চিরতরে ব্রণ ও ব্রণের দাগ দূর করার সহজ ঘরোয়া উপায়

 

প্রিয় পাঠক, আপনি কি আপনার মুখের ব্রণ ও ব্রণের দাগের সমস্যা নিয়ে চিন্তিত? কিন্তু চিরতরে ব্রণ ও ব্রণের দাগ দূর করার সহজ ঘরোয়া উপায় সম্পর্কে ধারণা নেই। কিংবা তৈলাক্ত ত্বকের ব্রণ দূর করার উপায় জানেন না। আজকের এই আর্টিকেল চিরতরে ব্রণ ও ব্রণের দাগ দূর করার সহজ ঘরোয়া উপায় সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেছি। তাহলে এখন আর্টিকেলটি পড়ে ফেলুন।
চিরতরে ব্রণ ও ব্রণের দাগ দূর করার সহজ ঘরোয়া উপায়
মুখের ব্রণ নিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকে না এমন মানুষের সংখ্যা খুবই কম। কারণ মুখে ব্রণ ও ব্রণের দাগ সৌন্দর্য নষ্ট করে দেয়। তাই চিরতরে ব্রণ ও ব্রণের দাগ দূর করার সহজ ঘরোয়া উপায় জানতে পুরো আর্টিকেলটি পড়ুন।

ভূমিকা

মুখের ত্বকের অস্বস্তিকর সমস্যা ব্রণ ও ব্রণের দাগ। বর্তমান সময়ে রূপচর্চায় একটি আতঙ্কের নাম ব্রণ ও ব্রণের দাগ। সব বয়সের নারী ও পুরুষের ব্রণ ও ব্রণের দাগ নিয়ে চিন্তায় থাকে। চিরতরে ব্রণ ও ব্রণের দাগ দূর করার সহজ ঘরোয়া উপায় আপনি এ সমস্যা থেকে মুক্তি পাবেন। মুখের ত্বকের উজ্জ্বলতা ও সৌন্দর্য নষ্ট করে দেয় ব্রণ। ব্রণ শুধু মুখে নয় দেহের বিভিন্ন স্থানে ব্রণ হতে পারে এবং ব্রণ হওয়ার বিভিন্ন কারণ রয়েছে।
আমাদের ত্বকের তেলগন্থি ব্যাকটেরিয়া দ্বারা আক্রান্ত হলে তখন ব্রণের সমস্যা বৃদ্ধি পায়। সাধারণত তরুণ - তরুণীরা ব্রণ ও ব্রণের দাগ নিয়ে বেশি ভোগে। ব্রণ থেকে বাঁচতে কিছু উপায় অবলম্বন করলে এর সমস্যা সমাধান পাওয়া যায়।

মুখে ব্রণ হওয়ার কারণ

ত্বকের শত্রু হলো ব্রণ।বয়সন্ধি কালের শুরু থেকে ছেলে ও মেয়েদের ত্বকে ব্রণ এর সমস্যা দেখা দেয়। এ সময় ছেলে ও মেয়েদের শারীরিক ও মানসিক বিভিন্ন পরিবর্তন হওয়ার কারণে ব্রণ দেখা দেয়। বিভিন্ন কারণে মুখে ব্রণের সমস্যা দেখা দেয়। মুখে অতিরিক্ত প্রসাধনী ব্যবহার, বংশগত কিংবা পরিবেশগত কারণে ব্রণ হয়ে থাকে। ব্রণের জন্য মূলত Propinoibacterium acne নামের ব্যাকটেরিয়া দায়ী। আমাদের ত্বকের নিচে তেল গ্রন্থি থাকে।

বেশি কাজের জন্য এবং এর সাথে ঘর্মগ্রন্থী বড় হয়ে যাওয়ার কারণে এ সমস্যার সৃষ্টি হয়। পানি কম খাওয়া, অতিরিক্ত রাত জাগা, অতি ক্ষার যুক্ত প্রসাধনী ব্যবহার করা, শাকসবজি ভিটামিন সবৃদ্ধ খাবার কম খাওয়া ইত্যাদি কারণে মুখে ব্রণ হয়। তেল গ্রন্থি ও ঘর্মগন্থির অস্বাভাবিকতার জন্য শরীরে এন্ডোজেন হরমোন দায়ী। গবেষণায় দেখা গেছে, ৮0 শতাংশ তরুন-তরুণী ব্রণের সমস্যায় বেশি ভোগে।

