চুল পড়া বন্ধ করার সেরা ঘরোয়া উপায়

 

প্রিয় পাঠক বর্তমানে চুল পড়ার সমস্যা নিয়ে ভুক্তভোগী নয় এমন মানুষের সংখ্যা খুবই কম। তবে চুল পড়া বন্ধ করার সেরা ঘরোয়া উপায় নিয়ে অনেকে জানে না। অথবা চুল দ্রুত লম্বা ও ঘন করার ঘরোয়া উপায় এ বিষয়েও অনেকের তেমন ধারণা নেই। আজকের এই আর্টিকেলটিতে চুল পড়া বন্ধ করার সেরা ঘরোয়া উপায় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছি।

চুল পড়া বন্ধ করার সেরা ঘরোয়া উপায়
আজকের এই আর্টিকেলে আলোচনা করব চুল পড়া বন্ধ করার সেরা ঘরোয়া উপায়। আশা করছি, সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ে আপনি আপনার চুল পড়া বন্ধ করার সেরা ঘরোয়া উপায়ে সমস্যার সমাধান পাবেন। আপনাদের সুবিধার জন্য বিশেষ কিছু টিপস নিয়ে আজকের এই আর্টিকেল লিখেছি।

ভূমিকা

স্বাস্থ্যসম্মত চুল দেহের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে। প্রতিদিন ৫০ থেকে ১০০ টা চুল পড়ে যাওয়া স্বাভাবিক। কিন্তু এর থেকে অতিরিক্ত মাত্রায় পড়তে শুরু করলে সেটা চিন্তার বিষয়। যত দ্রুত সম্ভব প্রয়োজন ব্যবস্থা না নিলে একসময় কিন্তু মাথা ফাঁকা হয়ে যেতে সময় লাগবে না। চুল পড়া বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে। যেমন-পরিবেশ দূষণ,বয়স, মানসিক চাপ, পুষ্টির অভাব, জেনেটিক কারন, স্কাল্প ইনফেকশ, অতিরিক্ত মাত্রায় হেয়ার প্রোডাক্ট ব্যবহার, বিভিন্ন ধরনের অ্যান্টিবায়োটিক ঔষধের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া থাইরয়েড প্রভৃতি সমস্যা কারণে চুল পড়ে।

চুল পড়া বন্ধ করার সেরা ঘরোয়া উপায়

নারী পুরুষ সকলেই চুল পড়ার সমস্যা নিয়ে ভোগেন। মাত্রা অতিরিক্ত চুল পড়ে যাওয়া সত্যিই চিন্তার বিষয়। আর অতিরিক্ত চুল পড়তে থাকলে অনেকের মাথায় টাক পড়ে যায়। ঘরোয়া কিছু পদ্ধতি ব্যবহার করে চুল পড়া বন্ধ করা যায়। আমাদের চুল ক্যারোটিন নামক একরকম প্রোটিন দিয়ে তৈরি যার ৯৭ % প্রোটিন এবং ৩ % পানি রয়েছে। আমরা চুলের যে অংশটুকু দেখতে পায় সেটি মৃত কোষ। চুল পড়া বন্ধ করার আগে জানতে হবে চুল পড়ার কারণ। তাহলে জেনে নিন চুল পড়া বন্ধ করার সেরা ঘরোয়া উপায়।

নিম পাতার রস
নিম পাতা রূপচর্চার পাশাপাশি চুলের যত্নে অন্যতম উপাদান হিসেবে প্রাচীন যুগ থেকে নিম পাতার ব্যবহার হয়ে আসছে। নিম পাতায় আয়ুর্বেদিক গুণ রয়েছে। চুলের বৃদ্ধিতে নিম পাতা দারুন উপকারী। নিম পাতায় উচ্চ মাত্রায় ফ্যাটি অ্যাসিড রয়েছে যা মাথার স্কাল্পের এর জন্য খুবই প্রয়োজন। স্কাল্পের অতিরিক্ত তেল উৎপাদন বন্ধ করে দেয় এবং চুলের গোড়া শক্ত ও মজবুত করতে সাহায্য করে। নিয়মিত নিম পাতার রস ব্যবহারে মাথায় খুশকির সমস্যা দূর হয়।
১০ থেকে ১৫ টা নিমপাতা নিয়ে সেগুলো পেস্ট করে নিন। নিম পাতার এই মিশ্রণের সঙ্গে অলিভ অয়েল আমন্ড অয়েল বা নারকেল তেল মিশিয়ে নিন। হালকা গরম করে নিয়ে মাথায় মাসাজ করুন। ১৫ থেকে ২০ মিনিট রেখে দিয়ে শ্যাম্পু করে ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে তিন থেকে চার দিন ব্যবহার করলে ভালো ফলাফল পাবেন।

