দাঁত ও মাড়ির ক্ষয় রোধ করার ঘরোয়া উপায়

 

দাঁত আমাদের শরীরের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কিন্তু দাঁত ও মাড়ির ক্ষয় রোধ করার ঘরোয়া উপায় সম্পর্কে অনেকেই জানেন না। কিংবা কোন ভিটামিনের অভাবে দাঁত ও মাড়ি ক্ষয় হয় এটাও জানে না। আজকের এই আর্টিকেলের মাধ্যমে আপনাদের দাঁত ও মাড়ির ক্ষয় রোধ করার ঘরোয়া উপায় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছি। আশা করছি এই আর্টিকেলটি পড়ে দাঁত ও মাড়ির ক্ষয় রোধ করার ঘরোয়া উপায় সম্পর্কে বিস্তারিত ভাবে জানতে পারবেন।
দাঁত ও মাড়ির ক্ষয় রোধ করার ঘরোয়া উপায়
দাঁত ও মাড়ির ক্ষয় রোধ করার ঘরোয়া উপায় নিয়ে বিস্তারিত তথ্য এই আর্টিকেলে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। আশা করছি আপনার দাঁত ও মাড়ির সমস্যার  প্রয়োজনীয় সকল তথ্য এ আর্টিকেলের মাধ্যমে জানতে পারবেন। তাহলে দেরি না করে সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন এবং বিস্তারিত জেনে নিন।

ভূমিকা

দাঁত মানুষের সৌন্দর্যর প্রতিক। দাঁত দিয়ে খাবার চিবানো ও হজম এর সাহায্য করে। মানুষের পাচ প্রকার দাঁত রয়েছে যেমনঃ কতন দাত,ছেদন দাত,অগ্রপেষণ দাত,পেষণ দাত ও আক্কেল দাত(মানুষের পরিনিত বয়েসে এ দাত ওঠে)। এ দাত গুলোর প্রত্যকটির আলাদা আলাদ কাজ করে । খাদ্যকে ছোট করা ,ছিড়ে ফেলা ও পিষ্ট করা ইত্যাদি। দাঁত ও মাড়ি একে ওপরের সাথে সম্পক রয়েছে। দুই বার দাত ওঠে, জন্মের পর ছয়মাস বয়স থেকে দাত ওঠে এটাকে দুধের দাত বলে ,আবার কিছু বয়স পর দুধের পড়ে আবার দাত ওঠে। মানুষের দাত ৩২ টি।

দাঁত ও মাড়ি কেনো ক্ষয় হয়

অনিয়মিত ও সঠিক উপায়ে দাত ব্রাশ না করলে ,জোরে জোরে শক্ত ব্রিসলযুক্ত টুথপেষ্ট দিয়ে ব্রাস করলে দাত ও মাড়ি ক্ষয় হয়। দাতের ক্ষয় এর প্রধান কারন হলো এনামেল । দাতের ওপর যে সাদা অংশ টা রয়েছে তাকে এনামেল বলে। দাঁতের এনামেল যখন নষ্ট হয়ে জায় তখন দাত ক্ষয় হতে থাকে ।বেশি গরম খাবার খেলে দাতের এনামেল নষ্ট হয়। তবে দাঁত ও মাড়ির ক্ষয় রোধ করার ঘরোয়া উপায় এর মাধ্যমে এই সমস্যা দূর করা সম্ভব।
মিষ্টি ও অতিরিক্ত এসিড জাতীয় খাবার খেলে দাত ও মাড়ি ক্ষয় হয়। দিনে ২ বার দাত ব্রাস করা উচিত কারন, দাতের মধ্য খাবার এর কনা জমে থাকলে তা পচে দঁত ও মাড়ির ক্ষয় হয়। ২ থেকে ৩ মিনিট সময় নিয়ে দাত ব্রাস করা উচিত।

