দাঁত ব্যথার কারণ - দাঁতের ব্যথা দূর করার ঘরোয়া উপায়


প্রিয় পাঠক আপনি দাঁত ব্যথার কারণ - দাঁতের ব্যথা দূর করার ঘরোয়া উপায় সম্পর্কে জানতে চাচ্ছেন। তাহলে আমার লেখা এ আর্টিকেলটি আপনার জন্য। দাঁত ব্যথার কারণ - দাঁতের ব্যথা দূর করার ঘরোয়া উপায় কিংবা শিশুদের দাঁত ব্যথা কমানোর উপায় সম্পর্কে অনেকেই জানেনা। আজকের এই আর্টিকেলটি সম্পূর্ণ পড়লে দাঁত ব্যথার কারণ - দাঁতের ব্যথা দূর করার ঘরোয়া উপায় সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে জানতে পারবেন। তাই দেরি না করে সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়তে থাকুন।
দাঁত ব্যথার কারণ - দাঁতের ব্যথা দূর করার ঘরোয়া উপায়
আশা করছি এ পোস্টটি সম্পূর্ণ পড়লে দাঁত ব্যথার কারণ - দাঁতের ব্যথা দূর করার ঘরোয়া উপায় সম্পর্কে জানতে পারবেন। আপনাদের সুবিধার্থে দাঁত ব্যথা দূর করার উপায় গুলো তুলে ধরা হয়েছে যেগুলো পড়লে আপনি উপকৃত হবেন। তাই মনোযোগ সহকারে সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ে ফেলুন।

ভূমিকা

দাঁতের ব্যথার কোন বয়স নেই। ছোট শিশু থেকে শুরু করে ৬০ বছরের বৃদ্ধেরও দাঁতে ব্যথা হতে পারে। দাঁতের যথাযথ সঠিক যত্ন ও সুরক্ষার অভাবে অনেক সময় দেখা দেয় দাঁতের সমস্যা। দাঁতের ব্যথা খুবই যন্ত্রণাদায়ক যা সহ্য করা খুবই অসহনীয়। দাঁতের ব্যথা কতটা যন্ত্রণাদায়ক তা শুধু এ রোগে ভুক্তভোগীরাই জানেন। দাঁতে ব্যাথার বিভিন্ন ধরনের কারণ হতে পারে দাঁতের গর্ত সৃষ্টি, দাঁতের এনামেল ক্ষয়, পোকার আক্রমণ সহ আরো অনেক কিছু।
দাঁতের ব্যথা থেকে মাড়িতে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা হতে পারে। দাঁতের ব্যথা প্রথমদিকে খুব বেশি না হলে পরবর্তীতে এর মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে। তাই দাঁতের ব্যথায় অবহেলা করা উচিত নয়। দাঁতের ব্যথা হলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। তবে দাঁত ব্যথার কারণ - দাঁতের ব্যথা দূর করার ঘরোয়া উপায় মেনে চললে উপকার পাবেন। আসুন তাহলে জেনে নেই সেই উপায়গুলো সম্পর্কে।