তৈলাক্ত ত্বকের ব্রণ দূর করার উপায়

ব্রণ তৈলাক্ত ত্বকের অধিকারের নারী ও পুরুষের জন্য সবচেয়ে ভয়াবহ সমস্যা যা প্রতিনিয়ত লেগেই থাকে।গ্রীষ্ম,বর্ষা যে কোন ঋতুর প্রভাবে প্রায় সারা বছর ব্রণ লেগেই থাকে। তৈলাক্ত ত্বকের ব্রণ খুবই জটিল সমস্যা । যাদের খুব বেশি তৈলাক্ত ত্বক তারা নানা সমস্যায় ভোগেন। তৈলাক্ত ত্বকে খুব সহজে ধুলাবাল আটকে গিয়ে নানা সমস্যা দেখা দেয় এবং অতিরিক্ত তেল মুখের লোমকূপ কে বন্ধ করে দেয়। এর ফলে ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ বেড়ে যায় ও ব্রণ হওয়ার প্রকোপ বেড়ে যায়।
তৈলাক্ত তো ত্বকে ব্রণ হলে সারিয়ে তোলা খুব জটিল হয়ে পড়ে। বিভিন্ন কারণে ব্রণের সমস্যা দেখা দিতে পারে, ত্বকের যত্নের অভাব ঘুম কম হওয়া, খাদ্যাভাসে অনিয়ম,পানি কম পান করা, বয়ঃসন্ধি জনিত কারণে, শাক-সবজি বা ভিটামিন জাতীয় খাবার কম খাওয়া ইত্যাদি কারণে ব্রণের সমস্যা হতে পারে। ঘরোয়া কিছু পদ্ধতি অবলম্বন করে তৈলাক্ত ত্বকে ব্রণ দূর করা যায়।

মুখ ধোয়া
দিনে ২ থেকে ৩ বার তৈলাক্ত মুখ ধোয়া উচিত। অতিরিক্ত ক্ষারীয় সাবান ব্যবহার থেকে বিরত থাকা। মৃদু বা গ্লিসারিন সমৃদ্ধ সাবান ব্যবহার করুন।

মধু
মধু জীবাণু প্রতিরোধ করে এবং ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে। ব্রণ এবং তৈলাক্ত ত্বকের ওপর মধু মাখুন। প্রায় ১০মিনিট রেখে মুখ শুকিয়ে গেলে হালকা গরম পানি দিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে পরিষ্কার করে ফেলুন।

লেবু
তৈলাক্ত ত্বকের জন্য লেবু খুবই উপকারী। লেবুতে সাইটিক এসিড রয়েছে যা ত্বকের তৈলাক্ত ভাব নিয়ন্ত্রণ করে। এছাড়াও লেবুর এন্টি ব্যাকটেরিয়াল ক্ষমতাও রয়েছে। লেবু ও মধু একসাথে মিশিয়ে তৈলাক্ত ত্বকে ব্যবহার করলে তেলতেলে ভাব কমে যায়।

টমেটো
ত্বকে অতিরিক্ত তেল ও ত্বকের ছিদ্র গুলো ময়লা জমে বন্ধ হয়ে গেলে সেগুলো পরিষ্কার করতে টমেটো সাহায্য করে। টমেটো সাথে চিনি মিশিয়ে গালের ওপর বৃত্তাকার ভাবে মেসেজ করুন এবং পাঁচ মিনিট রেখে দিন শুকিয়ে গেলে হালকা গরম পানি দিয়ে খুব ভালোভাবে ধুয়ে ফেলুন।

হলুদ ও বেসন
হলুদ ও বেসন হল প্রাকৃতিক ফেসওয়াশ যা মুখের তেলতেলে ভাব দূর করতে সাহায্য করে এবং সেই সাথে ত্বকের দাগ দূর করে । হলুদ ও বেসন একসাথে মিশিয়ে এই পেস্ট মুখে লাগান ১০ থেকে ১৫ মিনিট রেখে শুকিয়ে গেলে ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। টক অনেকটা ফর্সা আর তেল মুক্ত হবে।