কোন ভিটামিনের অভাবে দাঁত ও মাড়ি ক্ষয় হয়

দাঁত ও মাড়ি কে সুস্থ রাখার জন্য ভিটামিন সমূদ্ধ খাবার খাওয়া উচিত। কিন্তু কোন ভিটামিনের অভাবে দাঁত ও মাড়ি ক্ষয় হয় এটা অনেকেই জানে না। ভিটামিন সি ও ভিটামিন ডি দাঁত ও মাড়ির ক্ষয় রোধ করতে সাহায্য করে। যেসব খাবার গুলোতে ভিটামিন সি পাওয়া জায় যেমনঃ পেয়ারা, লেবু, আমরা, জলপাই, কমলা,আমলকি ইত্যাদিতে। ভিটামিন সি মাড়ি কে মজবুত করে ও জিবানু আক্রমন থেকে রক্ষা করে। ভিটামিন সি এর অভাবে মাড়িতে স্কাভি (দাতের মাড়ি থেকে রক্তপাত) রোগ দেখা দেয়।

ভিটামিন ডি দেহের ক্যালসিয়ামের অভাব পূরন করে,দাঁত ও মাড়িকে মজবুত করেত। রোগ প্রতিরোধ এ সাহায্য করে ভিটামিন ডি। সুযের আলো ভিটামিন ডি এর ভালো উৎস। এছারা মাছ, মাংস, ডিম ,দুধ ইত্যাদি তে ভিটামিন ডি পাওয়া যায়। দাত ও মাড়িকে সুস্থ রাখার জন্য সবুজ বেশি বেশি শাক-সবজি  খাওয়া উচিত।

দাঁত ও মাড়ির ক্ষয় রোধ করার ঘরোয়া উপায় 

মিষ্টি জাতীয় খাবার ও অতিরিক্ত মসলাদার খাবার দাঁতের দ্রুত ক্ষয় হয়। এই ধরনের খাবার থেকে অ্যাসিডিটি সূষ্টি হয়। দাঁতের যত্নের অবহেলার কারণে আমাদের দাঁতের বিভিন্ন ধরনের সমস্যা সৃষ্টি হয়। যার ফলে আমাদের অনেক কষ্ট পেতে হয়। নিচে দাঁত ও মাড়ির ক্ষয় রোধ করার ঘরোয়া উপায় নিয়ে বিস্তারিত ভাবে আলোচনা করেছি।

লবন

দাত ও মাড়ি পরিষ্কার করতে এবং ফোলাভাব কমাতে লবন ব্যবহার করা হয়। লবন জিবানু ধংস করতে সাহায্য করে। দাতের মাড়ির বেথা কমানোর জন্য হালকা কুসুম গরম পানিতে লবন দিয়ে মুখের ভিতরে ৩০ সেকেন্ড রাখলে এবং বেথার স্থানে লবন কিছু সময় লবন চেপে ধরে রাখলে বেথা কমে যায়।
আরো পড়ুনঃ কালো ঠোঁট গোলাপি করার সহজ উপায় বিস্তারিত জানুন
লেবু
লেবু ভিটামিন জাতীয় ফল এবং এতে সাইট্রিক এসিড রয়েছে। লেবু ব্যাকটেরিয়া মেরে ফেলতে সাহায্য করে। মাড়ির ফোলা কমানোর জন্য লেবুর পেষ্ট ব্যবহার করলে ব্যাথা কমে। লেবু ও লবন একসাথে মিশ্রন তৈরি করে হালকা গরম করে ৫ মিনিট রেখে তারপর হালকা গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন ।

পেয়াজ
খাবার খাওয়ার সময় পেয়াজ খাওয়ার অভ্যাস অনেকেরই আছে। নিয়মিত পেয়াজ খেলে দাঁতের নানা সমস্যা দূর হয়। দাতের ক্ষয় সুরু হলে ওই দাতে এক টুকরো পেয়াজ কিছু সময় চেপে ধরে রাখুন। ফলে দাঁত ক্ষয় হয়ে যাওয়া জিবানু ধ্বংস হবে। এতে দাতের ক্ষয় রোধ হবে ।

হলুদ
দাত ও মাড়ি নানা সমস্য জন্য হলুদ অনেক উপকারি এক উপাদান। হলুদে থাকে এন্টি ব্যাকটেরিয়াল উপাদান যা বিভিন্ন জিবানু ধ্বংস করে। নিম পাতা ও হলুদ একসাথে পেষ্ট করে আক্রান্ত দাঁত ও মাড়ি তে লাগিয়ে রাখলে ক্ষয় রোধ হয়।