পেঁয়াজের রস
পেঁয়াজের রস নতুন চুল গজাতে সাহায্য করে। আপনিও আপনার চুলে পেঁয়াজের রস ব্যবহার করতে পারেন। এছাড়া মাথায় কোন ইনফেকশন দূর করতে পেঁয়াজের রস খুবই কার্যকরী। কারণ পেঁয়াজের রসে রয়েছে অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়াল এবং এন্টিফাঙ্গাল উপাদান। পেঁয়াজের রস চুল ঘন করতে এবং চুল পড়া বন্ধ করতে দারুন সাহায্য করে।পেঁয়াজ থেকে রস বের করে নিন।

এই পেঁয়াজের রস আপনি সরাসরি আপনার চুলে, স্কাল্পে লাগাতে পারেন।চুলের ডগা তেও লাগাতে ভুলবেন না। পেঁয়াজের রস স্কাল্পে লাগিয়ে কিছু সময় হালকা মাসাজ করুন। ৩০ মিনিট রেখে শ্যাম্পু করে ধুয়ে ফেলুন। পেঁয়াজের রস ব্যবহারে এক মাসের মধ্যেই আপনি পরিবর্তন লক্ষ্য করতে পারবেন।

মেথি
চুলের গোড়া মজবুত করতে মেথি অনেক উপকারী। সারারাত মেথি ভিজিয়ে রাখুন। পরের দিন সকালে মেথি পেস্ট করে নিন। সম্পূর্ণ চুলে মেথির প্যাক লাগাতে পারেন। মেথির সঙ্গে টকদই, লেবু ও মেহেদি পাতা মিশিয়ে ব্যবহার করতে পারেন। ২০ থেকে ২৫ মিনিট অপেক্ষা করুন শুকিয়ে গেলে শ্যাম্পু দিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে ফেলুন। ভালো ফলাফলের জন্য সপ্তাহে দুই থেকে তিন দিন ব্যবহার করুন।

এলোভেরা জেল
চুলের যত্নে অ্যালোভেরা অনেক গুরুত্বপূর্ণ। ত্বকের যত্নের পাশাপাশি চুলে ও এলোভেরা জেল ব্যবহার করা হয়। অ্যালোভেরা জেল সরাসরি চুলে লাগাতে পারেন। চুলে লাগিয়ে হালকা করে মেসেজ করুন। এলোভেরা জেল এর সাথে অলিভ অয়েল বা নারকেল তেল ব্যবহার করতে পারেন। সপ্তাহে দুইবার ব্যবহার করলে চুল পড়া বন্ধ হবে এবং চুলের স্বাস্থ্য ঠিক থাকবে।

আলুর রস
চুলের সমস্যায় ব্যবহার করতে পারেন আলোর রসের হেয়ার প্যাক। চুল পড়া বন্ধ করতে আলোর রস ভালো কাজ করে। আলুর রসের সঙ্গে পেঁয়াজের রস কিংবা নারিকেল তেল মিশিয়ে চুলের গোড়ায় ব্যবহার করুন। ১৫ থেকে ২০ মিনিট মাথায় দিয়ে অপেক্ষা করুন শুকিয়ে গেলে শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। নিয়মিত ব্যবহারের ফলে চুল পড়া কমবে চুল দ্রুত লম্বা হবে এর পাশাপাশি চুল ঝলমলেও মজবুত হবে।