ত্বকে ছোট ছোট ব্রণ দূর করার উপায়

ত্বকে ছোট ছোট ব্রণ হলে ত্বকের স্বাভাবিক সৌন্দর্য কমে যায়। ত্বকে হওয়া ছোট ছোট ব্রণগুলো নিয়ে অনেকে হতাশায় ভোগেন। বিভিন্নভাবে চেষ্টা করে ব্রণগুলো দূর করার। কিন্তু সঠিক উপায় খোঁজ না পাওয়ায় তাদের মুখ থেকে ব্রণ দূর না হয়ে উল্টো মাঝে মধ্যে বেড়ে যায়। তাই চলুন জেনে নিন ত্বকের ছোট ছোট ব্রণদূর করার উপায়।
  • নিম পাতা মুখের ছোট ছোট ব্রণ দূর করার সবচেয়ে অন্যতম উপায়। নিম পাতা আমাদের ত্বকে থাকা বিদ্যমান ব্যাকটেরিয়া ও অন্যান্য জীবাণু দূর করে। তাই ব্রণের স্থানে নিমপাতা সাথে চন্দনগুরা মিশিয়ে প্যাক তৈরি করে মিনিট দশে রেখে ধুয়ে ফেলুন। এর ফলে অল্প সময়ের মধ্যে উপকার পাওয়া সম্ভব।
  • এলোভেরা মুখে ব্রণ কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ত্বকের ছোট ছোট ব্রণ দূর করতে এলোভেরা জেল ব্যবহার করতে পারেন। তবে অনেকের এলোভেরা তে এলার্জি থাকে ।তাই এটি ব্যবহার করার আগে পিএইচ টেস্ট করে ব্যবহার করুন।
  • কাঁচা হলুদ প্রাচীনকাল থেকেই ত্বকের বিভিন্ন সমস্যায় ব্যবহার হয়ে আসছে। ব্রণের সমস্যা দূর করতে ও কাঁচা হলুদ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। কাঁচা হলুদ বেটে ব্রণের স্থানে কিছুক্ষণ রেখে শুকানো পর্যন্ত অপেক্ষা করুন। এরপর ধুয়ে ফেলুন নিশ্চিত ভাবে অনেক উপকার পাবেন ব্রণের সমস্যা।
  • মুখের ছোট ছোট ব্রণ দূর করতে প্রচুর পরিমাণে পানি পান করুন। পানি কম পান করলে ত্বক রুক্ষ হয়ে যায় এবং ব্রণের সমস্যা দেখা দেয়। প্রতিদিন দুই থেকে তিন লিটার পানি পান করার চেষ্টা করুন এতে ধীরে ধীরে ব্রণের সমস্যা কমতে শুরু করবে।
  • ত্বককে সবসময় পরিষ্কার রাখার চেষ্টা করুন। কারণ ধুলাবালি ত্বকে ব্রণের আক্রমণ বাড়িয়ে দেয় ।তাই প্রতিবার বাইরে থেকে আসার পর ভালো ফেসওয়াশ দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন। এতে ত্বকে কোন প্রকার ধুলাবালি জমতে পারবে না।
  • নিয়ন্ত্রণ ভাবে জীবন যাপন করার চেষ্টা করুন। অতিরিক্ত তেলে ভাজা খাবার মসলাযুক্ত খাবার এবং জাঙ্ক ফুড পরিহার করুন। প্রচুর পরিমাণে ফলমূল শাকসবজি খাওয়ার অভ্যাস করুন। রাতে অতিরিক্ত জেগে না থেকে তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে যাওয়ার অভ্যাস করুন। এই অভ্যাসগুলো মুখের ছোট ছোট ব্রণ দূর করার উপায় হিসেবে খুবই কার্যকরী।

লেবু দিয়ে ব্রণ দূর করার উপায়

ব্রণ ও ব্রণের দাগ দূর করার জন্য লেবুর রস ব্যবহার করতে পারেন। লেবুর রস দিয়ে তৈরি বিভিন্ন ফেসপ্যাক ব্রণ ও ব্রণের দাগ দূর করতে সাহায্য করে। লেবুতে থাকা সাইট্রিক এসির দাগ দূর করতে সাহায্য করে পাশাপাশি ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ায়। এ প্রাকৃতিক উপাদান লেবুর রস ব্রণ ও ব্রণের দাগের ওপর সরাসরি লাগান কিছুক্ষণ রেখে ধুয়ে ফেলুন কমে যাবে ব্রণ ব্রণের দাগ।