দাঁতের পোকার ব্যথা কমানোর উপায়

দাঁতে পোকার ব্যথা অনেক যন্ত্রণাদায়ক। দাঁতকে সুস্থ রাখার জন্য দিনে ও রাতে ব্রাশ করা উচিত। কারণ দাঁতের মধ্যে খাদ্য কণা জমে থাকলে পোকার সৃষ্টি হতে পারে। কিছু খাবার রয়েছে যেগুলো খাওয়ার পর ব্রাশ করা অত্যন্ত জরুরী। যেমন চকলেট মিষ্টি জাতীয় খাবার ইত্যাদি। রাতে এ ধরনের খাবার খাওয়ার পর ব্রাশ করা জরুরি। দাঁতে পোকা লাগার কিছুদিন পর থেকে পোকা বড় হতে থাকেও আস্তে আস্তে যন্ত্রণা বেশি শুরু হয়ে যায়। আপনি ও কি দাঁতে পোকার সমস্যা নিয়ে ভুগছেন?
আপনি অনেক ধরনের চেষ্টা করার পরেও কোন উপায় আরাম পাচ্ছেন না। তাহলে ভয় পাবার কিছু নেই কারণ এমন একটি ঘরোয়া উপায় নিয়ে কথা আজ আলোচনা করব যা দিনে দুই থেকে তিনবার ব্যবহার করলেই আপনি আপনার দাঁতের পোকা সমস্যা থেকে সমাধান পাবেন। জেনে নিন কি  উপায়ে দাঁতের পোকা বের করতে পারবেন।

প্রথমে একটি পাত্রে চুন ও ফিটকিরি মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করে নিন। এতে কিছুটা পানি মিশিয়ে ভালো করে পেস্ট তৈরি করুন । এরপর দেশলাইয়ের কাঠির ওপরে তুলো লাগিয়ে ভালো করে ওই পেস্টের মধ্যে চুবিয়ে যে দাঁতে পোকা ধরেছে ওই দাঁতে ভালোভাবে লাগিয়ে রাখুন চার থেকে পাঁচ মিনিট মুখ বন্ধ করে রাখুন এরপর কিছুক্ষণ মুখ খুলে রাখতে হবে।

তাহলে আপনার মুখ থেকে লালা ঝরবে ও তার সাথে দাঁতের পোকা বেরিয়ে আসবে যদি এই ঘরোয়া উপায়টি প্রথমে কাজ না করে তাহলে ভয় পাবার কিছু নেই দিনে দু থেকে তিনবার করলে আপনার দাঁতের পোকা বেরিয়ে আসবে।

দাঁতের মাড়ি শক্ত করার উপায়

সকালে ও রাতের খাবারের পর ২ থেকে ৩ মিনিট ধরে প্রতিটি দাত ও মাড়িকে পরিসষ্কার করতে হবে।শক্ত টুথপিক ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকতে হবে। জোরে জোরে ব্রাস করলে দাতের মাড়ি ফুলে যায় এর থেকে রক্তপাত সুরু হতে পারে। খাবার পর পানি দিয়ে মুখের ভিতরে ভালো ভাবে পরিষ্কার করা। শক্ত জাতীয় ব্রাশ ব্যবহার না করা। বেশি পরিমানে পানি পান করা। এর ফলে মুখ থেকে খাদ্য কনা ও বিশাক্ত পদাথ বের হয়ে যায়। ভিটামিন সি ও ডি যুক্ত খাবার গ্রহন করতে হবে ।

দাঁতের ক্ষয় হয় কিসের অভাবে 

দাঁত আমাদের শরীরের গুরুত্বপূর্ণ একটা অংশ। দাঁত নিয়মিত পরিচযা না করলে বিভিন্ন রকম সমস্য দেখা দেয় । তাই অবহেলা না করে যত্ন নেওয়া উচিত। দাঁতে লেগে থাকা খাদ্য কনা ব্যাকটেরিয়া সূষ্টি করে এর ফলে দাঁতের ক্ষয় সুরু হয়। অতিরিক্ত গরম খাবার খেলে দাঁতের এনামেল নষ্ট হয়ে যায়। মিষ্টি জাতীয় খাবার অতিরিক্ত খেলেও দাঁতের ওপরের শক্ত আবরন এনামেল ক্ষয় হয়। এছাড়া ভিটামিন এর অভাবে দাঁতের ক্ষয় হয়। ভিটামিন সি যুক্ত খাবার দাঁত ও দাতের মাড়ি ভালো রাখে। তাই দাঁত কে সুস্থ ও সতেজ রাখার জন্য ভিটামিন এবং সুসম খাবার খাওয়া উচিত।