চুল দ্রুত লম্বা ও ঘন করার ঘরোয়া উপায়

বাঙালী নারীদের কাছে লম্বা চুলের জন্য আলাদা একটা গুরুত্ব রয়েছে। নারীদের সৌন্দর্যের চুলের অবদান অনস্বীকার্য। লম্বা ও ঘন কালো চুল অনেকেরই পছন্দ। চুল ভালোবাসে না এমন মানুষের সংখ্যা খুবই কম। চুল লম্বা হচ্ছে না, অতিরিক্ত হারে চুল পড়ে যাচ্ছে। আজকাল এই ধরনের অভিযোগ অনেকেরই রয়েছে। বর্তমানে আধুনিক জীবনযাত্রা এত দূষণ, মানসিক চাপ, পুষ্টির অভাব এর মাঝে চুল পড়ার সমস্যা তোর স্বাভাবিক।আপনার ও যদি এই ধরনের সমস্যা হয়ে থাকে তাহলে কয়েকটি ঘরোয়া উপায়ে প্রাকৃতিক উপাদান ব্যবহারের মাধ্যমে দ্রুত চুল লম্বা এবং ঘন করতে পারবেন।
  • পেঁয়াজের রস চুলের জন্য খুবই কার্যকারী উপাদান। পেয়াজে থাকা পুষ্টিগুণ চুল দ্রুত লম্বা ও ঘন করতে সাহায্য করে। পেঁয়াজের রসের সঙ্গে লেবুর রস নারকেল তেল একসাথে মিশ্রণ করে চুলে ব্যবহার করুন। ১৫ থেকে ২০ মিনিট রেখে শুকিয়ে গেলে শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।
  • চুলের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে ও নতুন চুল গজাতে ডিম খুবই উপকারী। সপ্তাহে দুই থেকে তিন দিন চুলে ডিম ব্যবহার করুন।
  • চালের পানি চুলের যত্নে দারুন কার্যকারী উপাদান। দুই থেকে তিন ঘন্টা চাল ভিজিয়ে রেখে সেই পানি একটা স্প্রে বোতলে করে চুলে ব্যবহার করুন। নিয়মিত ব্যবহার করলে আপনার চুল ঘন ও দ্রুত লম্বা হবে।
  • মেথি চুল পড়া বন্ধ করতে এবং চুলের গোড়া শক্ত করতে সাহায্য করে। পাঁচ থেকে সাত ঘন্টা ভিজিয়ে রেখে পেস্ট তৈরি করে চুলে ব্যবহার করুন। ভালো ফলাফলের জন্য সপ্তাহে তিন থেকে চার দিন ব্যবহার করুন।
  • চুলের যত্নে ক্যাস্টর অয়েল অনেক উপকারী। বিশেষ করে নতুন চুল গজাতে সাহায্য করে। নিয়মিত ক্যাস্টর অয়েল ব্যবহার করলে চুল ঘন ও দ্রুত লম্বা হবে।
  • মেহেদি পাতা চুলের যত্নে বহুকাল ধরে ব্যবহার হয়ে আসছে। মেহেদী পাতা চুলের গোড়া শক্ত মজবুত করতে সাহায্য করে। এছাড়াও চুলকে ঘন কালো ও ঝলমল করতে দারুন উপকারি। মেহেদি পাতার পেস্টের সাথে পেঁয়াজ, এলোভেরা, লেবুর রস, ডিম মিশিয়ে ব্যবহার করতে পারেন। সপ্তাহে দুই থেকে তিন দিন ব্যবহার করে দেখুন। পরিবর্তনটা আপনি নিজে দেখতে পারবেন
  • সালফেট মুক্ত শ্যাম্পু ব্যবহার করার চেষ্টা করুন। এতে চুলের স্বাস্থ্য ভালো থাকবে। অতিরিক্ত কেমিক্যালযুক্ত শ্যাম্পু ব্যবহার করার ফলে অনেক সময় অতিরিক্ত হাড়ে চুল পরতে থাকে।
  • চুলে অতিরিক তাপ প্রয়োগ করা থেকে বিরত থাকুন। এতে চুলের স্বাভাবিক গ্রোথ বৃদ্ধি পায় না।
  • নিয়মিত চুল আঁচরাতে হবে। এর পাশাপাশি চুল পরিষ্কার রাখুন।
  • সপ্তাহে নিয়মিত তিন থেকে চার দিন চুলে তেল ব্যবহার করুন। কারন চুলের খাদ্য তেল। চুল দ্রুত ঘন ও লম্বা করতে করতে তেল ব্যবহার করুন।