লেবুর রস ও মধু।
মধু ও লেবুর রস একসাথে মিশিয়ে ব্রণ ও ব্রণের দাগের ওপর লাগান। কিছুক্ষণ রেখে হালকা কুসুম গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন সপ্তাহে তিন থেকে চার দিন নিয়মিত ব্যবহার করলে ব্রণ ও ব্রণের কালচে দাগ দূর হবে।
দুধ ও লেবুর রস।
সমপরিমাণ দুধ ও লেবুর রস একসাথে মিশিয়ে নিন এই মিশ্রণটি দাগের ওপর লাগিয়ে রাখুন। ৫ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন এটি ব্রনের দাগ দূর করার পাশাপাশি ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়াতে সাহায্য করে।

লেবুর রস ও কমলার রসের প্যাক।
লেবু দিয়ে ব্রণ দূর করার সবচেয়ে কার্যকরী উপায় এটি। একটি পাত্রে সমান পরিমাণে লেবুর রস ও কমলা রস নিয়ে সেটা মিক্সড করে তারপর মুখে লাগিয়ে রাখুন ১০ মিনিট পর ঠাণ্ডা পানি দিয়ে সুন্দরভাবে মুখ ধুয়ে ফেলুন। এই প্যাকটি সপ্তাহে তিন থেকে চার দিন ব্যবহার করলে ব্রণের দাগ দূর হবে পাশাপাশি ত্বক অনেক ফর্সা হবে।

চিরতরে ব্রণ ও ব্রণের দাগ দূর করার সহজ ঘরোয়া উপায়

ত্বকের উজ্জ্বলতা ও সৌন্দর্য নষ্ট করে দেয় ব্রণ। ব্রণ থেকে ব্রণের দাগ আরও বেশি অস্বস্তিকর। সাধারণত তরুণ তরুণীরায় ব্রণ এর সমস্যায় বেশি ভোগে থাকেন। ব্রণ থেকে বাঁচতে কিছু পদ্ধতি অবলম্বন করলে এর সমস্যা থেকে সমাধান পাওয়া। যায় বাজারে দামি কসমেটিক না ব্যবহার করে ঘরোয়া কিছু পদ্ধতিতে সহজে আপনার চিরতরে ব্রণ ও ব্রণের দাগ দূর করার সহজ ঘরোয়া উপায় এ কমাতে পারবেন। এতে কোন পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া ভয় থাকে না।

মুলতানি মাটি।
ত্বকে অতিরিক্ত তেলতেলে ভাবের কারণে ব্রণের সমস্যা সৃষ্টি হয়।এই ঝামেলা থেকে মুক্তি পেতে মুলতানি মাটি ও পানি দিয়ে পেস্ট করে লাগাতে পারেন। মুলতানি মাটির ত্বকের অতিরিক্ত তেল নিঃসরণ বন্ধ করে দেয়।

ডিমের সাদা অংশ।
রাতে ঘুমানোর আগে ডিমের সাদা অংশ ব্রণ আক্রান্ত স্থানে মেসেজ করে সারারাত রাখতে পারেন। এতে আপনার ত্বকের খসখসে ভাব দূর করতে সাহায্য করে। ডিমের সাদা অংশের সাথে লেবুর রস যোগ করতে পারেন। এটি আধাঘন্টা পর হালকা গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।
শসার রস।
শসার রস ত্বকের তৈলাক্ত ভাব দূর করতে খুবই কার্যকর। প্রতিদিন বাহির থেকে এসে শসা রস দিয়ে মুখ ধুতে পারেন কিংবা ফ্রিজে আইস কিউব করে ব্যবহার করতে পারেন। এতে আপনার ত্বকের ওপেন পোরসের সমস্যার সমাধান হবে।

তুলসী পাতার রস।
ব্রণের জন্য তুলসী পাতা রস খুবই কার্যকর। কারণ তুলসী পাতায় আয়ুর্বেদিক গুণ রয়েছে। শুধুমাত্র তুলসী পাতা রস ব্রণ আক্রান্ত স্থানে লাগিয়ে রেখে শুকিয়ে যাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করুন। এরপর হালকা গরম পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলতে হবে।