দাঁতের জন্য ৭ টি ব্যান্ডের টুথপেষ্টের নাম

প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর আমাদের দরকার হয় টুথপেস্ট ও ব্রাশ। টুথপেস্ট ছোট বড় সবাই ব্যবহার করে এবং প্রতিটি ঘরে নিত্য প্রয়োজনীয়। দাঁতকে সুন্দর ও ঝকঝকে রাখতে ভালো পেস্ট ব্যবহার করা উচিত। ভালো মানের টুথপেস্ট ব্যবহার না করলে দাঁত ধীরে ধীরে ক্ষয় ও বিভিন্ন রকমের সমস্যা দেখা দিবে। তাই সঠিক টুথপেস্ট বেছে নিন এবং আপনার দাঁত কে সুরক্ষিত রাখুন। জেনে নিন দাঁতের জন্য সাতটি ব্যান্ডের টুথপেস্ট এর নাম।
  • পেপসুডেন্ট
  • সেনসো ডাইন
  • কোলগেট
  • মেডিপ্লাস ডি এস
  • ক্লোজআপ
  • ডাবর রেড পেস্ট

দাঁতের গর্ত দূর করার ঘরোয়া উপায়

চিনি যুক্ত খাবার চকলেট, চুইংগ্রাম,ক্যান্ডি ইত্যাদি মুখের ভিতর অনেকক্ষন রাখার ফলে এক ধরনের এ্যাসিডের সূষ্টি হয়। যারা এসব খাবার বেশি খায় তাদের এনামেল ক্ষয় হয়ে দাতের গর্ত এর সূষ্টি হয়। শিশু দের এই ধরনের সমস্যা বেশি হয়। দাঁতের মধ্য গর্ত হলে তাতে ময়লা ও খাদ্য কনা জমে,ফলে পোকার আক্রমণ বাড়ে । দাঁতের গর্ত দূর করার ঘরোয়া ৫টি উপায় ঃ
  • সঠিক ভাবে প্রতিদিন ২ বেলা দাত ব্রাশ করা উচিত।
  • চিনিযুক্ত খাবার (চা,কফি) ইত্যাদি এড়িয়ে চলা উচিত।
  • নিমের মাউথ ওয়াস ব্যবহার করা। নিমে এন্টি ব্যাকটেরিয়াল উপাদান রয়েছে যা জিবানু ধ্বংস করে।
  • খাবার পর কুলি করা। সুধু ব্রাস নয়, সুতো দিয়ে দাতের ফাক পরিষ্কার করা উচিত। মাঝে মাঝে নিমের ডাল দিয়ে মেসওয়াক করা এতে দাঁত ও মাড়ি সুস্থ থাকে।
  • নরম ব্রাশ এবং আয়ুবেদিক ভেযষ উপাদানে তৈরি টুথপেষ্ট ব্যবহার করুন।

শেষ বাক্য

সুন্দর দাঁত আমাদের মুখের সৌন্দর্য আরো বাড়িয়ে তোলে। এই সুন্দর দাঁতে যত্নের অভাবে বিভিন্ন রকমের সমস্যার সৃষ্টি হয় যা আমাদের সকলের কাছেই বিরক্তি কর এবং যন্ত্রণাদায়ক। আশা করছি যে আমার এই আর্টিকেল পড়ে আপনার সমস্যার সমাধান খুঁজে পেয়েছেন আমাদের একমাত্র লক্ষ্য আপনাদের মাঝে সমস্যার সঠিক তথ্যটি তুলে ধরার। এরকম আরো সমস্যার তথ্য পেতে নিয়মিত আমার আর্টিকেল পড়ুন।


এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url