চুল পড়া বন্ধ করার তেলের নাম

বাজারে বিভিন্ন ধরনের চুল পড়া বন্ধ করার তেল পাওয়া যায়। এর ফলে চুলের জন্য ভালো তেল কোনটা এটা বুঝে ওঠা খুবই কষ্টকর। তাই আজ আমি আপনার চুলের জন্য বাজারের সেরা কিছু তেলের নাম এর তালিকা তৈরি করে দিলাম যার দ্বারা আপনি উপকৃত হবেন।
  • নারকেল তেল
  • ক্যাস্টর অয়েল
  • রোজমেরী তেল
  • অলিভ অয়েল
  • অর্গানিক তেল
  • জোজবা তেল
  • বাদাম তেল
  • আমলা তেল
  • পেঁয়াজ তেল
  • কালোজিরা তেল
  • তিলের তেল
  • কদুর তেল
আপনি আপনার চুলে এই তেল গুলো আলাদা আলাদা ব্যবহার করতে পারেন।আবার একসাথে কয়েকটি মিশিয়ে মিশ্রণ তৈরি করে ব্যবহার করতে পারেন। এই তেলটি সরাসরি আপনার মাথার ত্বকে লাগান এবং হালকা মাসাজ করুন। ৩০ মিনিট রেখে শ্যাম্পু করে ধুয়ে ফেলতে পারেন। এছাড়া ভালো ফলাফলের জন্য সারারাত রেখে দিন। আপনার চুলের যত্নে উপরোক্ত তেলগুলো নিয়মিত ব্যবহার করা ভালো।
উপরোক্ত তেলগুলো আপনার চুল পড়া রোধ করতে সাহায্য করতে পারে। চুল পড়ার বিভিন্ন ধরনের কারণ থাকতে পারে যেমন জিনগত সমস্যা, হরমোনের পরিবর্তন, পুষ্টির ঘাটতি, ঔষধের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া ইত্যাদি। আপনার যদি অতিরিক্ত চুল পড়ে তাহলে আপনি দ্রুত ডাক্তার বা চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ সাথে পরামর্শ করা উত্তম।

চুল পড়া বন্ধ করার ঘরোয়া প্যাক

আপনি কি চুল পড়ে যাওয়া সমস্যায় ভুগছেন। বিভিন্ন ধরনের হেয়ার প্রোডাক্ট ব্যবহার করেও চুল পড়া কমছে না। তাহলে আজকের এই ঘরোয়া কিছু উপায় খুব সহজে কমিয়ে ফেলতে পারেন আপনার চুল পড়া সমস্যা। জেনে নিন চুল পড়া বন্ধ করার সেরা ঘরোয়া উপায় কিছু প্যাক সম্পর্কে।

মেথি
চুল পরা বন্ধে মেথি অনেক উপকারী। মেথিকে দুই ভাবে ব্যবহার করতে পারবেন। সারারাত ভিজিয়ে রেখে মেথি পেস্ট করে চুলে ব্যবহার করতে পারবেন। এছাড়া নারকেল তেলের সঙ্গে মেথি কয়েক মিনিট ফুটিয়ে নিন। ঠান্ডা করে মাথার ত্বকে ব্যবহার করুন।

এলোভেরা জেল
সপ্তাহে তিন থেকে চার দিন অ্যালোভেরা জেল চুলে লাগান। অ্যালোভেরা পাতা থেকে জেল বের করে চুলের আগা থেকে গোড়া পর্যন্ত লাগিয়ে রাখুন। ১৫ থেকে ২০ মিনিট রেখে ভেষজ শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

পেঁয়াজের রস
চুল পড়া বন্ধ করতে পেঁয়াজের রস দারুন উপকারি। পেঁয়াজের রস চুলের গোড়ায় সরাসরি লাগান। পেঁয়াজের ঝাঁঝালো গন্ধ দূর করতে চাইলে কিছুটা নারিকেল তেল ব্যবহার করতে পারেন। ২০ থেকে ২৫ মিনিট রেখে ভেষজ শ্যাম্পু দিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে দুই দিন ব্যবহার করলেই আপনি পরিবর্তন লক্ষ্য করতে পারবেন।
মেহেদি পাতা ও ডিম
মেহেদি পাতা চুলের যত্নে অনেক গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। যা বহু বছর ধরে চুলের যত্নে ব্যবহার হয়ে আসছে। মেহেদি পাতা ও ডিম একসাথে পেস্ট তৈরি করে চুলে আগা থেকে গোড়া পর্যন্ত লাগান। শুকিয়ে যাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করুন এবং ভেষজ শ্যাম্পু দিয়ে ভালো করে ধুয়ে ফেলুন।