দাত ব্যথার কারণ

দাঁতের ব্যথা শব্দটির সাথে আমরা কম বেশি সবাই পরিচিত। দাঁতের ব্যথা আমাদের সবারই কম বেশি হয়ে থাকে। দাঁতের ব্যথা হওয়ার বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে। তবে দাঁতের ব্যথার কারণ গুলোর মধ্যে ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ, এনামেল ক্ষয়, স্নায়ুর ক্ষতি, দাঁতভাঙ্গা, দাঁতের গর্ত হওয়া, দাঁতের ক্ষয় ইত্যাদি। দাঁতের ব্যথায় খাবার ঠিকমত খাওয়া যায় না এবং দাঁতের ব্যথার কারণে ঘুম হয় না যার ফলে খুবই অস্বস্তিকর লাগে।
দাঁত ব্যথার কারণ - দাঁতের ব্যথা দূর করার ঘরোয়া উপায় সম্পর্কে ধারণা নেই অনেকের।এছাড়াও দাঁতের সঠিকভাবে যত্ন না নেওয়া এবং অসচেতনতার কারণেও দাঁতের ব্যথা হয়। তাই জেনে নিন দাঁত ব্যাথার কারন গুলো সম্পর্কে।
  • অতিরিক্ত জোরে জোরে দাঁত মাজার কারণে দাঁতের ব্যথা হয়। জোরে জোরে ব্রাশ করার ফলে দাঁতের এনামেল ক্ষয় হতে শুরু করে ফলে দাতের সেনসিটিভিটি দেখা দিতে পারে।
  • নিয়মিত মেসওয়াক বা ব্রাশ দিয়ে দাঁত পরিষ্কার না করার কারণে।
  • ক্যালসিয়ামের অভাবে দাঁতে ব্যথা হয়।
  • কোন দুর্ঘটনায় বা পড়ে গিয়ে দাঁতে আঘাত পেলে এ থেকে দাঁতে ব্যথা হতে পারে।
  • দাঁতের ফাঁকে ফাঁকে খাদ্য কণা জমে থাকলে দাঁত ব্যথা করে।
  • দাঁত ও মাড়ির সংক্রমণের কারণে মাড়ি ফুলে যায় এবং যার ফলে ব্যথা হয়।
  • ব্যাকটেরিয়া আক্রমণে দাঁতে পোকা তৈরি হয়। এই পোকা দাঁতের ক্ষতি করে এবং দাঁত ব্যথা হয়।
  • আক্কেল দাঁত যখন মারি ফেটে বের হয়, যার ফলে দাঁতে ব্যথা করে।
  • অনেকেরই দাঁত পিষার বদ অভ্যাস থাকে। দীর্ঘসময় দাঁত পিছলে দাঁতে ব্যথা করে।
  • স্নায়ুর ক্ষতি হতে শুরু করলে দাঁতে ব্যথা হয়।
  • মিষ্টি জাতীয় বা আঠালো খাদ্য, কোমল পানীয় পান করার কারণে দাঁতে ক্যাভিটি সৃষ্টি হতে পারে। প্রথমত অবস্থায় কম ব্যথা অনুভূতি হলেও পরবর্তী সময়ে তীব্র যন্ত্রণায় পরিণত হবে।

পোকা দাঁতের ব্যথা কমানোর উপায়

পোকা দাঁতের ব্যথা খুবই অসহনীয়। পোকা দাঁতের ব্যথা কমানোর জন্য বিভিন্ন ধরনের সমাধান খুঁজে বেড়াই। ঘরোয়া পদ্ধতিতে শুরু করে ডাক্তারের কাছে গিয়ে দাঁতের ব্যথা কমানোর চেষ্টা করি। বেশিরভাগ শিশুদের দাঁতে পোকার ব্যথা হয়ে থাকে। আমরা দাঁতের যে পোকার মতো দেখতে পায় সেগুলো হচ্ছে ক্যাভিটিস। ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ থেকেই সাধারণত ক্যাভিটিস এর উৎপত্তি হয়। দাঁতের পোকার ব্যথা কতটা যন্ত্রণাদায়ক সেটা যার হয় সেই বুঝতে পারে। তাই অবশ্যই আপনাকে জানতে হবে পোকা দাঁতের ব্যথা কমানোর উপায় সম্পর্ক । এমন কিছু উপায় রয়েছে যেগুলো আমরা মেনে চললে পোকা দাঁতের ব্যথা কমিয়ে আনা সম্ভব। তাহলে জেনে নিন পোকা দাঁতের ব্যথা কমানোর উপায় গুলো।
  • প্রথমত নিয়মিত ব্রাশ করা । সকালে এবং রাতে ঘুমানোর পূর্বে ব্রাশ করতে হবে।
  • অতিরিক্ত মিষ্টি জাতীয় খাবার কম খাওয়া উচিত। মিষ্টি জাতীয় খাবার রাত্রে খেলে অবশ্যই ঘুমানোর আগে ব্রাশ করুন।
  • দিনে ৪ থেকে ৫ বার কুলকুচি করুন। এতে দাঁতের ফাঁকে যদি কোন ছোট খাদ্য করা লেগে থাকে তাহলে ফুলকুচি করার কারণে বের হয়ে যাবে।
  • দাঁত ক্ষয় হতে ব্যাকটেরিয়া বা এসিড আরো গভীরে ঢুকে থাকে যার ফলে দাঁতে স্নায়ুশিরা ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং দাঁতে পোকার ব্যথা শুরু হয়।
  • তামাক জাতীয় পান জর্দা না খাওয়া। কারণ এর ফলে দাঁতের গোড়ায় ও মাড়িতে ইনফেকশন হয়। এতে দাঁতের পোকা হতে পারে।
  • অতিরিক্ত চকলেট জাতীয় খাবার না খাওয়া।
  • এছাড়াও পোকা দাঁতের ব্যথায় নুন ও গোলমরিচের গুঁড়ো পেস্ট তৈরি করে। পোকা দাঁতের ওপর লাগিয়ে কয়েক মিনিট রেখে দিতে হবে। লক্ষ্য করে দেখবেন ধীরে ধীরে আপনার পোকা দাঁতের ব্যথা অনেকটা কমে গেছে।
উপরে উল্লেখিত পোকা দাঁতের ব্যথা কমানোর উপায় গুলো মেনে চলে খুব সহজেই দাঁতের ব্যথা কমানো সম্ভব। তাই দাঁতের পোকা দূর করতে উপরের উপায় গুলো অনুসরণ করে চলুন এবং পোকা দাঁতের ব্যথা থেকে আরাম পাবেন।