চন্দন কাঠের গুঁড়ো গোলাপজল ও লেবুর রস।
প্রথমে চন্দন কাঠের সাথে গোলাপজল মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করুন এরপর এতে দুই থেকে তিন ফোটা লেবুর রস মিশান। অনেকের ত্বকে গোলাপজল এ এলার্জির প্রবলেম থাকতে পারে। সে ক্ষেত্রে গোলাপ জলের পরিবর্তে মধু ব্যবহার করতে পারবেন। এই মিশ্রণটি আপনার ব্রণ ও ব্রণের দাগ দূর করতে সাহায্য করে। সপ্তাহে তিন থেকে চার দিন ব্যবহার করলে এর ভালো ফল পাওয়া যাবে।

ছেলেদের মুখে ব্রণ দূর করার উপায়

কিশোর ও কিশোরীদের ত্বকে ব্রণের সমস্যা বেশি দেখা দেয় । ব্রণ মূলত টিনএজ বা উঠতি বয়সের ত্বকের ব্রণের সমস্যা দেখা যায়। এ সময় শরীরের হরমোনের কারণে বিভিন্ন ধরনের পরিবর্তন আসে সঙ্গে ত্বকেরও পরিবর্তন হয়। হরমোনের পরিবর্তনের ফলে ব্রণের সমস্যা হয়।তবে মেয়েদের থেকে ছেলেদের ত্বকের ব্রণের তীব্রতা একটু বেশি হয়। অনেকে টিনএজ বয়স পেরিয়ে গেলেও এ সমস্যা অনেক দিন থেকে যায়।
বাহিরের ধুলাবালি ত্বকে জমে ত্বকের লোমকূপ বন্ধ করে দেয়। অতিরিক্ত তেল জাতীয় খাবার ও ভাজা পোড়া খেলে ও ব্রণের সমস্যা হয়। এছাড়া পানি কমখাওয়া, টেনশন,ঘুমকম হওয়া কারণে,ক্ষতিকারক প্রসাধনে ব্যবহারের ফলে ব্রণ হতে পারে।
ব্রণ দূর করার করণীয়
উঠতে বয়সে ব্রণ হতে পারে এই নিয়ে চিন্তিত হওয়ার কিছুই নেই। তবে ব্রণ হলে কোনভাবে হাত দেওয়া যাবে না খোচা খুচি কারণে ব্রণ থেকে ত্বকের সংক্রমণ বাড়ে।
  • ব্রণের ওপর তেল বা তেল জাতীয় প্রসাধারী ব্যবহার না করা।
  • ব্রণ যুক্ত ত্বক সেভ ব না করা উচিত। কারণ এতে সংক্রমনের ঝুঁকি বাড়তে পারে।
  • পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করতে হবে এবং ফলমূল ও শাকসবজি খেতে হবে।
  • দিনে ৫থেকে ৬ বার ঠান্ডা পানি দিয়ে মুখ ধুতে হবে এর ফলে ত্বকের তৈলাক্ত ভাব কমে যাবে এবং ধুলাবালি দূর হবে।
  • যদি তোকে ফাংগাল ব্রণ হয় তবে যেসব খাবারের ইষ্ট আছে যেমন বার্গার, পিজ্জা, পেটিস এসব খাবার থেকে বিরত থাকা।
  • চুলে সাবধানে তেল দিতে হবে যাতে সেটা মুখে না লাগে।
  • পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুম।

বরফ দিয়ে ব্রণ দূর করার উপায়

বরফ ত্বকের লালচে ভাব ও সংক্রমণ কমাতে সাহায্য করে এবং ত্বকের ব্রণের আকার ছোট করতে সাহায্য করে।একটা পাতলা কাপড়ে বরফ পেঁচিয়ে হালকা ভাবে তা ত্বকের ওপর দুই মিনিট ধরে মালিশ করুন । ৫ মিনিট পরে আবার একই কাজ করুন।তবে মনে রাখবেন, প্রতিবার বরফ ঘোষের সময় দুই মিনিটের বেশি করবেন না। এইভাবে দিনে দু-তিন বার করে বরফ ত্বকের ওপর ঘষলে তাড়াতাড়ি ব্রণ দূর হয়।