তেল মাসাজ
চুল পড়া বন্ধ করতে নিয়মিত তেল মাসাজ করা জরুরী। চুলে তেল ব্যবহার না করলে চুলের উজ্জ্বলতা হয়ে যায় এবং চুলের গোড়া নরম হয়ে যায়। নিয়মিত চুলে তেল ব্যবহার করার ফলে চুলের গোড়া মজবুত হয় এবং স্বাভাবিক চুল পড়া কমে যায়। চুলের যত্নে নারকেল তেল,বাদাম তেল,অলিভ অয়েল অথবা আমলার তেল ব্যবহার করতে পারেন।

আমলকি 
চুল পড়া বন্ধ করার পাশাপাশি চুলের বৃদ্ধিতে আমলকি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। আমলকিতে ভিটামিন সি রয়েছে যা চুলের পুষ্টির পাশাপাশি মাথার ত্বকের স্বাস্থ্যের উন্নতি করে। এর ফলে চুল পড়া কম হয়। শরীরে ভিটামিন সি অভাব হলে চুল পড়া বেড়ে যায়। আমলকির সাথে লেবুর রস মিশিয়ে মিশ্রণ তৈরি করে সারারাত চুলে লাগিয়ে রাখুন। পরের দিন সকালে শ্যাম্পু দিয়ে ভালোভাবে পরিষ্কার করে ধুয়ে ফেলুন।

চুল পড়া বন্ধ করার শ্যাম্পুর নাম

নিত্যদিনের প্রয়োজনীয় প্রসাধনীর মধ্যে অন্যতম হলো শ্যাম্পু। শ্যাম্পু ব্যবহার করার আগে শ্যাম্পুর সম্পর্কে জেনে না খুবই জরুরী। আপনি আপনার ত্বক ও চুল অনুযায়ী সঠিক শ্যাম্পু ব্যবহার না করলে আপনার ত্বক ও চুলের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। সকলের জন্য সব ধরনের শ্যাম্পু সেট খায় না। নিচে শ্যাম্পু নাম তুলে ধরা হলো যেগুলো ব্র্যান্ডের এবং উন্নত মানের।
  • Sunsilk Hair Shampoo
  • Tresemme Shampoo
  • Dove Hair Shampoo
  • Himaliya Anti Hairfall Shampoo
  • Parachute Naturale Shampoo Anti Hair Fall
  • Pantene Advanced Hairfall Solution Shampoo
  • SESA Onion Herbal Shampoo
উপরোক্ত বর্ণিত শ্যাম্পু গুলো ব্যবহার করতে পারেন। আশা করছি, উপরে উল্লেখিত শ্যাম্পু করলে ব্যবহার করে আপনি উপকৃত হতে পারবেন।

কোন ভিটামিনের অভাবে চুল পড়ে যায়

সুষম খাদ্য তালিকা ভিটামিন খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি উপাদান। আমাদের চুল ত্বক নখের স্বাভাবিক গঠন বজায় রাখতে ভিটামিন অনেক বড় ভূমিকা রাখে। ভিটামিন ডি এ আমাদের চুলের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সাহায্য করে। শরীরে ভিটামিন ডি এর অভাব হলে চুল পড়া সমস্যা বাড়ে। আপনার খাদ্য তালিকায় নজর দেওয়া উচিত যে প্রতিদিনের খাবারে আপনি প্রোটিন ও ভিটামিন জাতীয় খাবার খাচ্ছেন কিনা। জেনে নিন কোন ভিটামিন ও প্রোটিনের অভাবে চুল পড়ে যায়।

আয়রন
শরীর ভালো রাখার জন্য প্রচুর পরিমাণে আয়রন দরকার। শরীরে আয়রনের ঘাটতি দেখা দিলেই চুল ও ত্বকের সমস্যা হয়। এছাড়াও চোখের চারপাশে কালো দাগ পড়ে যেতে পারে অর্থাৎ ডার্ক সার্কল। রক্তে আয়নের পরিমাণ কমে গেলে দেহের বিভিন্ন ধরনের সমস্যা দেখা দেয়। আয়রন অভাবে চুল পড়ার সমস্যা বাড়াতে পারে।