দাঁত ব্যথা হলে করণীয়

দাঁতে ব্যথা হওয়ার মূলত কারণ দাঁতের অযত্ন এবং অসচেতনতার ফলে। দাঁতের ব্যথা সমস্যায় কম-বেশি সবাই ভুক্তভোগী। দাঁতের সমস্যার মধ্যে অন্যতম এবং যন্ত্রণাদায়ক হলো দাঁতের গোড়ায় ব্যথা করা। তাই দাঁতের ব্যথায় কোন প্রকার অবহেলা করা উচিত নয়। দাঁতের ব্যথা দেখা দিলে যত দ্রুত সম্ভব একজন ডেন্টাল চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া প্রয়োজন। দাঁতের ব্যথা হওয়ার বিভিন্ন ধরনের কারণ থাকতে পারে।


কিছু কিছু কারণ মারাত্মক হতে পারে বা দীর্ঘ সময় চিকিৎসা প্রয়োজন হতে পারে। তাই দাঁতে ব্যথায় অবহেলা না করে সঠিক চিকিৎসা করানো। আর সেজন্য চিকিৎসকের কাছে না যেতে পারলেও ঘরে থাকা উপকরণ দিয়ে কিভাবে দাঁতের ব্যথা দূর করা যায় সে সম্পর্কে আপনাদের মাঝে আলোচন করবো ।তাহলে জেনে নিন দাঁতের ব্যথা হলে করণীয় কি সে সম্পর্কে।

রসুন ও লবণ
দাঁতের ব্যথা কমাতে রসুন খুবই কার্যকরী উপাদান। কয়েকটি রসুন ছেঁচে এর সঙ্গে সামান্য পরিমাণ লবণ মিশিয়ে দাঁতে ও মাড়িতে লাগিয়ে রাখুন। রসুনে থাকা অ্যান্টিবায়োটিক ও ভেষজ ঔষধি গুন দাঁতের ব্যথা কমাতে সহায়ক।

লবঙ্গ ও অলিভ অয়েল
লবঙ্গ পিষে অথবা গুঁড়োর সাথে অলিভ অয়েল মিশিয়ে দাঁতের ব্যথার স্থানে লাগান। লবঙ্গ ব্যাকটেরিয়া ইনফেকশনের বিরুদ্ধে কাজ করে দাঁতের ব্যথা দূর করতে সাহায্য করে।

পেয়ারা পাতা
কাঁচা পেয়ারা পাতা নিয়ে চিবাতে থাকুন। পেয়ারা পাতার রস দাঁতের ব্যথা নিরাময়ে খুবই উপকারী। এছাড়াও পেয়ারা পাতা হালকা গরম পানিতে সিদ্ধ করে সামান্য লবন দিয়ে মাউথওয়াশ হিসেবে ব্যবহার করুন।