মুখে ব্রণ হলে কি খাওয়া উচিত

অনেকের মুখে ব্রণের সমস্যা আছে। জীবনযাত্রা, হরমোন দূষণ, এমন কি বংশগত ইত্যাদি কারণে দেহের বিভিন্ন স্থানে ব্রণ দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে যাদের ত্বক অতিরিক্ত তৈলাক্ত তাদের তুলনামূলক বেশি ব্রণের সমস্যায় ভোগে। ব্রণের হাত থেকে মুক্তির জন্য খাদ্য তালিকা কয়েকটি খাবার যোগ করতে পারেন যেমন-

কমলাঃ কমলা যদিও শীতকালীন ফল তবে এখন সারা বছরই কমলা পাওয়া যায়। ব্রণের হাত থেকে বাঁচতে প্রতিদিন একটি করে কমলা খান। কমলার রস করে খেতে পারবেন ।এর ফলে শরীর থেকে দূষিত পদার্থ বের করে দিয়ে ত্বক হয়ে উঠবে সতেজ।

বাদামঃকাজু, পেস্তা, চিনা বাদাম, আখরোট পর্যাপ্ত পরিমাণে ওমেগা থ্রি সমৃদ্ধ ফ্যাটি এসিড পাওয়া যায় ।এসব স্বাস্থ্যকর ফ্যাট শরীরকে গরম রাখে ও ত্বকে অস্বাস্থ্যকর তেল জমতে দেয় না।

গাজরঃ ভিটামিন এ ব্রণ কমাতে সাহায্য করে। এছাড়া ব্রণের সংক্রমণ তো কমেই এমনকি ব্রনের দাগ ও কমাতে পারে ভিটামিন এ । গাজরে পর্যাপ্ত পরিমাণে ভিটামিন এ পাওয়া যায় তাই নিয়মিত একটি করে গাজর খেলে এ সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।

গ্রিন টিঃ যাদের চা বা কফি খাওয়ার অভ্যাস রয়েছে তারা চা বা কফির পরিবর্তে গ্রিন টি আর অভ্যাস তৈরি করুন। কারন এতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ব্রণের সমস্যা কমাতে সাহায্য করে।এছাড়া এটি শরীরের জন্য বেশ উপকারী।

ব্রণের দাগ দূর করার ক্রিমের নাম

ব্রণ ত্বকের সুন্দর্য নষ্ট করে। এছাড়া ব্রণ চলে গেল ব্রণের দাগ থেকে যায় এমনকি ত্বকের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র গর্ত দেখা যায় ব্রণের কারণে । এজন্য বিশ্বব্যাপী কম বেশি সবার কাছেই ব্রণ একটি আতঙ্কের নাম। সেজন্য দরকার ত্বকে সঠিক যত ও নিজের স্কিন টাইপ অনুযায়ী সঠিক প্রোডাক্ট বাছাই করা। আর এজন্য আপনাকে ডাক্তারের কাছ থেকে পরামর্শ নিতে হবে এবং নিজের স্কিন টাইপ অনুযায়ী বেছে নিতে হবে সঠিক প্রোডাক্ট।চলুন তাহলে জেনে নিই ব্রণের দাগ দূর করার ক্রিমের নাম।
  • নোভাক্লিয়ার একনি ক্রিম
  • নোভাক্লিয়ার একনি ক্লিনজার
  • ওয়ান নাইট একনি প্যাচ
  • ডার্মাডিকস অ্যান্টি একনি সিরাম
  • নরম্যাকনে একনি স্পট ট্রিট্মেন্ট

সেনসিটিভ ত্বকের ব্রণ দূর করার উপায়

ব্রণ আমাদের অনেকের কাছেই খুবই বিরক্তিকর একটি সমস্যা। বিশেষ করে যাদের ত্বক সেনসিটিভ তাদের ক্ষেত্রে ব্রুণের সমস্যা আর ও গুরুতর হয়ে থাকে। সেনসিটিভ ত্বকের চিকিৎসা কিভাবে করবেন বা ত্বকের ব্রণ হলে কিভাবে এর থেকে প্রতিকার পাবেন এই নিয়ে প্রশ্নের শেষ নেই । তাই জেনে নিন কিভাবে সেনসিটিভ ত্বকের চিরতরে ব্রণ ও ব্রণের দাগ দূর করার সহজ ঘরোয়া উপায় সম্পর্কে।