ভিটামিন সি
আমাদের ত্বক ও চুলের যত্নের ভিটামিন সি খুবই প্রয়োজন। ভিটামিন সি সিরাম ত্বক ভালো রাখতে সাহায্য করে । আপনার চুলের জন্য ভিটামিন সি প্রয়োজনীয়। বিভিন্ন ধরনের টক জাতীয় ফল থেকে আপনি ভিটামিন সি পাবেন। তাই ত্বক ও চুল ভালো রাখতে নিয়মিত ভিটামিন সি জাতীয় খাবার খান।
ভিটামিন ডি
ভিটামিন ডি হাড়ের স্বাস্থ্য ভালো রাখার পাশাপাশি চুল ভালো রাখার জন্য খুবই প্রয়োজন। ভিটামিন ডি এর ঘাটতির কারণে হাড় দুর্বল হয়ে পড়ে। এর ফলে চুল পড়ার সমস্যা বাড়তে থাকে। ভিটামিন ডি এর প্রধান উৎস সূর্যের আলো। আপনি যদি হাড়ের ব্যথা অনুভব করেন বা অতিরিক্ত পরিমাণে চুল ওঠে তাহলে অবশ্যই আপনি ভিটামিন ডি পরীক্ষা করুন। ভিটামিন ডি এর অভাব থাকলে আপনি চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

ভিটামিন ই
অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ ভিটামিন ই চুলের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সাহায্য করে। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে যারা কমপক্ষে ছয় মাসের বেশি ভিটামিন ই খান তাদের চুল পড়া ৩৫ শতাংশ কমে যায়। পালং শাক, কাঠ বাদাম, ভেষজ তেল,ভিটামিন ই ক্যাপসুল গ্রহণ করার ফলে চুল পড়া কমে যায় এবং দ্রুত লম্বা হতে সাহায্য করে।

চুল পড়া বন্ধের ঔষধের নাম

চুল পড়া বন্ধ করতে আপনি ব্যবহার করতে পারেন মিনোক্সিডিল যা চুল পড়া কমাতে খুবই কার্যকর। এছাড়াও মিনোক্সিডিল নতুন চুল গজাতে ও অকালের চুল ঝরে পড়া রোধ করতে সাহায্য করে। এজন্য অধিকাংশ ছেলে ও মেয়েরা এই ওষুধটি ব্যবহার কর করছে নিয়মিত। এই ঔষধটি ডাক্তারি গবেষণা দ্বারা প্রমাণিত। যার ফলে মিনোক্সিডিল ঔষধ ব্যবহারে কোন পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া নেই। ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী মিনোক্সিডিল ঔষধটি ব্যবহার করুন।

পরামর্শমূলক টিপস

  • অতিরিক্ত হেয়ার ড্রাইয়ার ব্যবহার বন্ধ করুন এবং হিট লাগানোর আগে চলে হিট প্রোডাক্ট ব্যবহার করুন।
  • বেশি সময় ধরে ভেজা চুল টাওয়াল দিয়ে প্যাঁচানো থেকে বিরত থাকুন
  • প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় সুষম ও ভিটামিন সমৃদ্ধ খাবার রাখুন
  • অতিরিক্ত কেমিক্যাল যুক্ত শ্যাম্পু ব্যবহার বন্ধ করুন। হারবাল ভেষজ শ্যাম্পু ব্যবহার করুন।
নিয়মিত চুলের যত্ন রাখুন। সপ্তাহে দুই থেকে তিন দিন শ্যাম্পু করুন। গোসলের পর ভেজা চুল কখনোই আচড়ানো উচিত নয়। চুলের যত্নে পুষ্টিকর খাবার খাওয়ার অভ্যাস করুন নিয়মিত। আশা করছি, আজকের আর্টিকেলে আপনি আপনার চুল পড়ার সমস্যা সমাধান খুঁজে পাবেন। উপরোক্ত আর্টিকেলে চুলের সকল সমস্যা নিয়ে আলোচনা করেছি। আমি চেষ্টা করেছি আপনাদের মাঝে চুল পড়া বন্ধ করার সেরা ঘরোয়া উপায়ে সমস্যার সমাধানের তথ্য দেওয়ার। ধন্যবাদ সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ার জন্য।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url