কাঁচা পেঁয়াজ
অ্যান্টিসেপটিক ও এন্টিমাইক্রোবায়াল ঔষধি গুণযুক্ত পেঁয়াজ দাঁতের ব্যথা দূর করতে সাহায্য করে। তাই দাঁতের ব্যথা হলে কাঁচা পেঁয়াজ চিবিয়ে খান। এছাড়াও পেঁয়াজ টুকরো করে কেটে দাঁতের ব্যথার স্থানে লাগিয়ে রাখুন।

লবণ পানি
হালকা কুসুম গরম পানির সাথে লবণ মিশিয়ে কুলকুচি করুন। এর ফলে দাঁতের ব্যথা কমে আসবে এবং ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ থেকে দাঁত রক্ষা পাবে।

বরফ
অনেকেই দাঁতের ব্যথা নিরাময়ে বরফের ব্যবহার জানে না। তাই দাঁতের ব্যথা দূর করতে বরফ কাপড়ে পেঁচিয়ে ব্যথার স্থানে ধরে রাখুন। কিছু সময় পর দেখবেন ধীরে ধীরে ব্যথা কমিয়ে আসবে।

দূর্বা ঘাস
দূর্বা ঘাসের রস দাঁতের ব্যথা নিরাময়ে সাহায্য করে। তাই দাঁতের ব্যথা দেখা দিলে দূর্বা ঘাসের রস ব্যাথার স্থানে লাগিয়ে রাখুন। দাঁতের স্বাস্থ্য ভালো রাখতেও দূর্বা ঘাসের রস সাহায্য করে।

শিশুদের দাঁত ব্যথা কমানোর উপায়

বড়দের মতো শিশুদের মধ্যেও দাঁতে ব্যথা সমস্যাটি লক্ষ্য করা যায়। তবে আমাদের মত প্রাপ্তবয়স্করা এই ব্যথা সহ্য করতে পারলেও শিশুদের ক্ষেত্রে অসহনীয় যন্ত্রণাদায়ক। দাঁতের ব্যথা বড়রা বুঝতে পারলেও শিশুরা কিন্তু বুঝতে পারে না। তাই শিশুরা যখন খাবার খায় বা চিবানোর সময় কান্নাকাটি করে তখনই লক্ষ্য করা যায় দাঁতের সমস্যা হয়েছে। দাঁতের ব্যথায় শিশুর পরিবার অর্থাৎ শিশুর বাবা মা অসচেতনতার কারণে হয়ে থাকে।
প্রথম অবস্থায় তেমন কোন সমস্যা না হলেও পরবর্তীতে দাঁতের সমস্যায় গুরুতর ক্ষতিকর হয়ে উঠতে পারে। তাহলে চলুন শিশুর দাঁত ব্যথায় কি করা উচিত এবং জেনে নিন শিশুদের দাঁত ব্যথা কমানোর উপায় সম্পর্কে।
  • অতিরিক্তমিষ্টি জাতীয় খাবার খাওয়ানো থেকে বিরত রাখতে হবে
  • দাঁতের ব্যথায় বেশি ঠান্ডা বা গরম খাবার খাওয়ানো যাবে না।
  • শিশুদের জন্য তাদের বয়স উপযোগী ব্রাশ ও টুথপেস্ট ব্যবহার করা।
  • আঠালো জাতীয় খাবার যেমন চকলেট,ক্যান্ডি,চুইং গ্রাম ইত্যাদি খাবার থেকে বিরত থাকতে হবে।
  • দাঁতের মাঝে জমে থাকা খাদ্য কণা ডেন্টাল ফ্লাস দিয়ে পরিষ্কার করতে হবে।
  • হালকা কুসুম গরম পানিতে সামান্য পরিমাণ লবণ মিশিয়ে কিছু সময় মুখে নিয়ে কুলি করাতে হবে এতে মুখ পরিষ্কার হওয়ার পাশাপাশি ব্যথা কমে যাবে।
  • শিশুর দাঁতের ব্যথা দেখা দিলে দ্রুত বিশেষজ্ঞ ডেন্টাল চিকিৎসককে দেখানো উচিত।
  • পরিবারের সদস্য অর্থাৎ মা-বাবার উচিত শিশুদের প্রতিদিন দাঁত পরিষ্কার করানো।