যাদের ত্বক খুব সেনসিটিভ তাদের ত্বকের ধুলাবালি বা ময়লা জাতীয় কোন জিনিসের সংস্পর্শে আসলে ত্বক লালচে হয়ে যায়। তাই সেনসিটিভ ত্বক যাদের আছে তাদের একটু বেশি বাড়তি সচেতন হওয়া উচিত।

আপেল ও মধুর প্যাক

যারা ঘরোয়া ভাবে ব্রন দূর করতে চান। তারা সব থেকে কার্যকরী উপাদান আপেল ও মধুর প্যাক ব্যবহার করতে পারেন। আপেল ও মধুর প্যাক ব্যবহার করার মাধ্যমে আপনার ত্বকের ব্রণ ফুসকুড়ি ও লালচে ভাব বিভিন্ন ধরনের সমস্যা থেকে মুক্তি পাবেন।প্রথমে আপেলের পেস্ট তৈরি করতে হবে এরপর এর সাথে তিন থেকে চার চামচ মধু মেশাতে হবে।
মিশ্রণটি সুন্দরভাবে ব্রণের স্থানে লাগিয়ে রাখুন এবং অপেক্ষা করুন এরপর মিশ্রণটি শুকিয়ে গেলে মুখ ভালোভাবে পরিষ্কার করুন এবং ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। ভালো ফলাফল পেতে সপ্তাহে পাঁচ থেকে ছয় দিন প্যাকটি ব্যবহার করতে পারেন।

শসার রস।

ব্রণ দূর করতে শসা রস একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। যাদের ত্বক অতিরিক্ত তৈলাক্ত তারা মুখে নিয়মিত শসা রস ব্যবহার করতে পারেন শসার রস মুখের তৈলাক্ত ভাব দূর করতে সাহায্য করে ।তাই আপনার মুখ পরিষ্কার রাখতে শসার রস ব্যবহার করতে পারেন।কারণ মুখ সবসময় পরিষ্কার থাকলে ব্রণ হওয়ার সম্ভাবনা অনেকটা কমে যায়।

তুলসী পাতার রস

যারা ঘরে বসে অল্প সময়ে ব্রণ দূর করতে চান। তাহলে তুলসী পাতার রস ব্যবহার করতে পারেন। কারণ তুলসী পাতায় রয়েছে আয়ুর্বেদিক গুণ ।তুলসী পাতার রস ব্রণ আক্রান্ত স্থানে সুন্দর ভাবে লাগিয়ে রাখুন। এরপর যতক্ষণ পর্যন্ত না শুকিয়ে যায় অপেক্ষা করুন এরপর হালকা গরম পানি দিয়ে মুখ সুন্দর ভাবে ধুয়ে ফেলুন ।যাদের ত্বক খুব সেনসিটিভ তাদের জন্য এই উপাদানটি খুবই কার্যকরী।

পরামর্শমূলক কিছু টিপস

ব্রণ আমাদের সবার কাছে কম বেশি অস্বস্তিকর সমস্যা। ব্রণ হয়নি এমন মানুষ খুবই কম। ব্রণ মূলত বয়সন্ধিকালীন একটি সমস্যা। এছাড়া বিভিন্ন কারণে এই সমস্যা দেখা দিতে পারে। বয়স, লিঙ্গ, আবহাওয়ার পরিবর্তন, খাদ্যাভাস, ভুল প্রসাধনী ব্যবহার, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, ঘুম কম হওয়া ইত্যাদি ব্রণ হওয়ার কারণ। নখ দিয়ে খোঁচাবেন না, মুখ সবসময় পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখবেন কারণ পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন মুখে ব্রণ অনেক কম হয়। রোজ ঘুমানোর আগে এবং ঘুম থেকে ওঠার পরে ভালো মানের ফেসওয়াশ দিয়ে মুখ পরিষ্কার করুন নিয়মিত। 

আর ক্ষার যুক্ত সাবান ত্বকে লাগাবেন না। তেল মসলা ও ভাজাপোড়া খাবার এড়িয়ে চলুন। পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুমান, বেশি বেশি পানি পান করুন, দিনে কমপক্ষে দুই থেকে তিন লিটার পানি পান করুন এবং ফলমূল ও শাক সবজি খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন।প্রয়োজনে আপনার ত্বকের চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে চলতে পারেন ।আপনার সুস্বাস্থ্য ত্বক চুল আরো সুন্দর থাকুক এ প্রত্যাশা করি।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url