন কারণ এই সময় গুলোতে মশার প্রকোপ বেশি হয়। এছাড়াও সব সময় সুস্থ থাকতে পরিবেশ ও বাড়ির আশেপাশের আঙ্গিনায় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখুন। আশা করি সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি আপনার কাছে ভালো লেগেছে। সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ার জন্য ধন্যবাদ।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url