দাঁত ব্যথার লক্ষণ

দাঁত ব্যথার কিছু লক্ষণ আছে যা দেখলে আমরা সহজে বুঝতে পারি এটি দাঁত ব্যথার লক্ষণ। এছাড়াও কিছু দাঁত ব্যথার লক্ষণ রয়েছে যা দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসক দেখানো উচিত। তাই দাঁত ব্যথা করলে তীব্র কষ্ট ভোগ করতে হয়। এক্ষেত্রে সবারই উচিত দাঁতে ব্যথায় অবহেলা না করা। তাই দাঁত ব্যথার লক্ষণ গুলো সম্পর্কে সকলের জানা উচিত। আসুন তাহলে জেনে নিই দাঁত ব্যথার লক্ষণগুলো কি তা সম্পর্কে বিস্তারিত।
  • দাঁত অথবা মাড়িতে ব্যথা হওয়া।
  • চোয়ালে ব্যথা হওয়া
  • দাঁতে পুজ হওয়া।
  • দাঁত ক্ষয় হয়ে গেলে।
  • দাঁতের মাঝে খাদ্য কণা জমে থাকলে।
  • দাঁত আলগা হয়ে গেলে।
  • মাড়ির দুই পাশে ফুলে যাওয়া।
  • মুখে দুর্গন্ধ হওয়া।
  • দাঁতে পোকা লাগা।
  • দাঁতের গর্ত হলে।
  • জ্বর আসা।
  • কান ব্যথা করা।
  • মাড়ি থেকে রক্তপাত হওয়া।

দাঁতের ব্যথা দূর করার ঘরোয়া উপায়

ছোট থেকে বড় সকলেই কখনো না কখনো দাঁতে ব্যথায় ভুগে থাকি। শুধু দাঁতের ব্যথায় নয় দাঁতের সঙ্গে মাড়ির ব্যথা ও ফুলে যায়। এর ফলে আমাদের দাঁতে তীব্র যন্ত্রণা সৃষ্টি হয়। দাঁতের সঙ্গে যদি মাড়ি ফুলে যায় তাহলে ডেন্টিসদের মতে এটা জিঞ্জিভাইটিস ধরনের রোগ। ডেন্টিসদের মত অনুযায়ী জিঞ্জি ভাইটিস এ রোগের বেশ কিছু লক্ষণ রয়েছে। যেমন দাঁত নড়ে যাওয়া বা মাড়ি লাল হয়ে ফুলে যাওয়া। মাড়ি থেকে রক্তপাত ও পুজ বের হওয়া।

দাঁতের মাড়িতে প্রচন্ড ব্যথা অনুভূতি হওয়া। এছাড়াও ঠান্ডা বা গরম খাবার খেলে দাঁতের শিরশির অনুভব হবে। তবে এতে চিন্তার কিছু নেই। কারণ ঘরোয়া উপায়ে সহজে দাঁতের ব্যথা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। দাঁত ব্যথার কারণ - দাঁতের ব্যথা দূর করার ঘরোয়া উপায় সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। তাই দাঁতের ব্যথা দূর করার ঘরোয়া উপায় গুলো নিচে আলোচনা করলাম।

গোলমরিচ ও লবণ
গোলমরিচের সঙ্গে লবণ মিশিয়ে নিয়মিত ব্যবহার করলে দাঁতের ব্যথা কমতে অনেকটা সহায়তা করে। এ দুটি উপাদানের মধ্যে আছে ব্যাকটেরিয়া বিরোধী প্রদাহ রোধী, ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট গুনাগুন।
  • এক চামচ গোল মরিচ ও লবণ নিন। এর মধ্যে সামান্য পানি দিয়ে ঘন পেস্ট তৈরি করুন।
  • আক্রান্ত দাঁতে এই পেস্ট লাগান এবং কিছু সময় অপেক্ষা করুন।
  • নিয়মিত সপ্তাহে অন্তত তিন থেকে চার দিন এই পদ্ধতি ব্যবহার করুন।
রসুন
রসুন দাঁতের ব্যথা কমাতে খুবই ভালো উপাদান। রসুনে অ্যান্টিবায়োটিক, অ্যান্টিব্যাকটিরিয়াল উপাদান রয়েছে যা ব্যথা কমাতে কার্যকর।
  • রসুনের পেস্ট অথবা রসুনের কোয়া থেতলে নিন। এর মধ্যে এক চামচ পরিমাণ লবণ মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করে নিন।
  • দাঁতে এবং দাঁতের গোড়ায় এই মিশ্রণটি সরাসরি লাগান। এর ফলে ব্যথাটা কমে যাবে। এছাড়া আপনি চাইলে কয়েকটি রসুনের কোয়া চিবাতে পারেন।
  • কিছুদিন এই পদ্ধতি অনুসরণ করলে ভালো ফলাফল পাবেন।
গরম পানি ও লবণ
কুসুম গরম পানির সঙ্গে লবণ মেশান। এই কুসুম গরম পানি দিয়ে গার্গল বা কুলকুচি করুন। এর ফলে ফোলা ও ব্যথা খুব সহজেই কমে যাবে। এবং মুখের ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করতে সাহায্য করে।

লবঙ্গ তেল
লবঙ্গ তেল ব্যথা নিরাময় করার জন্য দারুণ উপকারী। দাঁতের ব্যথায় তুলোর সঙ্গে লবঙ্গ তেল নিয়ে ব্যথার স্থানে লাগিয়ে দিন। কিছু সময় পর দেখবেন ধীরে ধীরে যন্ত্রণা কমে আসবে।

পেঁয়াজ
পেঁয়াজে অ্যান্টিসেপটিক উপাদান দাঁতের জীবাণু ধ্বংস করে দাঁতের ব্যথা নিরাময় করে। পেঁয়াজের টুকরা থেতলিয়ে আক্রান্ত দাঁতের স্থানে লাগিয়ে রাখুন। এছাড়াও যদি কাঁচা পেঁয়াজ চিবাতে পারেন তাহলে কিছু সময় এক টুকরো পেঁয়াজ কেটে নিয়ে আক্রান্ত জায়গায় চিবাতে থাকুন, দেখবেন ব্যথা অনেকটা কমে যাবে।

পেয়ারা পাতা
দাঁতের ব্যথা নিরাময় অন্যতম উপায় পেয়ারা পাতা। কয়েকটি কচি পেয়ারা পাতা পরিষ্কার করে ধুয়ে চিবোতে থাকুন। যতক্ষণ পর্যন্ত সেটি দাঁতের ব্যথায় কাজ শুরু না করে। এছাড়াও পেয়ারা পাতা পানিতে দিয়ে সিদ্ধ করে ঠান্ডা করে নিয়ে ওই পানি দিয়ে গার্গল বা কুলকুচি করুন

শেষ কথা

দাঁতের ব্যথা যেমন বিরক্তিকর ঠিক তেমনি কষ্টকর। আশা করি যে আমার এই দাঁত ব্যথার কারণ - দাঁতের ব্যথা দূর করার ঘরোয়া উপায় আর্টিকেলটি পড়ে আপনারা আপনাদের সমস্যার সমাধান খুঁজে পেয়েছেন। উপরোক্ত আলোচনায় দাঁত ব্যথার কারণ - দাঁতের ব্যথা দূর করার ঘরোয়া উপায়, শিশুদের দাঁত ব্যথা কমানোর উপায় সহ বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। তাই সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি মনোযোগ সহকারে পড়ে আপনি উপকৃত হবেন।

এ আর্টিকেলটি পরে যদি আপনার ভালো লেগে থাকে তাহলে অবশ্যই বন্ধুদের সঙ্গে শেয়ার করবেন। এরকম আরো প্রয়োজনীয় মূলক তথ্য পেতে নিয়মিত আমার লেখা আর্টিকেল পড়ুন। সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ার জন্য অনেক অনেক ধন্যবাদ।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url